অনন্তর আমি নূহের পরে বহু নবী-রসূল পাঠিয়েছি তাদের সম্প্রদায়ের প্রতি। তারপর তাদের কাছে তারা প্রকাশ্য দলীল-প্রমাণ উপস্থাপন করেছে, কিন্তু তাদের দ্বারা এমনটি হয়নি যে, ঈমান আনবে সে ব্যাপারে, যাকে তারা ইতিপূর্বে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল। এভাবেই আমি মোহর এঁটে দেই সীমালংঘনকারীদের অন্তরসমূহের উপর।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
फिर ज़रा ग़ौर तो करो फिर हमने नूह के बाद और रसूलों को अपनी क़ौम के पास भेजा तो वह पैग़म्बर उनके पास वाजेए (खुले हुए) व रौशन मौजिज़े लेकर आए इस पर भी जिस चीज़ को ये लोग पहले झुठला चुके थे उस पर ईमान (न लाना था) न लाए हम यूंही हद से गुज़र जाने वालों के दिलों पर (गोया) खुद मोहर कर देते हैं
الْمُعْتَدِينَ – সীমালঙ্ঘনকারী, যারা আল্লাহর নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করে।
তাফসীর (ব্যাখ্যা):
এরপর নূহ (আঃ)-এর পর আমরা তার সম্প্রদায়ের প্রতি একের পর এক বহু রাসূল প্রেরণ করেছি— যেমন ইবরাহীম, হূদ, সালেহ, লূত, শু‘আইব (আঃ) প্রমুখ। প্রত্যেক রাসূল নিজ নিজ সম্প্রদায়ের কাছে স্পষ্ট প্রমাণ ও অলৌকিক নিদর্শনসহ আগমন করেছেন, যা তাদের সত্যতা প্রমাণের জন্য যথেষ্ট ছিল। কিন্তু তাদের সম্প্রদায়ের লোকেরা পূর্ব থেকেই সত্যকে মিথ্যা বলার অভ্যাসে এতটাই দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিল যে, তারা ঈমান আনার কোনো ইচ্ছাই করেনি। তারা আগে যেমন সত্য প্রত্যাখ্যান করেছিল, পরে রাসূলদের আগমনের পরও তাদের মনোভাবে কোনো পরিবর্তন আসেনি। ফলে আল্লাহ তাদের অন্তরে মোহর মেরে দিয়েছেন— অর্থাৎ তাদের হৃদয় সত্য গ্রহণের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। এভাবে আল্লাহ প্রত্যেক যুগে ও স্থানে যারা সীমালঙ্ঘন করে, আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করে এবং রাসূলদের ডাকে সাড়া দেয় না, তাদের অন্তরে একইভাবে মোহর মেরে দেন— যা তাদের অবাধ্যতার শাস্তিস্বরূপ।
উপকারিতা ও শিক্ষা:
আল্লাহর রাসূলগণ সর্বদা সুস্পষ্ট প্রমাণ ও নিদর্শনসহ আগমন করেছেন, যাতে মানুষের জন্য সত্য গ্রহণের কোনো অজুহাত না থাকে। এটি প্রমাণ করে যে, ইসলামের দাওয়াত যুক্তি ও প্রমাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
সত্য প্রত্যাখ্যানের অভ্যাস মানুষের অন্তরকে কঠিন করে দেয় এবং একসময় তা এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে, মানুষ সত্য দেখেও তা গ্রহণ করতে অক্ষম হয়ে পড়ে। তাই আমাদের উচিত সত্যের প্রতি উন্মুক্ত হৃদয় রাখা এবং প্রত্যাখ্যানের পথ থেকে বিরত থাকা।
আল্লাহর পক্ষ থেকে অন্তরে মোহর মেরে দেওয়া মানুষের নিজের কর্মের ফল— এটি আল্লাহর জুলুম নয়, বরং মানুষের নিজের পাপাচারের স্বাভাবিক পরিণতি। এটি আমাদের সতর্ক করে যে, আমরা যেন নিজেদের কর্ম দ্বারা নিজেদের অন্তরকে কঠিন না করি।
এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, আল্লাহর রহমত ও হিদায়াত পেতে হলে অন্তরকে নম্র ও সত্য গ্রহণে প্রস্তুত রাখতে হবে। যে ব্যক্তি সত্যের প্রতি বিনয়ী হয়, আল্লাহ তাকে হিদায়াতের তাওফিক দেন।
ইতিহাসের এই শিক্ষা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ যে, পূর্ববর্তী জাতিদের পরিণতি থেকে আমরা যেন শিক্ষা গ্রহণ করি এবং সত্যের পথে অটল থাকি। কারণ আল্লাহর আইন কখনো পরিবর্তিত হয় না— যে জাতি সত্য প্রত্যাখ্যান করে, তার পরিণতি একই রকম হয়।
অনন্তর আমি নূহের পরে বহু নবী-রসূল পাঠিয়েছি তাদের সম্প্রদায়ের প্রতি। তারপর তাদের কাছে তারা প্রকাশ্য দলীল-প্রমাণ উপস্থাপন করেছে, কিন্তু তাদের দ্বারা এমনটি হয়নি যে, ঈমান আনবে সে ব্যাপারে, যাকে তারা ইতিপূর্বে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল। এভাবেই আমি মোহর এঁটে দেই সীমালংঘনকারীদের অন্তরসমূহের উপর।
তারপরও যদি বিমুখতা অবলম্বন কর, তবে আমি তোমাদের কাছে কোন রকম বিনিময় কামনা করি না। আমার বিনিময় হল আল্লাহর দায়িত্বে। আর আমার প্রতি নির্দেশ রয়েছে যেন আমি আনুগত্য অবলম্বন করি।
তারপরও এরা মিথ্যা প্রতিপন্ন করল। সুতরাং তাকে এবং তার সাথে নৌকায় যারা ছিল তাদের কে বাঁচিয়ে নিয়েছি এবং যথাস্থানে আবাদ করেছি। আর তাদেরকে ডুবিয়ে দিয়েছি যারা আমার কথাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে। সুতরাং লক্ষ্য কর, কেমন পরিণতি ঘটেছে তাদের যাদেরকে ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছিল।
অনন্তর আমি নূহের পরে বহু নবী-রসূল পাঠিয়েছি তাদের সম্প্রদায়ের প্রতি। তারপর তাদের কাছে তারা প্রকাশ্য দলীল-প্রমাণ উপস্থাপন করেছে, কিন্তু তাদের দ্বারা এমনটি হয়নি যে, ঈমান আনবে সে ব্যাপারে, যাকে তারা ইতিপূর্বে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল। এভাবেই আমি মোহর এঁটে দেই সীমালংঘনকারীদের অন্তরসমূহের উপর।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।