Latajidanna ashad dan naasi `adaawatal lillazeena aamanul Yahooda wallazeena ashrakoo wa latajidanna aqrabahum mawaddatal lil lazeena aamanul lazeena qaalooo innaa Nasaaraa; zaalika bi anna mminhum qiseeseena wa ruhbaananw wa annahum laa yastakbiroon
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
আপনি সব মানুষের চাইতে মুসলমানদের অধিক শত্রু ইহুদী ও মুশরেকদেরকে পাবেন এবং আপনি সবার চাইতে মুসলমানদের সাথে বন্ধুত্বে অধিক নিকটবর্তী তাদেরকে পাবেন, যারা নিজেদেরকে খ্রীষ্টান বলে। এর কারণ এই যে, খ্রীষ্টানদের মধ্যে আলেম রয়েছে, দরবেশ রয়েছে এবং তারা অহঙ্কার করে না।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
(ऐ रसूल) ईमान लाने वालों का दुशमन सबसे बढ़के यहूदियों और मुशरिकों को पाओगे और ईमानदारों का दोस्ती में सबसे बढ़के क़रीब उन लोगों को पाओगे जो अपने को नसारा कहते हैं क्योंकि इन (नसारा) में से यक़ीनी बहुत से आमिल और आबिद हैं और इस सबब से (भी) कि ये लोग हरगिज़ शेख़ी नहीं करते
আপনি সব মানুষের চাইতে মুসলমানদের অধিক শত্রু ইহুদী ও মুশরেকদেরকে পাবেন এবং আপনি সবার চাইতে মুসলমানদের সাথে বন্ধুত্বে অধিক নিকটবর্তী তাদেরকে পাবেন, যারা নিজেদেরকে খ্রীষ্টান বলে। এর কারণ এই যে, খ্রীষ্টানদের মধ্যে আলেম রয়েছে, দরবেশ রয়েছে এবং তারা অহঙ্কার করে না।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
ক্বিসসীন (قسيسين): ধর্মীয় জ্ঞানী ও পণ্ডিত ব্যক্তিরা।
রুহবান (رهبان): যারা দুনিয়া ত্যাগ করে ইবাদতে নিমগ্ন থাকে, সংসারবিরাগী উপাসক।
তাফসির:
হে নবী! আপনি নিশ্চয়ই দেখতে পাবেন যে, ঈমানদারদের প্রতি সবচেয়ে তীব্র শত্রুতা পোষণকারী মানুষ হলো ইয়াহুদী এবং মুশরিকরা (যারা আল্লাহর সাথে অন্য কিছু শরীক করে)। ইয়াহুদীদের শত্রুতার কারণ হলো তাদের হঠকারিতা, হিংসা, অহংকার এবং সত্যকে অস্বীকার করা। আর মুশরিকরা (বিশেষত আরবের মূর্তিপূজারীরা) তাওহীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়।
অপরদিকে, আপনি দেখতে পাবেন যে, ঈমানদারদের সাথে সবচেয়ে বেশি বন্ধুত্ব ও ভালোবাসা পোষণ করে তারা, যারা নিজেদেরকে 'নাসারা' (খ্রিস্টান) বলে দাবি করে। তবে এর অর্থ এই নয় যে, সকল খ্রিস্টানই এমন; বরং তাদের মধ্যে যারা সত্যের অনুসন্ধানী এবং নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি ঈমান এনেছিল (যেমন নাজাশী ও তার সঙ্গীরা) তারাই এই প্রশংসার যোগ্য। তাদের এই ঘনিষ্ঠতার কারণ হলো, তাদের মধ্যে এমন ধর্মীয় পণ্ডিত (ক্বিসসীন) আছেন যারা জ্ঞান রাখেন এবং এমন সংসারবিরাগী উপাসক (রুহবান) আছেন যারা ইবাদতে রত থাকেন। তাছাড়া তারা অহংকার করে না; বরং বিনয়ী হয়ে সত্য গ্রহণ করে। অহংকারী ব্যক্তির হৃদয়ে কল্যাণ পৌঁছায় না, কিন্তু বিনয়ী ব্যক্তি সত্যের আলো গ্রহণে সক্ষম হয়।
শিক্ষা ও উপকারিতা:
শত্রুতা বা বন্ধুত্বের ভিত্তি ঈমান ও সত্য গ্রহণের উপর হওয়া উচিত, কেবল গোত্র বা ধর্মীয় পরিচয়ের উপর নয়।
অহংকার ও হঠকারিতা মানুষকে সত্য থেকে দূরে রাখে এবং শত্রুতার কারণ হয়, আর বিনয় ও নম্রতা হৃদয়কে সত্য গ্রহণের জন্য উন্মুক্ত করে।
জ্ঞানী ও ইবাদতগুজার ব্যক্তিরা সমাজে কল্যাণের কারণ হয় এবং তাদের প্রভাব মানুষের মাঝে ভালোবাসা সৃষ্টি করে।
ইসলাম কখনো সকল মানুষকে এক চোখে দেখে না; বরং যারা সত্যের প্রতি সহানুভূতিশীল ও ন্যায়পরায়ণ, তাদের সাথে সম্পর্ক স্থাপনকে উৎসাহিত করে।
এই আয়াত মুসলিমদেরকে শত্রু-বন্ধু চেনার একটি বাস্তব মানদণ্ড দেয় এবং ধৈর্য ও প্রজ্ঞার সাথে দাওয়াত দেওয়ার শিক্ষা দেয়।
আপনি তাদের অনেককে দেখবেন, কাফেরদের সাথে বন্ধুত্ব করে। তারা নিজেদের জন্য যা পাঠিয়েছে তা অবশ্যই মন্দ। তা এই যে, তাদের প্রতি আল্লাহ ক্রোধান্বিত হয়েছেন এবং তারা চিরকাল আযাবে থাকবে।
যদি তারা আল্লাহর প্রতি ও রসূলের প্রতি অবতীর্ণ বিষয়ের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করত, তবে কাফেরদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করত না। কিন্তু তাদের মধ্যে অনেকেই দুরাচার।
আপনি সব মানুষের চাইতে মুসলমানদের অধিক শত্রু ইহুদী ও মুশরেকদেরকে পাবেন এবং আপনি সবার চাইতে মুসলমানদের সাথে বন্ধুত্বে অধিক নিকটবর্তী তাদেরকে পাবেন, যারা নিজেদেরকে খ্রীষ্টান বলে। এর কারণ এই যে, খ্রীষ্টানদের মধ্যে আলেম রয়েছে, দরবেশ রয়েছে এবং তারা অহঙ্কার করে না।
আর তারা রসূলের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে, তা যখন শুনে, তখন আপনি তাদের চোখ অশ্রু সজল দেখতে পাবেন; এ কারণে যে, তারা সত্যকে চিনে নিয়েছে। তারা বলেঃ হে আমাদের প্রতি পালক, আমরা মুসলমান হয়ে গেলাম। অতএব, আমাদেরকেও মান্যকারীদের তালিকাভুক্ত করে নিন।
আমাদের কি ওযর থাকতে পারে যে, আমরা আল্লাহর প্রতি এবং যে সত্য আমাদের কাছে এসেছে, তৎপ্রতি বিশ্বাস স্থাপন করব না এবং এ আশা করবো না যে, আমদের প্রতিপালক আমাদেরকে সৎ লোকদের সাথে প্রবিষ্ট করবেন?
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।