আন-নিসা · 65/176
অনুবাদ উচ্চারণ — আন-নিসা
فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّىٰ يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنفُسِهِمْ حَرَجًا مِّمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا ۝٦٥
Falaa wa Rabbika laa yu`minoona hattaa yuhakkimooka fe emaa shajara bainahum summa laa yajidoo fee anfusihim harajam mimmaa qadaita wa yusal limoo tasleemaa
📖 বাংলা অর্থ
অতএব, তোমার পালনকর্তার কসম, সে লোক ঈমানদার হবে না, যতক্ষণ না তাদের মধ্যে সৃষ্ট বিবাদের ব্যাপারে তোমাকে ন্যায়বিচারক বলে মনে না করে। অতঃপর তোমার মীমাংসার ব্যাপারে নিজের মনে কোন রকম সংকীর্ণতা পাবে না এবং তা হূষ্টচিত্তে কবুল করে নেবে।
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • شَجَرَ بَيْنَهُمْ – তাদের মধ্যে যে মতবিরোধ ও দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়।
  • حَرَجًا – সংকীর্ণতা, মনঃকষ্ট, অস্বস্তি বা দ্বিধা।
  • قَضَيْتَ – তুমি যে ফয়সালা বা রায় দিয়েছ।
  • يُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا – সম্পূর্ণরূপে মেনে নেওয়া, আত্মসমর্পণ করা, অন্তর ও বাহির দিয়ে অনুগত হওয়া।

তাফসীর (ব্যাখ্যা):

আল্লাহ তাআলা নিজের সম্মানিত সত্তার শপথ করে বলেছেন যে, সেই মুনাফিক বা দুর্বল ঈমানদার লোকেরা প্রকৃত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না তারা রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে তাদের মধ্যে সৃষ্টি হওয়া যেকোনো বিবাদ-বিসম্বাদের বিচারক হিসেবে মেনে নেয়। তাঁর জীবদ্দশায় তাঁর কাছে বিচার প্রার্থনা করবে এবং তাঁর ইন্তেকালের পর তাঁর সুন্নাহ ও শরিয়তের আলোকেই নিজেদের সমস্যার সমাধান খুঁজবে। এরপর তাদের অন্তরে রাসূল (সা.)-এর দেওয়া ফয়সালা সম্পর্কে কোনো প্রকার সংকীর্ণতা, অস্বস্তি বা দ্বিধা থাকবে না। বরং তারা তা পূর্ণ সন্তুষ্টচিত্তে, খুশি মনে এবং সম্পূর্ণরূপে মেনে নেবে—তাদের অন্তর ও বাহির উভয়ই তাঁর নির্দেশের কাছে আত্মসমর্পণ করবে। কারণ, রাসূল (সা.) যা কিছু বলেন, তা আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত ওহীর ভিত্তিতে। তাই তাঁর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত ও মানার যোগ্য।

শিক্ষা ও উপকারিতা:

  1. প্রকৃত ঈমানের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে যাবতীয় বিষয়ে চূড়ান্ত বিচারক হিসেবে মেনে নেওয়া। তাঁর নির্দেশের সামনে নিজের মতামত, আবেগ বা স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া ঈমানের পরিপন্থী।
  2. মুমিনের হৃদয় রাসূল (সা.)-এর সিদ্ধান্তে পূর্ণ সন্তুষ্ট থাকে; কোনো প্রকার দ্বিধা বা অস্বস্তি তার অন্তরে স্থান পায় না।
  3. ইসলাম শুধু নামাজ-রোজার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে—পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক—সব বিষয়ে কুরআন-সুন্নাহর বিধান মান্য করাই ঈমানের দাবি।
  4. এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, দ্বীনের ব্যাপারে নিজের রায় বা প্রথাগত রীতিনীতিকে বিধানের ওপর প্রাধান্য দেওয়া যাবে না। আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সিদ্ধান্তই সর্বোচ্চ।
  5. যে ব্যক্তি রাসূল (সা.)-এর বিধানকে অন্তর থেকে মেনে নেয় এবং তাতে পূর্ণ তৃপ্তি লাভ করে, তার জীবন শান্তিময় হয় এবং সে আল্লাহর কাছে সত্যিকারের মুমিন হিসেবে গণ্য হয়।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 63-67 — আন-নিসা

63أُولَٰئِكَ الَّذِينَ يَعْلَمُ اللَّهُ مَا فِي قُلُوبِهِمْ فَأَعْرِضْ عَنْهُمْ وَعِظْهُمْ وَقُل لَّهُمْ فِي أَنفُسِهِمْ قَوْلًا بَلِيغًا
এরা হলো সে সমস্ত লোক, যাদের মনের গোপন বিষয় সম্পর্কেও আল্লাহ তা’আলা অবগত। অতএব, আপনি ওদেরকে উপেক্ষা করুন এবং ওদেরকে সদুপদেশ দিয়ে এমন কোন কথা বলুন যা তাদের জন্য কল্যাণকর।
64وَمَا أَرْسَلْنَا مِن رَّسُولٍ إِلَّا لِيُطَاعَ بِإِذْنِ اللَّهِ ۚ وَلَوْ أَنَّهُمْ إِذ ظَّلَمُوا أَنفُسَهُمْ جَاءُوكَ فَاسْتَغْفَرُوا اللَّهَ وَاسْتَغْفَرَ لَهُمُ الرَّسُولُ لَوَجَدُوا اللَّهَ تَوَّابًا رَّحِيمًا
বস্তুতঃ আমি একমাত্র এই উদ্দেশ্যেই রসূল প্রেরণ করেছি, যাতে আল্লাহর নির্দেশানুযায়ী তাঁদের আদেশ-নিষেধ মান্য করা হয়। আর সেসব লোক যখন নিজেদের অনিষ্ট সাধন করেছিল, তখন যদি আপনার কাছে আসত অতঃপর আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করত এবং রসূলও যদি তাদেরকে ক্ষমা করিয়ে দিতেন। অবশ্যই তারা আল্লাহকে ক্ষমাকারী, মেহেরবানরূপে পেত।
65فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّىٰ يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنفُسِهِمْ حَرَجًا مِّمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا
অতএব, তোমার পালনকর্তার কসম, সে লোক ঈমানদার হবে না, যতক্ষণ না তাদের মধ্যে সৃষ্ট বিবাদের ব্যাপারে তোমাকে ন্যায়বিচারক বলে মনে না করে। অতঃপর তোমার মীমাংসার ব্যাপারে নিজের মনে কোন রকম সংকীর্ণতা পাবে না এবং তা হূষ্টচিত্তে কবুল করে নেবে।
66وَلَوْ أَنَّا كَتَبْنَا عَلَيْهِمْ أَنِ اقْتُلُوا أَنفُسَكُمْ أَوِ اخْرُجُوا مِن دِيَارِكُم مَّا فَعَلُوهُ إِلَّا قَلِيلٌ مِّنْهُمْ ۖ وَلَوْ أَنَّهُمْ فَعَلُوا مَا يُوعَظُونَ بِهِ لَكَانَ خَيْرًا لَّهُمْ وَأَشَدَّ تَثْبِيتًا
আর যদি আমি তাদের নির্দেশ দিতাম যে, নিজেদের প্রাণ ধ্বংস করে দাও কিংবা নিজেদের নগরী ছেড়ে বেরিয়ে যাও, তবে তারা তা করত না; অবশ্য তাদের মধ্যে অল্প কয়েকজন। যদি তারা তাই করে যা তাদের উপদেশ দেয়া হয়, তবে তা অবশ্যই তাদের জন্য উত্তম এং তাদেরকে নিজের ধর্মের উপর সুদৃঢ় রাখার জন্য তা উত্তম হবে।
67وَإِذًا لَّآتَيْنَاهُم مِّن لَّدُنَّا أَجْرًا عَظِيمًا
আর তখন অবশ্যই আমি তাদেরকে নিজের পক্ষ থেকে মহান সওয়াব দেব।
আন-নিসাকুরআন সূচী
176আয়াত
মাদানীRevelation
65আয়াত

অনুবাদ — আন-নিসা 65

সূরা আন-নিসা আয়াত 65 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : অতএব, তোমার পালনকর্তার কসম, সে লোক ঈমানদার হবে না, যতক্ষণ…

সূরা আয়াত 65/176 — আন-নিসা النساء (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আন-নিসা শুনুন, আন-নিসা অনুবাদ, আন-নিসা mp3, আন-নিসা pdf. আয়াত 63–67. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না