আত-তওবা · 115/129
অনুবাদ উচ্চারণ — আত-তওবা
وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُضِلَّ قَوْمًا بَعْدَ إِذْ هَدَاهُمْ حَتَّىٰ يُبَيِّنَ لَهُم مَّا يَتَّقُونَ ۚ إِنَّ اللَّهَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ ۝١١٥
Wa maa kaanal laahu liyudilla qawmam ba`da iz hadaahum hatta yubaiyina lahum maa yattaqoon; innal laaha bikulli shai`in `Aleem
📖 বাংলা অর্থ
আর আল্লাহ কোন জাতিকে হেদায়েত করার পর পথভ্রষ্ট করেন না যতক্ষণ না তাদের জন্য পরিষ্কারভাবে বলে দেন সেসব বিষয় যা থেকে তাদের বেঁচে থাকা দরকার। নিঃসন্দেহে আল্লাহ সব বিষয়ে ওয়াকেফহাল।

🎧 শুনুন
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • لِيُضِلَّ — পথভ্রষ্ট করা বা শাস্তি হিসেবে বিভ্রান্তির শিকার করা।
  • هَدَاهُمْ — তাদেরকে হেদায়েত দান করা।
  • يُبَيِّنَ — স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করা, বর্ণনা করা।
  • مَا يَتَّقُونَ — যে বিষয়গুলো থেকে বাঁচতে হবে, অর্থাৎ হারাম ও নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ।

তাফসীর:

আল্লাহ তাআলা কখনো এমন নন যে, তিনি কোনো সম্প্রদায়কে হেদায়েত দান করার পর অকারণে বা কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই তাদেরকে পথভ্রষ্ট করে দেবেন। বরং তাঁর নিয়ম হলো—তিনি মানুষের প্রতি পূর্ণ হুজ্জত (প্রমাণ) প্রতিষ্ঠা করার পরই তাদেরকে দায়িত্ব দেন। অর্থাৎ, যখন তিনি কোনো জাতিকে ইসলামের পথ দেখান, তখন তিনি তাদের কাছে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে দেন কোন জিনিসগুলো থেকে তাদের দূরে থাকতে হবে, কোন কাজগুলো হারাম, কোন পথগুলো শয়তানের দিকে নিয়ে যায়। এই বর্ণনার পরই কেউ যদি তা অমান্য করে, তবে সে নিজেই নিজের পথভ্রষ্টতা ডেকে আনে এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে এর শাস্তি পায়।

আয়াতটি প্রসঙ্গত সেই ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত করছে, যেখানে কিছু মুসলিম মৃত মুশরিক আত্মীয়দের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন। আল্লাহ তা'আলা স্পষ্ট করে দেন যে, যতক্ষণ না নিষেধাজ্ঞা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করা হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত কাউকে শাস্তি দেওয়া হয় না। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা স্পষ্ট হওয়ার পর যদি কেউ সেই কাজ করে, তবে সে আল্লাহর বিধান লঙ্ঘনের অপরাধে অপরাধী হবে।

আয়াতের শেষে আল্লাহ তা'আলা বলছেন—তিনি সবকিছু সম্পর্কে সম্যক জ্ঞাত। তিনি জানেন কে কখন কী শিখেছে, কে কতটুকু বুঝেছে এবং কার উপর হুজ্জত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাঁর জ্ঞান ও প্রজ্ঞার কারণে তিনি প্রত্যেককে তার অবস্থা অনুযায়ী সঠিক নির্দেশনা দেন এবং তারপরই হিসাব নেন।

শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. আল্লাহ অত্যন্ত ন্যায়পরায়ণ। তিনি কাউকে অকারণে শাস্তি দেন না; আগে সতর্ক করেন, পথ দেখান, তারপরই দায়িত্ব দেন।
  2. ইসলামের বিধান জানার আগে কোনো ভুল করলে আল্লাহ তা ক্ষমা করতে পারেন, কিন্তু জানার পর ইচ্ছাকৃতভাবে অমান্য করা মারাত্মক অপরাধ।
  3. আল্লাহর রহমত ও ন্যায়বিচার একসাথে বিদ্যমান। তিনি যেমন দয়ালু, তেমনি তাঁর নিয়ম-নীতি অত্যন্ত সুশৃঙ্খল।
  4. আমাদের উচিত আল্লাহর বিধান জানার চেষ্টা করা এবং যা জানা হয়েছে তা মেনে চলা, কারণ অজ্ঞতা কোনো অজুহাত হিসেবে দীর্ঘদিন টিকবে না।
  5. এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, ইসলামে জ্ঞান ও সচেতনতার গুরুত্ব অপরিসীম। আল্লাহ মানুষের উপর এমন কোনো বোঝা চাপান না যা তারা জানে না বা বুঝে না।


📜 আয়াত 113-117 — আত-তওবা

113مَا كَانَ لِلنَّبِيِّ وَالَّذِينَ آمَنُوا أَن يَسْتَغْفِرُوا لِلْمُشْرِكِينَ وَلَوْ كَانُوا أُولِي قُرْبَىٰ مِن بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّهُمْ أَصْحَابُ الْجَحِيمِ
নবী ও মুমিনের উচিত নয় মুশরেকদের মাগফেরাত কামনা করে, যদিও তারা আত্নীয় হোক একথা সুস্পষ্ট হওয়ার পর যে তারা দোযখী।
114وَمَا كَانَ اسْتِغْفَارُ إِبْرَاهِيمَ لِأَبِيهِ إِلَّا عَن مَّوْعِدَةٍ وَعَدَهَا إِيَّاهُ فَلَمَّا تَبَيَّنَ لَهُ أَنَّهُ عَدُوٌّ لِّلَّهِ تَبَرَّأَ مِنْهُ ۚ إِنَّ إِبْرَاهِيمَ لَأَوَّاهٌ حَلِيمٌ
আর ইব্রাহীম কর্তৃক স্বীয় পিতার মাগফেরাত কামনা ছিল কেবল সেই প্রতিশ্রুতির কারণে, যা তিনি তার সাথে করেছিলেন। অতঃপর যখন তাঁর কাছে একথা প্রকাশ পেল যে, সে আল্লাহর শত্রু তখন তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে নিলেন। নিঃসন্দেহে ইব্রাহীম ছিলেন বড় কোমল হৃদয়, সহনশীল।
115وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُضِلَّ قَوْمًا بَعْدَ إِذْ هَدَاهُمْ حَتَّىٰ يُبَيِّنَ لَهُم مَّا يَتَّقُونَ ۚ إِنَّ اللَّهَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ
আর আল্লাহ কোন জাতিকে হেদায়েত করার পর পথভ্রষ্ট করেন না যতক্ষণ না তাদের জন্য পরিষ্কারভাবে বলে দেন সেসব বিষয় যা থেকে তাদের বেঁচে থাকা দরকার। নিঃসন্দেহে আল্লাহ সব বিষয়ে ওয়াকেফহাল।
116إِنَّ اللَّهَ لَهُ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۖ يُحْيِي وَيُمِيتُ ۚ وَمَا لَكُم مِّن دُونِ اللَّهِ مِن وَلِيٍّ وَلَا نَصِيرٍ
নিশ্চয় আল্লাহরই জন্য আসমানসমূহ ও যমীনের সাম্রাজ্য। তিনিই জিন্দা করেন ও মৃত্যু ঘটান, আর আল্লাহ ব্যতীত তোমাদের জন্য কোন সহায়ও নেই, কোন সাহায্যকারীও নেই।
117لَّقَد تَّابَ اللَّهُ عَلَى النَّبِيِّ وَالْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنصَارِ الَّذِينَ اتَّبَعُوهُ فِي سَاعَةِ الْعُسْرَةِ مِن بَعْدِ مَا كَادَ يَزِيغُ قُلُوبُ فَرِيقٍ مِّنْهُمْ ثُمَّ تَابَ عَلَيْهِمْ ۚ إِنَّهُ بِهِمْ رَءُوفٌ رَّحِيمٌ
আল্লাহ দয়াশীল নবীর প্রতি এবং মুহাজির ও আনসারদের প্রতি, যারা কঠিন মহূর্তে নবীর সঙ্গে ছিল, যখন তাদের এক দলের অন্তর ফিরে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। অতঃপর তিনি দয়াপরবশ হন তাদের প্রতি। নিঃসন্দেহে তিনি তাদের প্রতি দয়াশীল ও করুনাময়।
আত-তওবাকুরআন সূচী
129আয়াত
মাদানীRevelation
115আয়াত

অনুবাদ — আত-তওবা 115

সূরা আত-তওবা আয়াত 115 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : আর আল্লাহ কোন জাতিকে হেদায়েত করার পর পথভ্রষ্ট করেন না…

সূরা আয়াত 115/129 — আত-তওবা التوبة (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আত-তওবা শুনুন, আত-তওবা অনুবাদ, আত-তওবা mp3, আত-তওবা pdf. আয়াত 113–117. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না