আন-নিসা · 64/176
অনুবাদ উচ্চারণ — আন-নিসা
وَمَا أَرْسَلْنَا مِن رَّسُولٍ إِلَّا لِيُطَاعَ بِإِذْنِ اللَّهِ ۚ وَلَوْ أَنَّهُمْ إِذ ظَّلَمُوا أَنفُسَهُمْ جَاءُوكَ فَاسْتَغْفَرُوا اللَّهَ وَاسْتَغْفَرَ لَهُمُ الرَّسُولُ لَوَجَدُوا اللَّهَ تَوَّابًا رَّحِيمًا ۝٦٤
Wa maa arsalnaa mir Rasoolin illaa liyutaa`a bi iznil laah; wa law annahum `iz zalamooo anfusahum jaaa`ooka fastaghfarul laaha wastaghfara lahumur Rasoolu la wajadul laaha Tawwaabar Raheemaa
📖 বাংলা অর্থ
বস্তুতঃ আমি একমাত্র এই উদ্দেশ্যেই রসূল প্রেরণ করেছি, যাতে আল্লাহর নির্দেশানুযায়ী তাঁদের আদেশ-নিষেধ মান্য করা হয়। আর সেসব লোক যখন নিজেদের অনিষ্ট সাধন করেছিল, তখন যদি আপনার কাছে আসত অতঃপর আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করত এবং রসূলও যদি তাদেরকে ক্ষমা করিয়ে দিতেন। অবশ্যই তারা আল্লাহকে ক্ষমাকারী, মেহেরবানরূপে পেত।
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • لِيُطَاعَ — যেন তাঁর আনুগত্য করা হয়।
  • بِإِذْنِ اللهِ — আল্লাহর নির্দেশ ও তাওফীকের মাধ্যমে।
  • ظَلَمُوا أَنفُسَهُمْ — নিজেদের প্রতি জুলুম করেছে (গুনাহের মাধ্যমে)।
  • فَاسْتَغْفَرُوا اللهَ — অতঃপর আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছে।
  • تَوَّابًا — অধিক তাওবা কবুলকারী।
  • رَّحِيمًا — অত্যন্ত দয়ালু।

তাফসীর:

আল্লাহ তা‘আলা বলেন, আমরা কোনো রাসূল প্রেরণ করিনি, তবে এ জন্যই যে, আল্লাহর নির্দেশ ও তাওফীকের মাধ্যমে তাঁর আনুগত্য করা হবে। অর্থাৎ রাসূলের আনুগত্যই আল্লাহর আনুগত্য; রাসূল যা আদেশ করেন তা পালন করা এবং যা নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকা প্রতিটি মুমিনের কর্তব্য। কারণ রাসূলের প্রেরণার মূল উদ্দেশ্যই হলো মানুষকে আল্লাহর বিধানের অনুগত করা।

এরপর আল্লাহ তা‘আলা সেই সব লোকদের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন, যারা নিজেদের গুনাহের মাধ্যমে নিজেদের প্রতি জুলুম করেছে — যেমন মুনাফিকি, অন্যায় বিচারপ্রার্থী হওয়া বা তাগুতের দিকে ফিরে যাওয়া। তাদেরকে বলা হচ্ছে: যদি তারা যখন নিজেদের প্রতি জুলুম করেছিল, তখন তারা আপনার কাছে (রাসূলের কাছে) আসত এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করত, আর রাসূলও তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতেন, তবে তারা আল্লাহকে অত্যন্ত তাওবা কবুলকারী ও দয়ালু হিসেবে পেত। অর্থাৎ আল্লাহ তাদের তাওবা কবুল করতেন এবং তাদের প্রতি রহমত বর্ষণ করতেন।

এখানে শিক্ষণীয় বিষয় হলো, গুনাহ করার পর দেরি না করে সাথে সাথে তাওবা করা এবং রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শাফায়াত ও দু‘আকে মাধ্যম বানানো। যদিও রাসূলের জীবদ্দশায় তাঁর কাছে গিয়ে ক্ষমা প্রার্থনার সুযোগ এখন আর নেই, তবে তাঁর সুন্নাতের অনুসরণ এবং তাঁর শাফায়াত লাভের উপায় অবলম্বন করা প্রতিটি যুগের জন্য প্রযোজ্য।

শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আনুগত্য করা প্রতিটি মুমিনের জন্য অপরিহার্য; কারণ তাঁর আনুগত্যই আল্লাহর আনুগত্য।
  2. মানুষ যখন গুনাহ করে, তখন সে মূলত নিজেরই ক্ষতি করে — নিজের প্রতি জুলুম করে। কিন্তু আল্লাহর দরজা সর্বদা খোলা; তিনি তাওবা কবুল করতে প্রস্তুত।
  3. তাওবার জন্য বিলম্ব করা উচিত নয়। গুনাহ হওয়ার সাথে সাথে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং রাসূলের উসিলা ও সুন্নাতের অনুসরণ করা — এটাই মুমিনের কর্তব্য।
  4. আল্লাহ অত্যন্ত দয়ালু ও ক্ষমাশীল। বান্দা আন্তরিকভাবে তাওবা করলে তিনি তা কবুল করেন এবং তাঁর রহমত দিয়ে বান্দাকে নতুন জীবন দান করেন। এতে বান্দার মনে আশা ও আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা জন্মে।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 62-66 — আন-নিসা

62فَكَيْفَ إِذَا أَصَابَتْهُم مُّصِيبَةٌ بِمَا قَدَّمَتْ أَيْدِيهِمْ ثُمَّ جَاءُوكَ يَحْلِفُونَ بِاللَّهِ إِنْ أَرَدْنَا إِلَّا إِحْسَانًا وَتَوْفِيقًا
এমতাবস্থায় যদি তাদের কৃতকর্মের দরুন বিপদ আরোপিত হয়, তবে তাতে কি হল! অতঃপর তারা আপনার কাছে আল্লাহর নামে কসম খেয়ে খেয়ে ফিরে আসবে যে, মঙ্গল ও সম্প্রীতি ছাড়া আমাদের অন্য কোন উদ্দেশ্য ছিল না।
63أُولَٰئِكَ الَّذِينَ يَعْلَمُ اللَّهُ مَا فِي قُلُوبِهِمْ فَأَعْرِضْ عَنْهُمْ وَعِظْهُمْ وَقُل لَّهُمْ فِي أَنفُسِهِمْ قَوْلًا بَلِيغًا
এরা হলো সে সমস্ত লোক, যাদের মনের গোপন বিষয় সম্পর্কেও আল্লাহ তা’আলা অবগত। অতএব, আপনি ওদেরকে উপেক্ষা করুন এবং ওদেরকে সদুপদেশ দিয়ে এমন কোন কথা বলুন যা তাদের জন্য কল্যাণকর।
64وَمَا أَرْسَلْنَا مِن رَّسُولٍ إِلَّا لِيُطَاعَ بِإِذْنِ اللَّهِ ۚ وَلَوْ أَنَّهُمْ إِذ ظَّلَمُوا أَنفُسَهُمْ جَاءُوكَ فَاسْتَغْفَرُوا اللَّهَ وَاسْتَغْفَرَ لَهُمُ الرَّسُولُ لَوَجَدُوا اللَّهَ تَوَّابًا رَّحِيمًا
বস্তুতঃ আমি একমাত্র এই উদ্দেশ্যেই রসূল প্রেরণ করেছি, যাতে আল্লাহর নির্দেশানুযায়ী তাঁদের আদেশ-নিষেধ মান্য করা হয়। আর সেসব লোক যখন নিজেদের অনিষ্ট সাধন করেছিল, তখন যদি আপনার কাছে আসত অতঃপর আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করত এবং রসূলও যদি তাদেরকে ক্ষমা করিয়ে দিতেন। অবশ্যই তারা আল্লাহকে ক্ষমাকারী, মেহেরবানরূপে পেত।
65فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّىٰ يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنفُسِهِمْ حَرَجًا مِّمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا
অতএব, তোমার পালনকর্তার কসম, সে লোক ঈমানদার হবে না, যতক্ষণ না তাদের মধ্যে সৃষ্ট বিবাদের ব্যাপারে তোমাকে ন্যায়বিচারক বলে মনে না করে। অতঃপর তোমার মীমাংসার ব্যাপারে নিজের মনে কোন রকম সংকীর্ণতা পাবে না এবং তা হূষ্টচিত্তে কবুল করে নেবে।
66وَلَوْ أَنَّا كَتَبْنَا عَلَيْهِمْ أَنِ اقْتُلُوا أَنفُسَكُمْ أَوِ اخْرُجُوا مِن دِيَارِكُم مَّا فَعَلُوهُ إِلَّا قَلِيلٌ مِّنْهُمْ ۖ وَلَوْ أَنَّهُمْ فَعَلُوا مَا يُوعَظُونَ بِهِ لَكَانَ خَيْرًا لَّهُمْ وَأَشَدَّ تَثْبِيتًا
আর যদি আমি তাদের নির্দেশ দিতাম যে, নিজেদের প্রাণ ধ্বংস করে দাও কিংবা নিজেদের নগরী ছেড়ে বেরিয়ে যাও, তবে তারা তা করত না; অবশ্য তাদের মধ্যে অল্প কয়েকজন। যদি তারা তাই করে যা তাদের উপদেশ দেয়া হয়, তবে তা অবশ্যই তাদের জন্য উত্তম এং তাদেরকে নিজের ধর্মের উপর সুদৃঢ় রাখার জন্য তা উত্তম হবে।
আন-নিসাকুরআন সূচী
176আয়াত
মাদানীRevelation
64আয়াত

অনুবাদ — আন-নিসা 64

সূরা আন-নিসা আয়াত 64 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : বস্তুতঃ আমি একমাত্র এই উদ্দেশ্যেই রসূল প্রেরণ করেছি, যাতে আল্লাহর…

সূরা আয়াত 64/176 — আন-নিসা النساء (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আন-নিসা শুনুন, আন-নিসা অনুবাদ, আন-নিসা mp3, আন-নিসা pdf. আয়াত 62–66. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না