আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন। তার কোন পথপ্রদর্শক নেই। আর আল্লাহ তাদেরকে তাদের দুষ্টামীতে মত্ত অবস্তায় ছেড়ে দিয়ে রাখেন।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
يُضْلِلِ اللهُ – আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন।
فَلَا هَادِيَ لَهُ – তার জন্য কোনো পথপ্রদর্শক নেই।
طُغْيَانِهِمْ – তাদের সীমালঙ্ঘন, অবাধ্যতা ও কুফরিতে গভীর নিমগ্নতা।
يَعْمَهُونَ – তারা বিভ্রান্ত ও হতবুদ্ধি হয়ে ঘোরাফেরা করে, কোনো দিক ঠিক করতে না পেরে।
তাফসীর (ব্যাখ্যা):
আল্লাহ তাআলা এ আয়াতে ঘোষণা করেছেন যে, যাকে আল্লাহ নিজেই পথভ্রষ্ট করেন—অর্থাৎ তার অন্তর সত্য গ্রহণের অনুগ্রহ থেকে বঞ্চিত হয় এবং সে সত্যের দিশা হারিয়ে ফেলে—তার জন্য আর কোনো পথপ্রদর্শক নেই। কোনো নবী, কোনো ওলি, কোনো শিক্ষক বা কোনো উপদেশদাতাই তাকে হিদায়াতের পথে আনতে পারবে না। কারণ হিদায়াতের মালিক একমাত্র আল্লাহ। তিনি যাকে হিদায়াত দেন, কেউ তাকে পথভ্রষ্ট করতে পারে না; আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন, কেউ তাকে হিদায়াত দিতে পারে না।
এরপর আল্লাহ বলেন, তিনি এমন লোকদের তাদের সীমালঙ্ঘন ও কুফরির মধ্যে ছেড়ে দেন, যেখানে তারা হতবুদ্ধি ও বিভ্রান্ত হয়ে ঘোরাফেরা করে। তারা সত্য-মিথ্যার পার্থক্য করতে পারে না, কারণ তাদের অন্তর সত্য গ্রহণের আলো থেকে বঞ্চিত। এটি তাদের নিজেদের কুফরি ও জিদেরই পরিণতি—যখন তারা সত্য স্পষ্ট হওয়ার পরও তা মেনে নেয়নি, তখন আল্লাহ তাদের অন্তরকে সত্য থেকে দূরে সরিয়ে দেন এবং তারা নিজেদের ভ্রান্ত পথেই নিমগ্ন থাকে।
শিক্ষা ও উপদেশ:
হিদায়াত সম্পূর্ণ আল্লাহর হাতে। তাই আমাদের উচিত প্রতিটি মুহূর্তে আল্লাহর কাছে হিদায়াতের জন্য প্রার্থনা করা, যেমনটি আমরা প্রতিদিন সূরা ফাতিহায় করি—"আমাদেরকে সরল পথ দেখাও।"
সত্য স্পষ্ট হওয়ার পর তা মেনে নিতে দেরি করা বা অহংকার করা অত্যন্ত বিপজ্জনক। কারণ এতে আল্লাহর পক্ষ থেকে অন্তর শক্ত হয়ে যেতে পারে এবং হিদায়াতের দরজা চিরতরে বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
এই আয়াত আমাদের সতর্ক করে যে, কারো হিদায়াতের ব্যাপারে আমাদের নিরাশ হওয়া উচিত নয়, আবার কারো পথভ্রষ্টতা দেখে আমাদের অহংকারও করা উচিত নয়। কারণ সবকিছু আল্লাহর ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল।
যারা সত্যের দাওয়াত দেয়, তাদের কর্তব্য হলো প্রচার করা, উপদেশ দেওয়া; কিন্তু ফলাফল আল্লাহর হাতে। কাউকে জোর করে হিদায়াত দেওয়া কারো সাধ্য নয়।
আল্লাহর রহমত অপরিসীম। তিনি যতক্ষণ পর্যন্ত কাউকে পথভ্রষ্ট করেন না, ততক্ষণ প্রতিটি মানুষ হিদায়াত লাভের সুযোগ পায়। তাই আমাদের উচিত আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ না হয়ে বারবার তওবা ও ইস্তিগফারের মাধ্যমে তাঁর দিকে ফিরে আসা।
তারা কি প্রত্যক্ষ করেনি আকাশ ও পৃথিবীর রাজ্য সম্পর্কে এবং যা কিছু সৃষ্টি করেছেন আল্লাহ তা’আলা বস্তু সামগ্রী থেকে এবং এ ব্যাপারে যে, তাদের সাথে কৃত ওয়াদার সময় নিকটবর্তী হয়ে এসেছে? বস্তুতঃ এরপর কিসের উপর ঈমান আনবে?
আপনাকে জিজ্ঞেস করে, কেয়ামত কখন অনুষ্ঠিত হবে? বলে দিন এর খবর তো আমার পালনকর্তার কাছেই রয়েছে। তিনিই তা অনাবৃত করে দেখাবেন নির্ধারিত সময়ে। আসমান ও যমীনের জন্য সেটি অতি কঠিন বিষয়। যখন তা তোমাদের উপর আসবে অজান্তেই এসে যাবে। আপনাকে জিজ্ঞেস করতে থাকে, যেন আপনি তার অনুসন্ধানে লেগে আছেন। বলে দিন, এর সংবাদ বিশেষ করে আল্লাহর নিকটই রয়েছে। কিন্তু তা অধিকাংশ লোকই উপলব্ধি করে না।
আপনি বলে দিন, আমি আমার নিজের কল্যাণ সাধনের এবং অকল্যাণ সাধনের মালিক নই, কিন্তু যা আল্লাহ চান। আর আমি যদি গায়বের কথা জেনে নিতে পারতাম, তাহলে বহু মঙ্গল অর্জন করে নিতে পারতাম, ফলে আমার কোন অমঙ্গল কখনও হতে পারত না। আমি তো শুধুমাত্র একজন ভীতি প্রদর্শক ও সুসংবাদদাতা ঈমানদারদের জন্য।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।