ইউসুফ · 50/111
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা ইউসুফ
وَقَالَ الْمَلِكُ ائْتُونِي بِهِ ۖ فَلَمَّا جَاءَهُ الرَّسُولُ قَالَ ارْجِعْ إِلَىٰ رَبِّكَ فَاسْأَلْهُ مَا بَالُ النِّسْوَةِ اللَّاتِي قَطَّعْنَ أَيْدِيَهُنَّ ۚ إِنَّ رَبِّي بِكَيْدِهِنَّ عَلِيمٌ ۝٥٠
Wa qaalal maliku`toonee bihee falammaa jaaa`ahur rasoolu qaalar-ji ilaa rabbika fas`alhu maa baalun niswatil laatee qatta`na aydiyahunn; inna Rabbee bikaidihinna `Aleem
📖 বাংলা অর্থ
বাদশাহ বললঃ ফিরে যাও তোমাদের প্রভুর কাছে এবং জিজ্ঞেস কর তাকে ঐ মহিলার স্বরূপ কি, যারা স্বীয় হস্ত কর্তন করেছিল! আমার পালনকর্তা তো তাদের ছলনা সবই জানেন।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • مَا بَالُ – কী অবস্থা, কী ঘটনা।
  • قَطَّعْنَ أَيْدِيَهُنَّ – যারা নিজেদের হাত কেটে ফেলেছিল।
  • بِكَيْدِهِنَّ – তাদের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে।
  • عَلِيمٌ – সর্বজ্ঞ, সম্পূর্ণ অবগত।

তাফসীর:

রাজা যখন স্বপ্নের ব্যাখ্যা জানতে পারলেন এবং ইউসুফ (আঃ)-এর জ্ঞান ও প্রজ্ঞার কথা শুনলেন, তখন তিনি তাঁর সভাসদদের আদেশ দিলেন, “ইউসুফকে কারাগার থেকে বের করে আমার কাছে নিয়ে এসো।” কিন্তু যখন রাজার দূত ইউসুফ (আঃ)-এর কাছে পৌঁছে তাঁকে রাজার দরবারে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানালেন, তখন ইউসুফ (আঃ) সাথে সাথে যেতে রাজি হলেন না। তিনি দূতকে বললেন, “তুমি তোমার মনিবের (রাজার) কাছে ফিরে যাও এবং তাকে জিজ্ঞেস করো, সেই নারীদের অবস্থা কী যারা নিজেদের হাত কেটে ফেলেছিল? তাদের আসল ঘটনা কী?” ইউসুফ (আঃ) চেয়েছিলেন তার নির্দোষিতা ও পবিত্রতা সবার সামনে প্রমাণিত হোক, যাতে কারও মনে তার সম্পর্কে কোনো সন্দেহ বা কলঙ্ক না থাকে। তিনি আরও বললেন, “আমার রব তাদের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত আছেন।” তিনি এখানে মিসরের আজিজের স্ত্রীর কথা সরাসরি উল্লেখ করেননি, বরং শিষ্টাচার ও সম্মানের খাতিরে শুধু “নারীদের” কথা বলেছেন, যাদের মধ্যে সে-ও অন্তর্ভুক্ত ছিল। ইউসুফ (আঃ) চেয়েছিলেন যে, তার চরিত্রের পবিত্রতা ও নির্দোষিতা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হওয়ার পরই সে কারাগার থেকে বের হবে, যাতে মানুষের মাঝে তার সম্পর্কে কোনো ভুল ধারণা না থাকে।

শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. সত্য ও নির্দোষিতা প্রমাণের আগ্রহ: ইউসুফ (আঃ)-এর এই আচরণ থেকে আমরা শিখি যে, একজন মুমিনের উচিত নিজের নির্দোষিতা ও পবিত্রতা প্রমাণের জন্য আগ্রহী হওয়া, বিশেষত যখন তার সততা ও চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। তবে তা হতে হবে শালীন ও মার্জিত পদ্ধতিতে।
  2. আত্মমর্যাদা ও আত্মসম্মান: কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য ইউসুফ (আঃ) কোনো তাড়াহুড়া করেননি; বরং তিনি চেয়েছিলেন তার সম্মান ও মর্যাদা অক্ষুণ্ণ থাকুক এবং সত্য প্রকাশের মাধ্যমেই সে বের হোক। এটি আমাদের শেখায় যে, আত্মসম্মান বজায় রেখে সত্যের পথে চলা উচিত, অন্যায়ের কাছে মাথা নত করা উচিত নয়।
  3. আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা: ইউসুফ (আঃ) বলেছেন, “আমার রব তাদের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত।” এটি মুমিনের বিশ্বাসের দৃঢ়তার পরিচয়। আল্লাহ সব জানেন, তিনি তার বান্দার পক্ষে থাকলে কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হতে পারে না। তাই বিপদে-সংকটে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা এবং তাঁর ন্যায়বিচারের ওপর আস্থা রাখা প্রতিটি মুমিনের কর্তব্য।
  4. মার্জিত ভাষা ব্যবহার: ইউসুফ (আঃ) অত্যন্ত শালীন ভাষায় ঘটনা উল্লেখ করেছেন এবং কাউকে সরাসরি দোষারোপ করেননি। এটি আমাদের শেখায় যে, অন্যায়ের শিকার হয়েও উত্তম চরিত্র ও মার্জিত ভাষা বজায় রাখা উচিত।


📜 আয়াত 48-52 — সূরা ইউসুফ

48ثُمَّ يَأْتِي مِن بَعْدِ ذَٰلِكَ سَبْعٌ شِدَادٌ يَأْكُلْنَ مَا قَدَّمْتُمْ لَهُنَّ إِلَّا قَلِيلًا مِّمَّا تُحْصِنُونَ
এবং এরপরে আসবে দূর্ভিক্ষের সাত বছর; তোমরা এ দিনের জন্যে যা রেখেছিলে, তা খেয়ে যাবে, কিন্তু অল্প পরিমাণ ব্যতীত, যা তোমরা তুলে রাখবে।
49ثُمَّ يَأْتِي مِن بَعْدِ ذَٰلِكَ عَامٌ فِيهِ يُغَاثُ النَّاسُ وَفِيهِ يَعْصِرُونَ
এর পরেই আসবে একবছর-এতে মানুষের উপর বৃষ্টি বর্ষিত হবে এবং এতে তারা রস নিঙড়াবে।
50وَقَالَ الْمَلِكُ ائْتُونِي بِهِ ۖ فَلَمَّا جَاءَهُ الرَّسُولُ قَالَ ارْجِعْ إِلَىٰ رَبِّكَ فَاسْأَلْهُ مَا بَالُ النِّسْوَةِ اللَّاتِي قَطَّعْنَ أَيْدِيَهُنَّ ۚ إِنَّ رَبِّي بِكَيْدِهِنَّ عَلِيمٌ
বাদশাহ বললঃ ফিরে যাও তোমাদের প্রভুর কাছে এবং জিজ্ঞেস কর তাকে ঐ মহিলার স্বরূপ কি, যারা স্বীয় হস্ত কর্তন করেছিল! আমার পালনকর্তা তো তাদের ছলনা সবই জানেন।
51قَالَ مَا خَطْبُكُنَّ إِذْ رَاوَدتُّنَّ يُوسُفَ عَن نَّفْسِهِ ۚ قُلْنَ حَاشَ لِلَّهِ مَا عَلِمْنَا عَلَيْهِ مِن سُوءٍ ۚ قَالَتِ امْرَأَتُ الْعَزِيزِ الْآنَ حَصْحَصَ الْحَقُّ أَنَا رَاوَدتُّهُ عَن نَّفْسِهِ وَإِنَّهُ لَمِنَ الصَّادِقِينَ
বাদশাহ মহিলাদেরকে বললেনঃ তোমাদের হাল-হাকিকত কি, যখন তোমরা ইউসুফকে আত্মসংবরণ থেকে ফুসলিয়েছিলে? তারা বললঃ আল্লাহ মহান, আমরা তার সম্পর্কে মন্দ কিছু জানি না। আযীয-পত্মি বললঃ এখন সত্য কথা প্রকাশ হয়ে গেছে। আমিই তাকে আত্মসংবরণ থেকে ফুসলিয়েছিলাম এবং সে সত্যবাদী।
52ذَٰلِكَ لِيَعْلَمَ أَنِّي لَمْ أَخُنْهُ بِالْغَيْبِ وَأَنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي كَيْدَ الْخَائِنِينَ
ইউসুফ বললেনঃ এটা এজন্য, যাতে আযীয জেনে নেয় যে, আমি গোপনে তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করিনি। আরও এই যে, আল্লাহ বিশ্বাসঘাতকদের প্রতারণাকে এগুতে দেন না।
ইউসুফকুরআন সূচী
111আয়াত
মাক্কীঅবতরণস্থান
50আয়াত

অনুবাদ — ইউসুফ 50

সূরা ইউসুফ আয়াত 50 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : বাদশাহ বললঃ ফিরে যাও তোমাদের প্রভুর কাছে এবং জিজ্ঞেস কর…

সূরা আয়াত 50/111 — সূরা ইউসুফ يوسف (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা ইউসুফ শুনুন, সূরা ইউসুফ অনুবাদ, সূরা ইউসুফ mp3, সূরা ইউসুফ pdf. আয়াত 48–52. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Monday, September 28, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না