তারপর যখন তারা এগিয়ে যেতে লাগল সে কর্মে যা থেকে তাদের বারণ করা হয়েছিল, তখন আমি নির্দেশ দিলাম যে, তোমরা লাঞ্ছিত বানর হয়ে যাও।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
फिर जिस बात की उन्हें मुमानिअत (रोक) की गई थी जब उन लोगों ने उसमें सरकशी की तो हमने हुक्म दिया कि तुम ज़लील और ख़्वार (धुत्कारे) हुए बन्दर बन जाओ (और वह बन गए)
তারপর যখন তারা এগিয়ে যেতে লাগল সে কর্মে যা থেকে তাদের বারণ করা হয়েছিল, তখন আমি নির্দেশ দিলাম যে, তোমরা লাঞ্ছিত বানর হয়ে যাও।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
عَتَوْا — عتو অর্থ বিদ্রোহ করা, সীমালঙ্ঘন করা, অবাধ্যতা ও দাম্ভিকতা প্রদর্শন করা।
خَاسِئِينَ — خاسئ শব্দের অর্থ অপদস্থ, লাঞ্ছিত, অভিশপ্ত ও সকল প্রকার কল্যাণ থেকে দূরীকৃত।
তাফসীর:
অতঃপর যখন তারা সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিদ্রোহী হয়ে গেল—অর্থাৎ যে মাছ শিকার করা থেকে তাদেরকে বিরত থাকতে বলা হয়েছিল, তারা সেই নির্দেশ অমান্য করে সীমালঙ্ঘন করল এবং দাম্ভিকতা ও একগুঁয়েমির সাথে অবাধ্যতা প্রদর্শন করল, উপদেশ গ্রহণ করল না—তখন আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে বললেন, “তোমরা অপদস্থ, লাঞ্ছিত ও অভিশপ্ত বানর হয়ে যাও।” আল্লাহর এই আদেশ মাত্রই তারা বানরে রূপান্তরিত হয়ে গেল। এটি ছিল তাদের অবাধ্যতা ও সীমালঙ্ঘনের কারণে আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি কঠোর শাস্তি ও নিদর্শন, যাতে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য শিক্ষা রয়েছে। আল্লাহর ইচ্ছা হলে কোনো কিছু হতে দেরি হয় না; তিনি যখন কোনো কিছু চান, তখন শুধু বলেন “হয়ে যাও”, তখনই তা হয়ে যায়।
শিক্ষা ও উপদেশ:
আল্লাহর নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করা অত্যন্ত মারাত্মক অপরাধ। যে ব্যক্তি আল্লাহর স্পষ্ট নির্দেশ অমান্য করে, তার পরিণাম ভয়াবহ হতে পারে।
আল্লাহর শাস্তি অত্যন্ত দ্রুত ও কার্যকর। তিনি যখন কোনো জাতিকে শাস্তি দিতে চান, তখন কোনো শক্তিই তা ঠেকাতে পারে না।
অবাধ্যতা ও দাম্ভিকতা মানুষের মর্যাদা ধ্বংস করে দেয়। যারা আল্লাহর আদেশের সামনে মাথা নত করে না, তারা মানবীয় মর্যাদা থেকেও বঞ্চিত হয়।
এই ঘটনা থেকে আমাদের শিক্ষা নেওয়া উচিত যে, আল্লাহর আদেশ পালনে বিলম্ব বা অমান্য করা উচিত নয়, কারণ পরিণাম অত্যন্ত কঠিন হতে পারে।
ইসলামের দৃষ্টিতে আল্লাহর আনুগত্যই মানুষের মর্যাদা ও সম্মানের উৎস। যে আল্লাহর অনুগত, আল্লাহ তাকে সম্মানিত করেন; আর যে অবাধ্য, সে অপমানিত হয়।
আর যখন তাদের মধ্যে থেকে এক সম্প্রদায় বলল, কেন সে লোকদের সদুপদেশ দিচ্ছেন, যাদেরকে আল্লাহ ধ্বংস করে দিতে চান কিংবা আযাব দিতে চান কঠিন আযাব? সে বললঃ তোমাদের পালনকর্তার সামনে দোষ ফুরাবার জন্য এবং এজন্য যেন তারা ভীত হয়।
অতঃপর যখন তারা সেসব বিষয় ভুলে গেল, যা তাদেরকে বোঝানো হয়েছিল, তখন আমি সেসব লোককে মুক্তি দান করলাম যারা মন্দ কাজ থেকে বারণ করত। আর পাকড়াও করলাম, গোনাহগারদেরকে নিকৃষ্ট আযাবের মাধ্যমে তাদের না-ফরমানীর দরুন।
আর সে সময়ের কথা স্মরণ কর, যখন তোমার পালনকর্তা সংবাদ দিয়েছেন যে, অবশ্যই কেয়ামত দিবস পর্যন্ত ইহুদীদের উপর এমন লোক পাঠাতে থাকবেন যারা তাদেরকে নিকৃষ্ট শাস্তি দান করতে থাকবে। নিঃসন্দেহে তোমার পালনকর্তা শীঘ্র শাস্তি দানকারী এবং তিনি ক্ষমাশীল, দয়ালু।
আর আমি তাদেরকে বিভক্ত করে দিয়েছি দেশময় বিভিন্ন শ্রেনীতে, তাদের মধ্যে কিছু রয়েছে ভাল আর কিছু রয়েছে অন্য রকম! তাছাড়া আমি তাদেরকে পরীক্ষা করেছি ভাল ও মন্দের মাধ্যমে যাতে তারা ফিরে আসে।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।