আল-আরাফ · 185/206
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আল-আরাফ
أَوَلَمْ يَنظُرُوا فِي مَلَكُوتِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا خَلَقَ اللَّهُ مِن شَيْءٍ وَأَنْ عَسَىٰ أَن يَكُونَ قَدِ اقْتَرَبَ أَجَلُهُمْ ۖ فَبِأَيِّ حَدِيثٍ بَعْدَهُ يُؤْمِنُونَ ۝١٨٥
Awalam yanzuroo fee malakootis samaawaati wal ardi wa maa khalaqal laahu min shai`inw wa an `asaaa ai yakoona qadiqtaraba ajaluhum fabi aiyi hadeesim ba`dahoo yu`minoon
📖 বাংলা অর্থ
তারা কি প্রত্যক্ষ করেনি আকাশ ও পৃথিবীর রাজ্য সম্পর্কে এবং যা কিছু সৃষ্টি করেছেন আল্লাহ তা’আলা বস্তু সামগ্রী থেকে এবং এ ব্যাপারে যে, তাদের সাথে কৃত ওয়াদার সময় নিকটবর্তী হয়ে এসেছে? বস্তুতঃ এরপর কিসের উপর ঈমান আনবে?

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • মালাকূত — রাজত্ব, আধিপত্য ও সার্বভৌমত্ব।
  • আজাল — নির্ধারিত সময়, মৃত্যুর সময়।
  • ইকতারাবা — নিকটবর্তী হয়েছে।
  • হাদীস — বাণী, কথা, গ্রন্থ।

তাফসীর:

এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা সেই সমস্ত লোকদের প্রতি তিরস্কার ও ভর্ৎসনা করেছেন যারা তাঁর আয়াত ও নিদর্শনসমূহ অস্বীকার করে। আল্লাহ বলছেন: তারা কি চিন্তা-গবেষণার দৃষ্টিতে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর রাজত্বের দিকে তাকায় না? তারা কি ভাবে না যে, এই বিশাল মহাবিশ্ব — এর গ্রহ-নক্ষত্র, সূর্য-চন্দ্র, পাহাড়-সমুদ্র, বৃক্ষ-প্রাণী — সবকিছু কীভাবে সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হচ্ছে? কে এত সুন্দরভাবে এগুলো সৃষ্টি করেছেন এবং কে এগুলোর নিয়ন্ত্রণ করছেন? তারা কি আল্লাহর সৃষ্ট প্রতিটি জিনিসের প্রতি লক্ষ্য করে না? যদি তারা প্রকৃত দৃষ্টিতে দেখত, তবে তারা অবশ্যই এতে স্রষ্টার অসীম ক্ষমতা, জ্ঞান ও প্রজ্ঞার নিদর্শন দেখতে পেত।

আল্লাহ আরও বলছেন: তারা কি এ বিষয়েও ভাবে না যে, তাদের মৃত্যুর সময় হয়তো অত্যন্ত নিকটবর্তী হয়ে গেছে? তারা তো জানে না, তাদের আয়ু আর কতটুকু বাকি আছে। যদি তারা কুফরী অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে, তবে তাদের পরিণাম হবে জাহান্নামের ভয়াবহ শাস্তি। তাই তাদের উচিত মৃত্যুর আগেই তওবা করা এবং ঈমান আনা।

এরপর আল্লাহ প্রশ্ন করছেন: যদি তারা এই কুরআনের ওপর ঈমান না আনে, তবে এরপর আর কোন বাণীতে তারা ঈমান আনবে? কুরআনের পর তো আর কোনো আসমানী কিতাব নেই এবং মুহাম্মাদ (সা.)-এর পর আর কোনো নবী নেই। কুরআনই শেষ ও পরিপূর্ণ গ্রন্থ। যে ব্যক্তি এই গ্রন্থকে অস্বীকার করল, তার জন্য আর কোনো পথ খোলা নেই। সুতরাং কুরআনের পর অন্য কোনো গ্রন্থ বা বাণীকে বিশ্বাস করার অর্থই হয় না।

শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. মহাবিশ্বের প্রতিটি জিনিস আল্লাহর অস্তিত্ব, একত্ব ও ক্ষমতার প্রমাণ বহন করে। চিন্তাশীল ব্যক্তির জন্য সৃষ্টিজগৎ একটি উন্মুক্ত কিতাব।
  2. মৃত্যু অপ্রত্যাশিতভাবে আসতে পারে। তাই আমাদের উচিত প্রতিটি মুহূর্তকে কাজে লাগিয়ে আল্লাহর আনুগত্য করা এবং গুনাহ থেকে তওবা করা।
  3. কুরআনই সর্বশেষ ও চূড়ান্ত আসমানী গ্রন্থ। এতে মানবজাতির জন্য পরিপূর্ণ জীবনবিধান রয়েছে। যে কুরআনকে গ্রহণ করল না, সে চিরন্তন সত্য থেকে বঞ্চিত রইল।
  4. আল্লাহর সৃষ্টি সম্পর্কে চিন্তা-গবেষণা করা একটি ইবাদত। এটি মানুষের ঈমানকে মজবুত করে এবং আল্লাহর ভয় ও ভালোবাসা বৃদ্ধি করে।
  5. দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী এবং আখিরাতই চিরস্থায়ী। যারা কুরআনের নির্দেশনা মেনে চলে, তারা দুনিয়া ও আখিরাত উভয় স্থানে সফলকাম হবে।


📜 আয়াত 183-187 — সূরা আল-আরাফ

183وَأُمْلِي لَهُمْ ۚ إِنَّ كَيْدِي مَتِينٌ
বস্তুতঃ আমি তাদেরকে ঢিল দিয়ে থাকি। নিঃসন্দেহে আমার কৌশল সুনিপুণ।
184أَوَلَمْ يَتَفَكَّرُوا ۗ مَا بِصَاحِبِهِم مِّن جِنَّةٍ ۚ إِنْ هُوَ إِلَّا نَذِيرٌ مُّبِينٌ
তারা কি লক্ষ্য করেনি যে, তাদের সঙ্গী লোকটির মস্তিষ্কে কোন বিকৃতি নেই? তিনি তো ভীতি প্রদর্শনকারী প্রকৃষ্টভাবে।
185أَوَلَمْ يَنظُرُوا فِي مَلَكُوتِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا خَلَقَ اللَّهُ مِن شَيْءٍ وَأَنْ عَسَىٰ أَن يَكُونَ قَدِ اقْتَرَبَ أَجَلُهُمْ ۖ فَبِأَيِّ حَدِيثٍ بَعْدَهُ يُؤْمِنُونَ
তারা কি প্রত্যক্ষ করেনি আকাশ ও পৃথিবীর রাজ্য সম্পর্কে এবং যা কিছু সৃষ্টি করেছেন আল্লাহ তা’আলা বস্তু সামগ্রী থেকে এবং এ ব্যাপারে যে, তাদের সাথে কৃত ওয়াদার সময় নিকটবর্তী হয়ে এসেছে? বস্তুতঃ এরপর কিসের উপর ঈমান আনবে?
186مَن يُضْلِلِ اللَّهُ فَلَا هَادِيَ لَهُ ۚ وَيَذَرُهُمْ فِي طُغْيَانِهِمْ يَعْمَهُونَ
আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন। তার কোন পথপ্রদর্শক নেই। আর আল্লাহ তাদেরকে তাদের দুষ্টামীতে মত্ত অবস্তায় ছেড়ে দিয়ে রাখেন।
187يَسْأَلُونَكَ عَنِ السَّاعَةِ أَيَّانَ مُرْسَاهَا ۖ قُلْ إِنَّمَا عِلْمُهَا عِندَ رَبِّي ۖ لَا يُجَلِّيهَا لِوَقْتِهَا إِلَّا هُوَ ۚ ثَقُلَتْ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۚ لَا تَأْتِيكُمْ إِلَّا بَغْتَةً ۗ يَسْأَلُونَكَ كَأَنَّكَ حَفِيٌّ عَنْهَا ۖ قُلْ إِنَّمَا عِلْمُهَا عِندَ اللَّهِ وَلَٰكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ
আপনাকে জিজ্ঞেস করে, কেয়ামত কখন অনুষ্ঠিত হবে? বলে দিন এর খবর তো আমার পালনকর্তার কাছেই রয়েছে। তিনিই তা অনাবৃত করে দেখাবেন নির্ধারিত সময়ে। আসমান ও যমীনের জন্য সেটি অতি কঠিন বিষয়। যখন তা তোমাদের উপর আসবে অজান্তেই এসে যাবে। আপনাকে জিজ্ঞেস করতে থাকে, যেন আপনি তার অনুসন্ধানে লেগে আছেন। বলে দিন, এর সংবাদ বিশেষ করে আল্লাহর নিকটই রয়েছে। কিন্তু তা অধিকাংশ লোকই উপলব্ধি করে না।
আল-আরাফকুরআন সূচী
206আয়াত
মাক্কীঅবতরণস্থান
185আয়াত

অনুবাদ — আল-আরাফ 185

সূরা আল-আরাফ আয়াত 185 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : তারা কি প্রত্যক্ষ করেনি আকাশ ও পৃথিবীর রাজ্য সম্পর্কে এবং…

সূরা আয়াত 185/206 — সূরা আল-আরাফ الأعراف (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আল-আরাফ শুনুন, সূরা আল-আরাফ অনুবাদ, সূরা আল-আরাফ mp3, সূরা আল-আরাফ pdf. আয়াত 183–187. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Monday, September 28, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না