Wa law annaa katabnaa `alaihim aniq tulooo anfusakum awikh rujoo min diyaarikum maa fa`aloohu illaa qaleelum minhum wa law annahum fa`aloo maa yoo`azoona bihee lakaana khairal lahum wa ashadda tasbeetaa
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
আর যদি আমি তাদের নির্দেশ দিতাম যে, নিজেদের প্রাণ ধ্বংস করে দাও কিংবা নিজেদের নগরী ছেড়ে বেরিয়ে যাও, তবে তারা তা করত না; অবশ্য তাদের মধ্যে অল্প কয়েকজন। যদি তারা তাই করে যা তাদের উপদেশ দেয়া হয়, তবে তা অবশ্যই তাদের জন্য উত্তম এং তাদেরকে নিজের ধর্মের উপর সুদৃঢ় রাখার জন্য তা উত্তম হবে।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
(इस्लामी शरीयत में तो उनका ये हाल है) और अगर हम बनी इसराइल की तरह उनपर ये हुक्म जारी कर देते कि तुम अपने आपको क़त्ल कर डालो या शहर बदर हो जाओ तो उनमें से चन्द आदमियों के सिवा ये लोग तो उसको न करते और अगर ये लोग इस बात पर अमल करते जिसकी उन्हें नसीहत की जाती है तो उनके हक़ में बहुत बेहतर होता
আর যদি আমি তাদের নির্দেশ দিতাম যে, নিজেদের প্রাণ ধ্বংস করে দাও কিংবা নিজেদের নগরী ছেড়ে বেরিয়ে যাও, তবে তারা তা করত না; অবশ্য তাদের মধ্যে অল্প কয়েকজন। যদি তারা তাই করে যা তাদের উপদেশ দেয়া হয়, তবে তা অবশ্যই তাদের জন্য উত্তম এং তাদেরকে নিজের ধর্মের উপর সুদৃঢ় রাখার জন্য তা উত্তম হবে।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
কুতিবা (لِكُتِبَ) – নির্ধারিত/ফরজ করা হতো।
আকতুলূ আনফুসাকুম (أَنِ اقْتُلُوا أَنفُسَكُمْ) – তোমরা নিজেদেরকে হত্যা করো (অর্থাৎ পরস্পরকে হত্যা করো)।
আখরিজূ মিন দিয়ারিকুম (أَوِ اخْرُجُوا مِن دِيَارِكُم) – অথবা নিজেদের ঘর-বাড়ি থেকে বের হয়ে যাও।
তাছবীত (تَثْبِيتًا) – দৃঢ়তা/মজবুত করা।
তাফসির:
আল্লাহ তাআলা এ আয়াতে সেই সব লোকের কথা উল্লেখ করেছেন, যারা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি বাহ্যিকভাবে ঈমান আনে কিন্তু প্রকৃতপক্ষে মুনাফিকি করে এবং অন্যায় বিচারকদের কাছে বিবাদ নিয়ে যায়। আল্লাহ বলেন, যদি আমি তাদের ওপর ফরজ করে দিতাম যে, তোমরা নিজেদের মধ্যে একজন আরেকজনকে হত্যা করো অথবা নিজেদের ঘর-বাড়ি ছেড়ে দেশত্যাগ করো—যেমনটি বনি ইসরাঈলের ওপর নির্ধারিত ছিল—তবে তারা তা কখনো পালন করত না। তাদের মধ্যে অতি অল্প সংখ্যক লোক ছাড়া কেউই তা মানত না। অথচ আল্লাহ তাদের প্রতি অনুগ্রহ করে এই কঠিন নির্দেশ দেননি, বরং সহজ বিধান দিয়েছেন।
এরপর আল্লাহ বলেন, যদি তারা সত্যিই সেই উপদেশ ও নির্দেশ মেনে চলত, যা তাদেরকে দেওয়া হচ্ছে—অর্থাৎ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করা, তাগুতের (অন্যায় আইন-আদালতের) কাছে না যাওয়া—তাহলে তা তাদের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণকর হতো এবং তাদের ঈমানকে আরও দৃঢ় ও মজবুত করত। আনুগত্যের মাধ্যমে ঈমানের শিকড় মজবুত হয়, আর নাফরমানি দুর্বল করে দেয়।
শিক্ষা ও উপকারিতা:
আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু। তিনি এমন কোনো কঠিন বিধান দেননি যা পালন করা মানুষের পক্ষে অসম্ভব বা অত্যন্ত কষ্টকর। ইসলামের বিধানগুলো সহজ ও মানবতার উপযোগী।
যে ব্যক্তি আল্লাহর নির্দেশ ও রাসূলের শিক্ষা মেনে চলে, তার ঈমান প্রতিদিন বৃদ্ধি পায় এবং অন্তর দৃঢ় হয়। আনুগত্যের মাধ্যমে অন্তরের প্রশান্তি ও আত্মবিশ্বাস বাড়ে।
মুনাফিকি ও দ্বিমুখী আচরণের পরিণতি ভয়াবহ। যে ব্যক্তি মুখে ঈমান বলে কিন্তু কাজে মানে না, তার অবস্থান দুর্বল এবং আল্লাহর কাছে তার কোনো মূল্য নেই।
আল্লাহর নির্দেশ পালনে অল্প সংখ্যক হলেও আন্তরিক মুমিনরা সর্বদা এগিয়ে থাকে। তাদের এই দৃঢ়তা ও সাহস আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয়।
এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, ইসলামের প্রতিটি নির্দেশের মধ্যে আমাদের কল্যাণ নিহিত। আমরা যদি আল্লাহর কথা শুনি এবং মেনে চলি, তাহলে দুনিয়াতেও শান্তি পাব এবং আখিরাতেও সফল হব।
বস্তুতঃ আমি একমাত্র এই উদ্দেশ্যেই রসূল প্রেরণ করেছি, যাতে আল্লাহর নির্দেশানুযায়ী তাঁদের আদেশ-নিষেধ মান্য করা হয়। আর সেসব লোক যখন নিজেদের অনিষ্ট সাধন করেছিল, তখন যদি আপনার কাছে আসত অতঃপর আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করত এবং রসূলও যদি তাদেরকে ক্ষমা করিয়ে দিতেন। অবশ্যই তারা আল্লাহকে ক্ষমাকারী, মেহেরবানরূপে পেত।
অতএব, তোমার পালনকর্তার কসম, সে লোক ঈমানদার হবে না, যতক্ষণ না তাদের মধ্যে সৃষ্ট বিবাদের ব্যাপারে তোমাকে ন্যায়বিচারক বলে মনে না করে। অতঃপর তোমার মীমাংসার ব্যাপারে নিজের মনে কোন রকম সংকীর্ণতা পাবে না এবং তা হূষ্টচিত্তে কবুল করে নেবে।
আর যদি আমি তাদের নির্দেশ দিতাম যে, নিজেদের প্রাণ ধ্বংস করে দাও কিংবা নিজেদের নগরী ছেড়ে বেরিয়ে যাও, তবে তারা তা করত না; অবশ্য তাদের মধ্যে অল্প কয়েকজন। যদি তারা তাই করে যা তাদের উপদেশ দেয়া হয়, তবে তা অবশ্যই তাদের জন্য উত্তম এং তাদেরকে নিজের ধর্মের উপর সুদৃঢ় রাখার জন্য তা উত্তম হবে।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।