Wa laqad makkannaahum feemaaa im makkannaakum feehi waj`alnaa lahum sam`anw wa absaaranw wa af`idatan famaaa aghnaa `anhum samu`uhum wa laaa absaaruhum wa laaa af`idatuhum min shai`in iz kaanoo yajhadoona bi Aayaatil laahi wa haaqa bihim maa kaanoo bihee yastahzi`oon
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
আমি তাদেরকে এমন বিষয়ে ক্ষমতা দিয়েছিলাম, যে বিষয়ে তোমাদেরকে ক্ষমতা দেইনি। আমি তাদের দিয়েছিলাম, কর্ণ, চক্ষু ও হৃদয়, কিন্তু তাদের কর্ণ, চক্ষু ও হৃদয় তাদের কোন কাজে আসল না, যখন তারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করল এবং তাদেরকে সেই শাস্তি গ্রাস করে নিল, যা নিয়ে তারা ঠাট্টা বিদ্রুপ করত।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
और हमने उनको ऐसे कामों में मक़दूर दिये थे जिनमें तुम्हें (कुछ भी) मक़दूर नहीं दिया और उन्हें कान और ऑंख और दिल (सब कुछ दिए थे) तो चूँकि वह लोग ख़ुदा की आयतों से इन्कार करने लगे तो न उनके कान ही कुछ काम आए और न उनकी ऑंखें और न उनके दिल और जिस (अज़ाब) की ये लोग हँसी उड़ाया करते थे उसने उनको हर तरफ से घेर लिया
مَكَّنَّاهُمْ – আমরা তাদেরকে শক্তি-সামর্থ্য ও ক্ষমতা দান করেছিলাম।
إِن مَّكَّنَّاكُمْ – যাতে আমরা তোমাদেরকে ক্ষমতা দান করিনি (অর্থাৎ, আমরা তাদেরকে তোমাদের চেয়েও বেশি ক্ষমতা দিয়েছিলাম)।
أَفْئِدَةً – অন্তরসমূহ (বোঝার ও চিন্তার শক্তি)।
يَجْحَدُونَ – অস্বীকার করত, প্রত্যাখ্যান করত।
حَاقَ – পরিবেষ্টন করল, নেমে এলো।
তাফসীর:
আল্লাহ তাআলা এ আয়াতে কুরাইশ কাফিরদের সতর্ক করে বলছেন যে, আমি ‘আদ জাতিকে দুনিয়ায় এমন শক্তি, সামর্থ্য ও ক্ষমতা দান করেছিলাম, যা তোমাদেরকে দিইনি। তাদের দেহ ছিল সুগঠিত ও শক্তিশালী, জীবন ছিল দীর্ঘ, ধন-সম্পদ ছিল প্রচুর, আর আমি তাদেরকে কান, চোখ ও অন্তরও দিয়েছিলাম—যাতে তারা শুনতে, দেখতে ও বুঝতে পারত। কিন্তু তারা এই সব নিয়ামত ব্যবহার করেছিল আল্লাহর অবাধ্যতায় এবং তাঁর নিদর্শনসমূহ অস্বীকার করতে। ফলে যখন তাদের কাছে সত্য এসে পৌঁছাল, তখন তাদের কান, চোখ ও অন্তর তাদের কোনো কাজে আসেনি—আল্লাহর আযাব থেকে তাদেরকে বাঁচাতে পারেনি। কারণ তারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে মিথ্যা বলত এবং সেগুলো নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করত। পরিশেষে সেই আযাবই তাদের উপর নেমে এলো, যা তারা ঠাট্টা করত এবং দ্রুত কামনা করত। এতে কুরাইশদের জন্য রয়েছে কঠিন ভীতি প্রদর্শন ও সতর্কবাণী যে, যদি তারা নিজেদের অবস্থা পরিবর্তন না করে, তবে তাদের উপরও অনুরূপ আযাব নেমে আসবে।
শিক্ষা ও উপদেশ:
দুনিয়ার শক্তি, সম্পদ ও সামর্থ্য কাউকে আল্লাহর আযাব থেকে রক্ষা করতে পারে না। বরং এসব নিয়ামত যারা আল্লাহর অবাধ্যতায় ব্যবহার করে, তাদের জন্য তা শাস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
আল্লাহর নিদর্শন ও আয়াতসমূহকে অস্বীকার করা এবং সেগুলো নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করা অত্যন্ত মারাত্মক অপরাধ, যা মানুষের সর্বনাশ ডেকে আনে।
যে ব্যক্তি আল্লাহর দেওয়া জ্ঞান, বুদ্ধি, শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তিকে সত্য গ্রহণের পরিবর্তে অস্বীকার ও প্রত্যাখ্যানে ব্যবহার করে, তার এসব নিয়ামত কিয়ামতের দিন তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে এবং কোনো উপকারে আসবে না।
আল্লাহর শাস্তি দেরিতে আসতে পারে, কিন্তু এটি অবশ্যম্ভাবী। যারা ধর্মীয় বিষয় নিয়ে ঠাট্টা করে, তাদের জন্য রয়েছে অপেক্ষমাণ যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।
ইতিহাসের শিক্ষা গ্রহণ করা প্রত্যেক মুমিনের কর্তব্য। পূর্ববর্তী জাতিদের পরিণাম থেকে আমাদের উচিত সতর্ক হওয়া এবং আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে চলা।
আমি তাদেরকে এমন বিষয়ে ক্ষমতা দিয়েছিলাম, যে বিষয়ে তোমাদেরকে ক্ষমতা দেইনি। আমি তাদের দিয়েছিলাম, কর্ণ, চক্ষু ও হৃদয়, কিন্তু তাদের কর্ণ, চক্ষু ও হৃদয় তাদের কোন কাজে আসল না, যখন তারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করল এবং তাদেরকে সেই শাস্তি গ্রাস করে নিল, যা নিয়ে তারা ঠাট্টা বিদ্রুপ করত।
(অতঃপর) তারা যখন শাস্তিকে মেঘরূপে তাদের উপত্যকা অভিমুখী দেখল, তখন বলল, এ তো মেঘ, আমাদেরকে বৃষ্টি দেবে। বরং এটা সেই বস্তু, যা তোমরা তাড়াতাড়ি চেয়েছিলে। এটা বায়ু এতে রয়েছে মর্মন্তুদ শাস্তি।
তার পালনকর্তার আদেশে সে সব কিছুকে ধ্বংস করে দেবে। অতঃপর তারা ভোর বেলায় এমন হয়ে গেল যে, তাদের বসতিগুলো ছাড়া কিছুই দৃষ্টিগোচর হল না। আমি অপরাধী সম্প্রদায়কে এমনিভাবে শাস্তি দিয়ে থাকি।
আমি তাদেরকে এমন বিষয়ে ক্ষমতা দিয়েছিলাম, যে বিষয়ে তোমাদেরকে ক্ষমতা দেইনি। আমি তাদের দিয়েছিলাম, কর্ণ, চক্ষু ও হৃদয়, কিন্তু তাদের কর্ণ, চক্ষু ও হৃদয় তাদের কোন কাজে আসল না, যখন তারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করল এবং তাদেরকে সেই শাস্তি গ্রাস করে নিল, যা নিয়ে তারা ঠাট্টা বিদ্রুপ করত।
অতঃপর আল্লাহর পরিবর্তে তারা যাদেরকে সান্নিধ্য লাভের জন্যে উপাস্যরূপে গ্রহণ করেছিল, তারা তাদেরকে সাহায্য করল না কেন? বরং তারা তাদের কাছ থেকে উধাও হয়ে গেল। এটা ছিল তাদের মিথ্যা ও মনগড়া বিষয়।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।