আর তারা রসূলের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে, তা যখন শুনে, তখন আপনি তাদের চোখ অশ্রু সজল দেখতে পাবেন; এ কারণে যে, তারা সত্যকে চিনে নিয়েছে। তারা বলেঃ হে আমাদের প্রতি পালক, আমরা মুসলমান হয়ে গেলাম। অতএব, আমাদেরকেও মান্যকারীদের তালিকাভুক্ত করে নিন।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
और तू देखता है कि जब यह लोग (इस कुरान) को सुनते हैं जो हमारे रसूल पर नाज़िल किया गया है तो उनकी ऑंखों से बेसाख्ता (छलक कर) ऑंसू जारी हो जातें है क्योंकि उन्होंने (अम्र) हक़ को पहचान लिया है (और) अर्ज़ करते हैं कि ऐ मेरे पालने वाले हम तो ईमान ला चुके तो (रसूल की) तसदीक़ करने वालों के साथ हमें भी लिख रख
আর তারা রসূলের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে, তা যখন শুনে, তখন আপনি তাদের চোখ অশ্রু সজল দেখতে পাবেন; এ কারণে যে, তারা সত্যকে চিনে নিয়েছে। তারা বলেঃ হে আমাদের প্রতি পালক, আমরা মুসলমান হয়ে গেলাম। অতএব, আমাদেরকেও মান্যকারীদের তালিকাভুক্ত করে নিন।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
تَفِيضُ مِنَ الدَّمْعِ: চোখ থেকে অশ্রু প্রবাহিত হওয়া, অঝোরে কান্না আসা।
الشَّاهِدِينَ: সাক্ষ্যদাতাগণ। এখানে উদ্দেশ্য হলো উম্মতে মুহাম্মাদী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), যারা কিয়ামতের দিন অন্যান্য উম্মতের উপর সাক্ষী হবে।
তাফসীর:
এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা সেই সম্মানিত ব্যক্তিদের প্রশংসা করেছেন, যারা সত্যের প্রতি উদার হৃদয়ের অধিকারী। প্রসঙ্গটি হলো নবী করিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে নাজাশী (হাবশার রাজা)-এর প্রতিনিধিদলের আগমন। তারা যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উপর অবতীর্ণ কুরআনের আয়াত শ্রবণ করল, তখন তাদের চোখ অশ্রুতে ভরে গেল। কারণ তারা পূর্ব থেকেই সত্য সম্পর্কে অবগত ছিল—তারা জানত যে, হযরত ঈসা (আলাইহিস সালাম) যে সত্যের সাথে এসেছিলেন, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-ও সেই একই সত্য নিয়ে এসেছেন। তাই কুরআনের বাণী তাদের হৃদয়ে গভীর প্রভাব ফেলে এবং তারা সত্যকে চিনতে পেরে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ে।
তারা তখন দোয়া করতে থাকে: "হে আমাদের রব! আমরা ঈমান আনলাম আপনার উপর অবতীর্ণ কিতাবের প্রতি এবং আপনার রাসূলের প্রতি। সুতরাং আপনি আমাদেরকে সাক্ষ্যদাতাদের (উম্মতে মুহাম্মাদীর) সাথে লিখে নিন।" অর্থাৎ তারা কিয়ামতের দিন সেই সৌভাগ্যবান উম্মতের অন্তর্ভুক্ত হতে চেয়েছিল, যারা অন্যান্য জাতির উপর সাক্ষী হবে এবং যাদেরকে আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ মর্যাদা দান করা হবে। এটি ছিল তাদের ঈমানের আন্তরিকতা ও সত্য গ্রহণের প্রমাণ।
শিক্ষা ও উপদেশ:
সত্যের প্রতি উদার হৃদয় থাকা এবং তা শুনে আবেগপ্রবণ হওয়া ঈমানের আলামত। কুরআন শুনে চোখে অশ্রু আসা একটি মহান নেয়ামত।
পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী হিসেবে কুরআন এসেছে। যারা পূর্বের কিতাবের প্রতি সঠিকভাবে বিশ্বাস করত, তারা কুরআনের সত্যতা সহজেই উপলব্ধি করতে পেরেছিল।
ঈমান আনার পর আল্লাহর কাছে দোয়া করা এবং সৎকর্মশীল ও সম্মানিত বান্দাদের সাথে থাকার আকাঙ্ক্ষা করা মুমিনের বৈশিষ্ট্য।
ইসলাম একটি বিশ্বজনীন ও শান্তির ধর্ম। যারা আন্তরিকভাবে সত্য অন্বেষণ করে, আল্লাহ তাদের অন্তরকে ইসলামের জন্য উন্মুক্ত করে দেন এবং তাদেরকে সম্মানিত করেন।
যদি তারা আল্লাহর প্রতি ও রসূলের প্রতি অবতীর্ণ বিষয়ের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করত, তবে কাফেরদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করত না। কিন্তু তাদের মধ্যে অনেকেই দুরাচার।
আপনি সব মানুষের চাইতে মুসলমানদের অধিক শত্রু ইহুদী ও মুশরেকদেরকে পাবেন এবং আপনি সবার চাইতে মুসলমানদের সাথে বন্ধুত্বে অধিক নিকটবর্তী তাদেরকে পাবেন, যারা নিজেদেরকে খ্রীষ্টান বলে। এর কারণ এই যে, খ্রীষ্টানদের মধ্যে আলেম রয়েছে, দরবেশ রয়েছে এবং তারা অহঙ্কার করে না।
আর তারা রসূলের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে, তা যখন শুনে, তখন আপনি তাদের চোখ অশ্রু সজল দেখতে পাবেন; এ কারণে যে, তারা সত্যকে চিনে নিয়েছে। তারা বলেঃ হে আমাদের প্রতি পালক, আমরা মুসলমান হয়ে গেলাম। অতএব, আমাদেরকেও মান্যকারীদের তালিকাভুক্ত করে নিন।
আমাদের কি ওযর থাকতে পারে যে, আমরা আল্লাহর প্রতি এবং যে সত্য আমাদের কাছে এসেছে, তৎপ্রতি বিশ্বাস স্থাপন করব না এবং এ আশা করবো না যে, আমদের প্রতিপালক আমাদেরকে সৎ লোকদের সাথে প্রবিষ্ট করবেন?
অতঃপর তাদেরকে আল্লাহ এ উক্তির প্রতিদান স্বরূপ এমন উদ্যান দিবেন যার তলদেশে নির্ঝরিণীসমূহ প্রবাহিত হবে। তারা তন্মধ্যে চিরকাল অবস্থান করবে। এটাই সৎকর্মশীলদের প্রতিদান।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।