আল-আনআম · 44/165
অনুবাদ উচ্চারণ — আল-আনআম
فَلَمَّا نَسُوا مَا ذُكِّرُوا بِهِ فَتَحْنَا عَلَيْهِمْ أَبْوَابَ كُلِّ شَيْءٍ حَتَّىٰ إِذَا فَرِحُوا بِمَا أُوتُوا أَخَذْنَاهُم بَغْتَةً فَإِذَا هُم مُّبْلِسُونَ ۝٤٤
Falammaa nasoo maa zukkiroo bihee fatahnaa `alaihim abwaaba kulli shai`in hattaaa izaa farihoo bimaaa ootooo akhaznaahum baghtatan fa izaa hum mmublisoon
📖 বাংলা অর্থ
অতঃপর তারা যখন ঐ উপদেশ ভুলে গেল, যা তাদেরকে দেয়া হয়েছিল, তখন আমি তাদের সামনে সব কিছুর দ্বার উম্মুক্ত করে দিলাম। এমনকি, যখন তাদেরকে প্রদত্ত বিষয়াদির জন্যে তারা খুব গর্বিত হয়ে পড়ল, তখন আমি অকস্মাৎ তাদেরকে পাকড়াও করলাম। তখন তারা নিরাশ হয়ে গেল।

🎧 শুনুন
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • নাসূ = তারা ভুলে গেল / পরিত্যাগ করল।
  • যুক্কিরূ বিহী = যে উপদেশ ও সতর্কবাণী দ্বারা তাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
  • ফাতাহনা = আমরা খুলে দিলাম।
  • বাগতাহ = হঠাৎ করে / অতর্কিতভাবে।
  • মুবলিসূন = হতাশ ও নিরাশ, সমস্ত আশা-ভরসা থেকে ছিন্ন।

তাফসির (ব্যাখ্যা):

যখন তারা আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত উপদেশ ও সতর্কবাণীকে সম্পূর্ণরূপে অগ্রাহ্য করল এবং তা মেনে চলা ছেড়ে দিল, তখন তাদের প্রতি আল্লাহর পক্ষ থেকে শাস্তি হিসেবে বিপদ-মুসিবতের বদলে দুনিয়ার প্রাচুর্য ও স্বাচ্ছন্দ্যের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হলো। দারিদ্র্যের পর সম্পদ, রোগের পর সুস্থতা, দুঃখের পর সুখ—এমনিভাবে তাদেরকে ধীরে ধীরে প্রাচুর্য দেওয়া হলো। এটি ছিল তাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে এক ধরনের ইসতিদরাজ (ধীরে ধীরে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাওয়ার কৌশল), যাতে তারা আরও বেশি গাফেল ও অহংকারী হয়ে ওঠে।

অবশেষে যখন তারা এই নেয়ামতসমূহ পেয়ে উৎফুল্ল ও গর্বিত হলো, নিজেদের অর্জিত সম্পদ ও সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে অহংকারী হয়ে উঠল এবং তওবা করার কথা সম্পূর্ণ ভুলে গেল, তখন হঠাৎ করেই তাদেরকে শাস্তি দিয়ে ধরা হলো। এমনভাবে আঘাত করা হলো যে, তারা চিন্তা করারও সুযোগ পেল না। তখন তারা সম্পূর্ণরূপে হতাশ ও নিরাশ হয়ে গেল—প্রতিটি কল্যাণের পথ তাদের সামনে থেকে বন্ধ হয়ে গেল, কোনো আশা তাদের রইল না।

শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. আল্লাহর পক্ষ থেকে বিপদ-আপদ আসলে তা অনেক সময় রহমতের কারণ হয়, কারণ তা মানুষকে আল্লাহমুখী করে। কিন্তু নেয়ামত ও প্রাচুর্য সবসময় ভালো লক্ষণ নয়; কখনো কখনো এটি ধীরে ধীরে ধ্বংসের পূর্বাভাস হয়ে থাকে।
  2. গুনাহের ওপর অব্যাহত থাকা অবস্থায় যদি জীবিকা ও সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বৃদ্ধি পায়, তবে তা নিয়ে সন্তুষ্ট না হয়ে বরং ভয় করা উচিত। কারণ এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে অবকাশ দান, যা পরে আকস্মিক শাস্তির কারণ হতে পারে।
  3. আল্লাহর শাস্তি যখন আসে, তখন তা হঠাৎ করেই আসে। তাই প্রতিটি মুহূর্তে আল্লাহর দিকে ফিরে আসা এবং তাঁর আদেশ-নিষেধ মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি।
  4. দুনিয়ার নেয়ামত ও সম্পদে অহংকার করা এবং তা নিয়ে গর্বিত হওয়া ধ্বংসের কারণ। বরং নেয়ামত পেলে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা এবং তাঁর আনুগত্যে থাকা উচিত।
  5. এই আয়াত থেকে শিক্ষা নেওয়া যায় যে, আল্লাহর পক্ষ থেকে সতর্কবাণী ও উপদেশ আসার পরও যদি মানুষ তা অমান্য করে, তবে আল্লাহ তাদেরকে ধীরে ধীরে এমন অবস্থায় নিয়ে যান যেখান থেকে ফিরে আসার পথ থাকে না। তাই আল্লাহর সতর্কবাণীকে গুরুত্ব দেওয়া এবং সাথে সাথেই তওবা করা প্রতিটি মুমিনের কর্তব্য।


📜 আয়াত 42-46 — আল-আনআম

42وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا إِلَىٰ أُمَمٍ مِّن قَبْلِكَ فَأَخَذْنَاهُم بِالْبَأْسَاءِ وَالضَّرَّاءِ لَعَلَّهُمْ يَتَضَرَّعُونَ
আর আমি আপনার পূর্ববর্তী উম্মতদের প্রতিও পয়গম্বর প্রেরণ করেছিলাম। অতঃপর আমি তাদেরকে অভাব-অনটন ও রোগ-ব্যধি দ্বারা পাকড়াও করেছিলাম যাতে তারা কাকুতি মিনতি করে।
43فَلَوْلَا إِذْ جَاءَهُم بَأْسُنَا تَضَرَّعُوا وَلَٰكِن قَسَتْ قُلُوبُهُمْ وَزَيَّنَ لَهُمُ الشَّيْطَانُ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ
অতঃপর তাদের কাছে যখন আমার আযাব আসল, তখন কেন কাকুতি-মিনতি করল না ? বস্তুতঃ তাদের অন্তর কঠোর হয়ে গেল এবং শয়তান তাদের কাছে সুশোভিত করে দেখাল, যে কাজ তারা করছিল।
44فَلَمَّا نَسُوا مَا ذُكِّرُوا بِهِ فَتَحْنَا عَلَيْهِمْ أَبْوَابَ كُلِّ شَيْءٍ حَتَّىٰ إِذَا فَرِحُوا بِمَا أُوتُوا أَخَذْنَاهُم بَغْتَةً فَإِذَا هُم مُّبْلِسُونَ
অতঃপর তারা যখন ঐ উপদেশ ভুলে গেল, যা তাদেরকে দেয়া হয়েছিল, তখন আমি তাদের সামনে সব কিছুর দ্বার উম্মুক্ত করে দিলাম। এমনকি, যখন তাদেরকে প্রদত্ত বিষয়াদির জন্যে তারা খুব গর্বিত হয়ে পড়ল, তখন আমি অকস্মাৎ তাদেরকে পাকড়াও করলাম। তখন তারা নিরাশ হয়ে গেল।
45فَقُطِعَ دَابِرُ الْقَوْمِ الَّذِينَ ظَلَمُوا ۚ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ
অতঃপর জালেমদের মূল শিকড় কর্তিত হল। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই জন্যে, যিনি বিশ্বজগতের পালনকর্তা।
46قُلْ أَرَأَيْتُمْ إِنْ أَخَذَ اللَّهُ سَمْعَكُمْ وَأَبْصَارَكُمْ وَخَتَمَ عَلَىٰ قُلُوبِكُم مَّنْ إِلَٰهٌ غَيْرُ اللَّهِ يَأْتِيكُم بِهِ ۗ انظُرْ كَيْفَ نُصَرِّفُ الْآيَاتِ ثُمَّ هُمْ يَصْدِفُونَ
আপনি বলুনঃ বল তো দেখি, যদি আল্লাহ তোমাদের কান ও চোখ নিয়ে যান এবং তোমাদের অন্তরে মোহর এঁটে দেন, তবে এবং তোমাদের আল্লাহ ব্যতীত এমন উপাস্য কে আছে, যে তোমাদেরকে এগুলো এনে দেবে? দেখ, আমি কিভাবে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে নিদর্শনাবলী বর্ণনা করি। তথাপি তারা বিমুখ হচ্ছে।
আল-আনআমকুরআন সূচী
165আয়াত
মাক্কীRevelation
44আয়াত

অনুবাদ — আল-আনআম 44

সূরা আল-আনআম আয়াত 44 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : অতঃপর তারা যখন ঐ উপদেশ ভুলে গেল, যা তাদেরকে দেয়া…

সূরা আয়াত 44/165 — আল-আনআম الأنعام (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আল-আনআম শুনুন, আল-আনআম অনুবাদ, আল-আনআম mp3, আল-আনআম pdf. আয়াত 42–46. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না