তার পালনকর্তার আদেশে সে সব কিছুকে ধ্বংস করে দেবে। অতঃপর তারা ভোর বেলায় এমন হয়ে গেল যে, তাদের বসতিগুলো ছাড়া কিছুই দৃষ্টিগোচর হল না। আমি অপরাধী সম্প্রদায়কে এমনিভাবে শাস্তি দিয়ে থাকি।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
जो अपने परवरदिगार के हुक्म से हर चीज़ को तबाह व बरबाद कर देगी तो वह ऐसे (तबाह) हुए कि उनके घरों के सिवा कुछ नज़र ही नहीं आता था हम गुनाहगारों की यूँ ही सज़ा किया करते हैं
তার পালনকর্তার আদেশে সে সব কিছুকে ধ্বংস করে দেবে। অতঃপর তারা ভোর বেলায় এমন হয়ে গেল যে, তাদের বসতিগুলো ছাড়া কিছুই দৃষ্টিগোচর হল না। আমি অপরাধী সম্প্রদায়কে এমনিভাবে শাস্তি দিয়ে থাকি।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
تُدَمِّرُ – ধ্বংস করে, বিধ্বস্ত করে।
بِأَمْرِ رَبِّهَا – তার প্রতিপালকের আদেশে।
مَسَاكِنُهُمْ – তাদের বসতিগুলো, ঘরবাড়ি।
الْمُجْرِمِينَ – অপরাধী সম্প্রদায়, যারা সীমালঙ্ঘনকারী।
তাফসীর (ব্যাখ্যা):
এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা ‘আদ জাতির ভয়াবহ পরিণতির কথা বর্ণনা করেছেন। যখন তাদের উপর শাস্তির বায়ু (ঝড়) প্রেরণ করা হয়েছিল, তখন সেই বায়ু আল্লাহর আদেশে এমনভাবে প্রবল ও ভয়ংকর ছিল যে, এটি প্রতিটি জিনিসকেই ধ্বংস করে দিচ্ছিল—যা কিছু তার সামনে আসছিল, তা-ই চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাচ্ছিল। তবে এটি কেবল তাদের জন্যই ধ্বংস ডেকে এনেছিল যাদের ধ্বংসের জন্য আল্লাহ তা নির্ধারণ করেছিলেন; নবী হুদ (আঃ) এবং তার সাথে বিশ্বাসী মুমিনগণ এর ক্ষতি থেকে নিরাপদ ছিলেন।
ফলে ‘আদ জাতি সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল। তাদের এত বড় শক্তি, প্রাসাদ ও সম্পদ থাকা সত্ত্বেও তারা এমনভাবে ধ্বংস হলো যে, তাদের অস্তিত্বের কোনো চিহ্ন অবশিষ্ট রইল না—শুধু তাদের ফাঁকা ঘরবাড়িগুলো পড়ে রইল, যা তাদের পূর্বের জীবন ও শক্তির সাক্ষ্য বহন করছিল, কিন্তু সেগুলোও জনশূন্য হয়ে গেল। তাদের কেউ আর বেঁচে রইল না যে সেই ঘরে বসবাস করবে।
আল্লাহ তাআলা বলেন, এভাবেই আমি অপরাধী সম্প্রদায়কে শাস্তি দিয়ে থাকি। যারা সত্যকে অস্বীকার করে, নবী-রাসূলদের অবজ্ঞা করে এবং নিজেদের দুষ্কর্মে অটল থাকে, তাদের জন্য এটাই আমার রীতি—তারা ধ্বংসের সম্মুখীন হয়।
শিক্ষা ও উপদেশ:
আল্লাহর শাস্তি অত্যন্ত ভয়াবহ। যখন তিনি কোনো জাতিকে ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত নেন, তখন তাদের শক্তি, সম্পদ বা সামর্থ্য কোনো কিছুই তাদের রক্ষা করতে পারে না।
নবী ও মুমিনগণ আল্লাহর বিশেষ রহমতে বিপদ থেকে নিরাপদ থাকেন। তাই সত্যের পথে অবিচল থাকা এবং নবী-রাসূলদের অনুসরণ করাই মুক্তির একমাত্র পথ।
দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী জীবন ও সম্পদের উপর নির্ভর না করে আল্লাহর আনুগত্য করা উচিত, কারণ এই সব কিছুই একদিন ধ্বংস হয়ে যাবে।
আল্লাহর শাস্তি থেকে বাঁচতে হলে অপরাধ ও সীমালঙ্ঘন থেকে বিরত থাকতে হবে এবং তাওবা করে সৎকর্মের পথে ফিরে আসতে হবে।
এই আয়াত আমাদের সতর্ক করে যে, ইতিহাসের শিক্ষা গ্রহণ করা জরুরি; পূর্ববর্তী জাতিদের পরিণাম থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের জীবন সংশোধন করা উচিত।
(অতঃপর) তারা যখন শাস্তিকে মেঘরূপে তাদের উপত্যকা অভিমুখী দেখল, তখন বলল, এ তো মেঘ, আমাদেরকে বৃষ্টি দেবে। বরং এটা সেই বস্তু, যা তোমরা তাড়াতাড়ি চেয়েছিলে। এটা বায়ু এতে রয়েছে মর্মন্তুদ শাস্তি।
তার পালনকর্তার আদেশে সে সব কিছুকে ধ্বংস করে দেবে। অতঃপর তারা ভোর বেলায় এমন হয়ে গেল যে, তাদের বসতিগুলো ছাড়া কিছুই দৃষ্টিগোচর হল না। আমি অপরাধী সম্প্রদায়কে এমনিভাবে শাস্তি দিয়ে থাকি।
আমি তাদেরকে এমন বিষয়ে ক্ষমতা দিয়েছিলাম, যে বিষয়ে তোমাদেরকে ক্ষমতা দেইনি। আমি তাদের দিয়েছিলাম, কর্ণ, চক্ষু ও হৃদয়, কিন্তু তাদের কর্ণ, চক্ষু ও হৃদয় তাদের কোন কাজে আসল না, যখন তারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করল এবং তাদেরকে সেই শাস্তি গ্রাস করে নিল, যা নিয়ে তারা ঠাট্টা বিদ্রুপ করত।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।