আন-নিসা · 41/176
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আন-নিসা
فَكَيْفَ إِذَا جِئْنَا مِن كُلِّ أُمَّةٍ بِشَهِيدٍ وَجِئْنَا بِكَ عَلَىٰ هَٰؤُلَاءِ شَهِيدًا ۝٤١
Fakaifa izaa ji`naa min kulli ummatim bishaheedinw wa ji`naabika `alaa haaa`ulaaa `i Shaheedan
📖 বাংলা অর্থ
আর তখন কি অবস্থা দাঁড়াবে, যখন আমি ডেকে আনব প্রতিটি উম্মতের মধ্য থেকে অবস্থা বর্ণনাকারী এবং আপনাকে ডাকব তাদের উপর অবস্থা বর্ণনাকারীরূপে।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • فَكَيْفَ – তাহলে কেমন হবে / কী অবস্থা হবে?
  • شَهِيدٍ – সাক্ষী (প্রত্যেক উম্মতের নবী)
  • عَلَىٰ هَٰؤُلَاءِ – এই সকলের উপর (অর্থাৎ আপনার উম্মতের উপর)

তাফসীর:

হে রাসূল! আপনি কি কল্পনা করতে পারেন, কিয়ামতের দিন কাফির ও পাপীদের অবস্থা কী হবে? সেদিন আমি প্রত্যেক উম্মত থেকে তাদের নবীকে সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত করব—যে নবী তাদের কাছে আল্লাহর বাণী পৌঁছে দিয়েছিলেন এবং তারা কীভাবে সাড়া দিয়েছিল, তা তিনি সাক্ষ্য দেবেন। আর হে মুহাম্মাদ! আমি আপনাকেও সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত করব আপনার উম্মতের উপর—যে আপনি তাদের কাছে আল্লাহর পূর্ণাঙ্গ দ্বীন পৌঁছে দিয়েছেন, তাদেরকে সৎপথ দেখিয়েছেন এবং কুপথ থেকে সতর্ক করেছেন। তখন সেই সাক্ষ্যগুলোর সামনে অপরাধীরা কোনো অজুহাত দেখাতে পারবে না। তাদের জন্য থাকবে শুধু লজ্জা, আফসোস এবং কঠিন শাস্তির ভয়। এই আয়াতটি কাফির ও মুনাফিকদের জন্য ভয়াবহ সতর্কবাণী, আর মুমিনদের জন্য সান্ত্বনা যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) তাদের পক্ষে সাক্ষ্য দেবেন।

শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. কিয়ামতের দিন প্রত্যেক নবী নিজ নিজ উম্মতের সাক্ষী হবেন। তাই আমাদের উচিত এমন জীবন গড়া, যাতে রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদের সম্পর্কে ভালো সাক্ষ্য দিতে পারেন।
  2. এই আয়াত প্রমাণ করে যে, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর উম্মতের প্রতি বিশেষ দায়িত্ব ও মর্যাদা রয়েছে। তিনি আমাদের জন্য রহমত, পথপ্রদর্শক এবং কিয়ামতের দিন সাক্ষী হবেন—এটি অত্যন্ত সম্মানের বিষয়।
  3. যে ব্যক্তি রাসূলের (সা.) শিক্ষা অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করে, সে কিয়ামতের দিন তার সাক্ষ্যের মাধ্যমে সম্মানিত হবে। আর যে ব্যক্তি তার শিক্ষা অমান্য করবে, তার জন্য সাক্ষ্যটি হবে আফসোসের কারণ।
  4. দুনিয়ার জীবনে আমরা যত গোপন পাপই করি না কেন, কিয়ামতের দিন নবীগণের সাক্ষ্যের মাধ্যমে সবকিছু প্রকাশ হয়ে যাবে। তাই আমাদের উচিত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আদেশ মেনে চলা এবং পাপ থেকে দূরে থাকা।
  5. এই আয়াত আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, ইসলামের দায়িত্ব শুধু নিজে ভালো হওয়া নয়, বরং অন্যদেরকেও সৎপথে আহ্বান করা, যাতে কিয়ামতের দিন আমরা রাসূলের (সা.) সাক্ষ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ জীবনযাপন করতে পারি।


📜 আয়াত 39-43 — সূরা আন-নিসা

39وَمَاذَا عَلَيْهِمْ لَوْ آمَنُوا بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَأَنفَقُوا مِمَّا رَزَقَهُمُ اللَّهُ ۚ وَكَانَ اللَّهُ بِهِمْ عَلِيمًا
আর কিই বা ক্ষতি হত তাদের যদি তারা ঈমান আনত আল্লাহর উপর কেয়ামত দিবসের উপর এবং যদি ব্যয় করত আল্লাহ প্রদত্ত রিযিক থেকে! অথচ আল্লাহ, তাদের ব্যাপারে যথার্থভাবেই অবগত।
40إِنَّ اللَّهَ لَا يَظْلِمُ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ ۖ وَإِن تَكُ حَسَنَةً يُضَاعِفْهَا وَيُؤْتِ مِن لَّدُنْهُ أَجْرًا عَظِيمًا
নিশ্চয়ই আল্লাহ কারো প্রাপ্য হক বিন্দু-বিসর্গও রাখেন না; আর যদি তা সৎকর্ম হয়, তবে তাকে দ্বিগুণ করে দেন এবং নিজের পক্ষ থেকে বিপুল সওয়াব দান করেন।
41فَكَيْفَ إِذَا جِئْنَا مِن كُلِّ أُمَّةٍ بِشَهِيدٍ وَجِئْنَا بِكَ عَلَىٰ هَٰؤُلَاءِ شَهِيدًا
আর তখন কি অবস্থা দাঁড়াবে, যখন আমি ডেকে আনব প্রতিটি উম্মতের মধ্য থেকে অবস্থা বর্ণনাকারী এবং আপনাকে ডাকব তাদের উপর অবস্থা বর্ণনাকারীরূপে।
42يَوْمَئِذٍ يَوَدُّ الَّذِينَ كَفَرُوا وَعَصَوُا الرَّسُولَ لَوْ تُسَوَّىٰ بِهِمُ الْأَرْضُ وَلَا يَكْتُمُونَ اللَّهَ حَدِيثًا
সেদিন কামনা করবে সে সমস্ত লোক, যারা কাফের হয়েছিল এবং রসূলের নাফরমানী করেছিল, যেন যমীনের সাথে মিশে যায়। কিন্তু গোপন করতে পারবে না আল্লাহর নিকট কোন বিষয়।
43يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَقْرَبُوا الصَّلَاةَ وَأَنتُمْ سُكَارَىٰ حَتَّىٰ تَعْلَمُوا مَا تَقُولُونَ وَلَا جُنُبًا إِلَّا عَابِرِي سَبِيلٍ حَتَّىٰ تَغْتَسِلُوا ۚ وَإِن كُنتُم مَّرْضَىٰ أَوْ عَلَىٰ سَفَرٍ أَوْ جَاءَ أَحَدٌ مِّنكُم مِّنَ الْغَائِطِ أَوْ لَامَسْتُمُ النِّسَاءَ فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا صَعِيدًا طَيِّبًا فَامْسَحُوا بِوُجُوهِكُمْ وَأَيْدِيكُمْ ۗ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَفُوًّا غَفُورًا
হে ঈমাণদারগণ! তোমরা যখন নেশাগ্রস্ত থাক, তখন নামাযের ধারে-কাছেও যেওনা, যতক্ষণ না বুঝতে সক্ষম হও যা কিছু তোমরা বলছ, আর (নামাযের কাছে যেও না) ফরয গোসলের আবস্থায়ও যতক্ষণ না গোসল করে নাও। কিন্তু মুসাফির অবস্থার কথা স্বতন্ত্র আর যদি তোমরা অসুস্থ হয়ে থাক কিংবা সফরে থাক অথবা তোমাদের মধ্য থেকে কেউ যদি প্রস্রাব-পায়খানা থেকে এসে থাকে কিংবা নারী গমন করে থাকে, কিন্তু পরে যদি পানিপ্রাপ্তি সম্ভব না হয়, তবে পাক-পবিত্র মাটির দ্বারা তায়াম্মুম করে নাও-তাতে মুখমন্ডল ও হাতকে ঘষে নাও। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলা ক্ষমাশীল।
আন-নিসাকুরআন সূচী
176আয়াত
মাদানীঅবতরণস্থান
41আয়াত

অনুবাদ — আন-নিসা 41

সূরা আন-নিসা আয়াত 41 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : আর তখন কি অবস্থা দাঁড়াবে, যখন আমি ডেকে আনব প্রতিটি…

সূরা আয়াত 41/176 — সূরা আন-নিসা النساء (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আন-নিসা শুনুন, সূরা আন-নিসা অনুবাদ, সূরা আন-নিসা mp3, সূরা আন-নিসা pdf. আয়াত 39–43. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Monday, September 28, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না