আল-ফাতহ · 12/29
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আল-ফাতহ
بَلْ ظَنَنتُمْ أَن لَّن يَنقَلِبَ الرَّسُولُ وَالْمُؤْمِنُونَ إِلَىٰ أَهْلِيهِمْ أَبَدًا وَزُيِّنَ ذَٰلِكَ فِي قُلُوبِكُمْ وَظَنَنتُمْ ظَنَّ السَّوْءِ وَكُنتُمْ قَوْمًا بُورًا ۝١٢
Bal zanantum al lany yanqalibar Rasoolu walmu`minoona ilaaa ahleehim abadanw wa zuyyina zaalika fee quloobikum wa zanantum zannnas saw`i wa kuntum qawmam booraa
📖 বাংলা অর্থ
বরং তোমরা ধারণ করেছিলে যে, রসূল ও মুমিনগণ তাদের বাড়ী-ঘরে কিছুতেই ফিরে আসতে পারবে না এবং এই ধারণা তোমাদের জন্যে খুবই সুখকর ছিল। তোমরা মন্দ ধারণার বশবর্তী হয়েছিলে। তোমরা ছিলে ধ্বংসমুখী এক সম্প্রদায়।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • بُورًا: ধ্বংসপ্রাপ্ত, সর্বনাশা, কোনো কল্যাণের উপযোগী নয় এমন সম্প্রদায়।
  • ظَنَّ السَّوْءِ: মন্দ ধারণা, অর্থাৎ আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সম্পর্কে খারাপ ধারণা পোষণ করা।
  • زُيِّنَ: শোভনীয় করে দেখানো হয়েছে (শয়তানের পক্ষ থেকে)।

তafsir (ব্যাখ্যা):

তোমাদের এই ওজর-আপত্তি যে, “আমরা ধন-সম্পদ ও পরিবার-পরিজনের দেখাশোনায় ব্যস্ত ছিলাম”—এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও অগ্রহণযোগ্য। প্রকৃত ব্যাপার হলো, তোমরা মনে করেছিলে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং তাঁর সাথে থাকা মুমিনগণ যুদ্ধে গিয়ে ধ্বংস হয়ে যাবে এবং আর কখনো নিজেদের পরিবার-পরিজনের কাছে ফিরে আসবে না। এই মন্দ ধারণাটিকে শয়তান তোমাদের অন্তরে সুশোভিত করে দিয়েছিল, ফলে তা তোমাদের মনে গভীরভাবে প্রোথিত হয়ে গিয়েছিল। তোমরা আল্লাহ সম্পর্কেও মন্দ ধারণা পোষণ করেছিলে যে, তিনি তাঁর নবীকে শত্রুদের ওপর বিজয় দান করবেন না এবং দ্বীনকে সমুন্নত করবেন না। বস্তুত তোমরা ছিলে ধ্বংসপ্রাপ্ত এক সম্প্রদায়—যাদের মধ্যে কোনো কল্যাণের আশা করা যায় না, কারণ তোমাদের অন্তর মন্দ ধারণা ও কুফরিতে পরিপূর্ণ হয়ে গিয়েছিল।

শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. মুমিনের কর্তব্য হলো আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি সুধারণা পোষণ করা। আল্লাহর ওপর মন্দ ধারণা করা ধ্বংসের কারণ এবং এটি কুফরির পর্যায়ে পৌঁছে দিতে পারে।
  2. শয়তান মানুষের অন্তরে মন্দ চিন্তা ও ভুল ধারণা সুশোভিত করে দেখায়। তাই মুমিনকে সর্বদা শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে সতর্ক থাকতে হবে এবং আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করতে হবে।
  3. আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় অবশ্যই আসবে, যদিও তা দেরিতে হয়। হতাশ হয়ে আল্লাহর ওপর থেকে আস্থা হারানো উচিত নয়।
  4. যারা সত্যের পথে বাধা সৃষ্টি করে এবং মিথ্যা অজুহাত দেয়, তাদের পরিণতি ধ্বংস। পক্ষান্তরে, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে কাজ করে, তারা সফল হয়।
  5. এই আয়াত থেকে শিক্ষণীয় যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নির্দেশ পালনে গাফলতি করা এবং নিজের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া—এমন আচরণ মুমিনের বৈশিষ্ট্য নয়।


📜 আয়াত 10-14 — সূরা আল-ফাতহ

10إِنَّ الَّذِينَ يُبَايِعُونَكَ إِنَّمَا يُبَايِعُونَ اللَّهَ يَدُ اللَّهِ فَوْقَ أَيْدِيهِمْ ۚ فَمَن نَّكَثَ فَإِنَّمَا يَنكُثُ عَلَىٰ نَفْسِهِ ۖ وَمَنْ أَوْفَىٰ بِمَا عَاهَدَ عَلَيْهُ اللَّهَ فَسَيُؤْتِيهِ أَجْرًا عَظِيمًا
যারা আপনার কাছে আনুগত্যের শপথ করে, তারা তো আল্লাহর কাছে আনুগত্যের শপথ করে। আল্লাহর হাত তাদের হাতের উপর রয়েছে। অতএব, যে শপথ ভঙ্গ করে; অতি অবশ্যই সে তা নিজের ক্ষতির জন্যেই করে এবং যে আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ করে; আল্লাহ সত্ত্বরই তাকে মহাপুরস্কার দান করবেন।
11سَيَقُولُ لَكَ الْمُخَلَّفُونَ مِنَ الْأَعْرَابِ شَغَلَتْنَا أَمْوَالُنَا وَأَهْلُونَا فَاسْتَغْفِرْ لَنَا ۚ يَقُولُونَ بِأَلْسِنَتِهِم مَّا لَيْسَ فِي قُلُوبِهِمْ ۚ قُلْ فَمَن يَمْلِكُ لَكُم مِّنَ اللَّهِ شَيْئًا إِنْ أَرَادَ بِكُمْ ضَرًّا أَوْ أَرَادَ بِكُمْ نَفْعًا ۚ بَلْ كَانَ اللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرًا
মরুবাসীদের মধ্যে যারা গৃহে বসে রয়েছে, তারা আপনাকে বলবেঃ আমরা আমাদের ধন-সম্পদ ও পরিবার-পরিজনের কাজে ব্যস্ত ছিলাম। অতএব, আমাদের পাপ মার্জনা করান। তারা মুখে এমন কথা বলবে, যা তাদের অন্তরে নেই। বলুনঃ আল্লাহ তোমাদের ক্ষতি অথবা উপকার সাধনের ইচ্ছা করলে কে তাকে বিরত রাখতে পারে? বরং তোমরা যা কর, আল্লাহ সে বিষয় পরিপূর্ণ জ্ঞাত।
12بَلْ ظَنَنتُمْ أَن لَّن يَنقَلِبَ الرَّسُولُ وَالْمُؤْمِنُونَ إِلَىٰ أَهْلِيهِمْ أَبَدًا وَزُيِّنَ ذَٰلِكَ فِي قُلُوبِكُمْ وَظَنَنتُمْ ظَنَّ السَّوْءِ وَكُنتُمْ قَوْمًا بُورًا
বরং তোমরা ধারণ করেছিলে যে, রসূল ও মুমিনগণ তাদের বাড়ী-ঘরে কিছুতেই ফিরে আসতে পারবে না এবং এই ধারণা তোমাদের জন্যে খুবই সুখকর ছিল। তোমরা মন্দ ধারণার বশবর্তী হয়েছিলে। তোমরা ছিলে ধ্বংসমুখী এক সম্প্রদায়।
13وَمَن لَّمْ يُؤْمِن بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ فَإِنَّا أَعْتَدْنَا لِلْكَافِرِينَ سَعِيرًا
যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলে বিশ্বাস করে না, আমি সেসব কাফেরের জন্যে জ্বলন্ত অগ্নি প্রস্তুত রেখেছি।
14وَلِلَّهِ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۚ يَغْفِرُ لِمَن يَشَاءُ وَيُعَذِّبُ مَن يَشَاءُ ۚ وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَّحِيمًا
নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের রাজত্ব আল্লাহরই। তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন এবং যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেন। তিনি ক্ষমাশীল, পরম মেহেরবান।
আল-ফাতহকুরআন সূচী
29আয়াত
মাদানীঅবতরণস্থান
12আয়াত

অনুবাদ — আল-ফাতহ 12

সূরা আল-ফাতহ আয়াত 12 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : বরং তোমরা ধারণ করেছিলে যে, রসূল ও মুমিনগণ তাদের বাড়ী-ঘরে…

সূরা আয়াত 12/29 — সূরা আল-ফাতহ الفتح (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আল-ফাতহ শুনুন, সূরা আল-ফাতহ অনুবাদ, সূরা আল-ফাতহ mp3, সূরা আল-ফাতহ pdf. আয়াত 10–14. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Wednesday, September 30, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না