ইউসুফ · 68/111
অনুবাদ উচ্চারণ — ইউসুফ
وَلَمَّا دَخَلُوا مِنْ حَيْثُ أَمَرَهُمْ أَبُوهُم مَّا كَانَ يُغْنِي عَنْهُم مِّنَ اللَّهِ مِن شَيْءٍ إِلَّا حَاجَةً فِي نَفْسِ يَعْقُوبَ قَضَاهَا ۚ وَإِنَّهُ لَذُو عِلْمٍ لِّمَا عَلَّمْنَاهُ وَلَٰكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ ۝٦٨
Wa lammaa dakhaloo min haisu amarahum aboohum maa kaana yughnee `anhum minal laahi min shai`in illaa haajatan fee nafsi Ya`qooba qadaahaa; wa innahoo lazoo `ilmil limaa `allamnaahu wa laakinna aksaran naasi laa ya`lamoon
📖 বাংলা অর্থ
তারা যখন পিতার কথামত প্রবেশ করল, তখন আল্লাহর বিধানের বিরুদ্ধে তা তাদের বাঁচাতে পারল না। কিন্তু ইয়াকুবের সিদ্ধান্তে তাঁর মনের একটি বাসনা ছিল, যা তিনি পূর্ণ করেছেন। এবং তিনি তো আমার শেখানো বিষয় অবগত ছিলেন। কিন্তু অনেক মানুষ অবগত নয়।

🎧 শুনুন
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • مِنْ حَيْثُ أَمَرَهُمْ أَبُوهُم – যে দরজা দিয়ে তাদের পিতা তাদের প্রবেশ করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন (অর্থাৎ পৃথক পৃথক দরজা দিয়ে)।
  • مَا كَانَ يُغْنِي – কোনো কাজে আসত না, রক্ষা করতে পারত না।
  • حَاجَةً فِي نَفْسِ يَعْقُوبَ – ইয়াকুব (আঃ)-এর মনের একটি প্রয়োজন/আকাঙ্ক্ষা।
  • قَضَاهَا – তিনি তা পূরণ করেছেন।
  • لَذُو عِلْمٍ – তিনি অবশ্যই জ্ঞানী।
  • لِمَا عَلَّمْنَاهُ – যা আমরা (আল্লাহ) তাকে শিক্ষা দিয়েছি।

তাফসির:

এরপর ইয়াকুব (আঃ)-এর ছেলেরা যখন পৃথক পৃথক দরজা দিয়ে মিশরে প্রবেশ করল, যেমনটি তাদের পিতা তাদের নির্দেশ দিয়েছিলেন, তখন এটা আল্লাহর তাকদির ও ফয়সালা থেকে তাদেরকে কোনোভাবেই রক্ষা করতে পারেনি। কারণ আল্লাহ যা নির্ধারণ করেছেন তা অবশ্যই ঘটবে। তবে ইয়াকুব (আঃ)-এর এই নির্দেশ ছিল তার পিতৃসুলভ স্নেহ ও মমতার বহিঃপ্রকাশ। তিনি আশঙ্কা করেছিলেন যে, সবাই একসাথে এক দরজা দিয়ে প্রবেশ করলে মানুষের দৃষ্টি তাদের উপর পড়তে পারে (বদনজর), তাই তিনি তাদেরকে আলাদা দরজা দিয়ে প্রবেশের উপদেশ দিয়েছিলেন। এটি ছিল তার মনের একটি ইচ্ছা, যা তিনি পূরণ করেছেন। তিনি ভালো করেই জানতেন যে, আল্লাহর ফয়সালার সামনে কোনো উপায়ই কাজে লাগে না, কিন্তু তবুও বৈধ উপায়-উপকরণ গ্রহণ করা নবীগণের সুন্নত। ইয়াকুব (আঃ) ছিলেন সেই জ্ঞানের অধিকারী, যা আল্লাহ তাকে শিক্ষা দিয়েছিলেন—তাওহিদ, তাকদিরের উপর ঈমান, এবং আল্লাহর হুকুমের সামনে সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণের জ্ঞান। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ এই গভীর জ্ঞান ও প্রজ্ঞা সম্পর্কে অবগত নয়। তারা মনে করে যে, উপায়-উপকরণই সবকিছু করতে পারে, অথবা তারা মনে করে যে, উপায় গ্রহণ করা তাকদিরের বিরোধিতা। প্রকৃত জ্ঞান হলো—উপায় গ্রহণ করা এবং সাথে সাথে আল্লাহর উপর ভরসা রাখা, এটাই ইয়াকুব (আঃ)-এর শিক্ষা।

গৃহীত শিক্ষা ও ফয়দা:

  1. বৈধ উপায়-উপকরণ গ্রহণ করা তাকদিরের উপর ঈমানের পরিপন্থী নয়; বরং এটি নবীগণের আদর্শ। ইয়াকুব (আঃ) নিজে উপায় গ্রহণ করেছেন, কিন্তু জানতেন যে, প্রকৃত ফলদাতা একমাত্র আল্লাহ।
  2. পিতামাতার সন্তানদের প্রতি স্নেহ ও দরদ থাকা স্বাভাবিক এবং প্রশংসনীয়। তারা সন্তানদের কল্যাণের জন্য বিভিন্ন বৈধ উপায় অবলম্বন করবেন।
  3. মুমিনের জ্ঞান কেবল দুনিয়ার বিষয়ে সীমাবদ্ধ নয়; বরং তাকে আল্লাহর দেওয়া দ্বীনি জ্ঞান অর্জন করতে হবে, যার মাধ্যমে সে তাকদিরের উপর ঈমান আনবে এবং আল্লাহর সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট থাকবে।
  4. আল্লাহর জ্ঞান অফুরন্ত। তিনি যাকে ইচ্ছা বিশেষ জ্ঞান দান করেন। আমাদের উচিত আল্লাহর কাছে উপকারী জ্ঞান প্রার্থনা করা।
  5. অধিকাংশ মানুষ জ্ঞানের গভীরতা উপলব্ধি করতে পারে না, তাই মুমিনের কর্তব্য ধৈর্য ধারণ করা এবং দ্বীনের সঠিক জ্ঞান অর্জন ও প্রচারে সচেষ্ট থাকা।


📜 আয়াত 66-70 — ইউসুফ

66قَالَ لَنْ أُرْسِلَهُ مَعَكُمْ حَتَّىٰ تُؤْتُونِ مَوْثِقًا مِّنَ اللَّهِ لَتَأْتُنَّنِي بِهِ إِلَّا أَن يُحَاطَ بِكُمْ ۖ فَلَمَّا آتَوْهُ مَوْثِقَهُمْ قَالَ اللَّهُ عَلَىٰ مَا نَقُولُ وَكِيلٌ
বললেন, তাকে ততক্ষণ তোমাদের সাথে পাঠাব না, যতক্ষণ তোমরা আমাকে আল্লাহর নামে অঙ্গীকার না দাও যে, তাকে অবশ্যই আমার কাছে পৌঁছে দেবে; কিন্তু যদি তোমরা সবাই একান্তই অসহায় না হয়ে যাও। অতঃপর যখন সবাই তাঁকে অঙ্গীকার দিল, তখন তিনি বললেনঃ আমাদের মধ্যে যা কথাবার্তা হলো সে ব্যাপারে আল্লাহই মধ্যস্থ রইলেন।
67وَقَالَ يَا بَنِيَّ لَا تَدْخُلُوا مِن بَابٍ وَاحِدٍ وَادْخُلُوا مِنْ أَبْوَابٍ مُّتَفَرِّقَةٍ ۖ وَمَا أُغْنِي عَنكُم مِّنَ اللَّهِ مِن شَيْءٍ ۖ إِنِ الْحُكْمُ إِلَّا لِلَّهِ ۖ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ ۖ وَعَلَيْهِ فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُتَوَكِّلُونَ
ইয়াকুব বললেনঃ হে আমার বৎসগণ! সবাই একই প্রবেশদ্বার দিয়ে যেয়ো না, বরং পৃথক পৃথক দরজা দিয়ে প্রবেশ করো। আল্লাহর কোন বিধান থেকে আমি তোমাদেরকে রক্ষা করতে পারি না। নির্দেশ আল্লাহরই চলে। তাঁরই উপর আমি ভরসা করি এবং তাঁরই উপর ভরসা করা উচিত ভরসাকারীদের।
68وَلَمَّا دَخَلُوا مِنْ حَيْثُ أَمَرَهُمْ أَبُوهُم مَّا كَانَ يُغْنِي عَنْهُم مِّنَ اللَّهِ مِن شَيْءٍ إِلَّا حَاجَةً فِي نَفْسِ يَعْقُوبَ قَضَاهَا ۚ وَإِنَّهُ لَذُو عِلْمٍ لِّمَا عَلَّمْنَاهُ وَلَٰكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ
তারা যখন পিতার কথামত প্রবেশ করল, তখন আল্লাহর বিধানের বিরুদ্ধে তা তাদের বাঁচাতে পারল না। কিন্তু ইয়াকুবের সিদ্ধান্তে তাঁর মনের একটি বাসনা ছিল, যা তিনি পূর্ণ করেছেন। এবং তিনি তো আমার শেখানো বিষয় অবগত ছিলেন। কিন্তু অনেক মানুষ অবগত নয়।
69وَلَمَّا دَخَلُوا عَلَىٰ يُوسُفَ آوَىٰ إِلَيْهِ أَخَاهُ ۖ قَالَ إِنِّي أَنَا أَخُوكَ فَلَا تَبْتَئِسْ بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ
যখন তারা ইউসুফের কাছে উপস্থিত হল, তখন সে আপন ভ্রাতাকে নিজের কাছে রাখল। বললঃ নিশ্চই আমি তোমার সহোদর। অতএব তাদের কৃতকর্মের জন্যে দুঃখ করো না।
70فَلَمَّا جَهَّزَهُم بِجَهَازِهِمْ جَعَلَ السِّقَايَةَ فِي رَحْلِ أَخِيهِ ثُمَّ أَذَّنَ مُؤَذِّنٌ أَيَّتُهَا الْعِيرُ إِنَّكُمْ لَسَارِقُونَ
অতঃপর যখন ইউসুফ তাদের রসদপত্র প্রস্তুত করে দিল, তখন পানপাত্র আপন ভাইয়ের রসদের মধ্যে রেখে দিল। অতঃপর একজন ঘোষক ডেকে বললঃ হে কাফেলার লোকজন, তোমরা অবশ্যই চোর।
ইউসুফকুরআন সূচী
111আয়াত
মাক্কীRevelation
68আয়াত

অনুবাদ — ইউসুফ 68

সূরা ইউসুফ আয়াত 68 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : তারা যখন পিতার কথামত প্রবেশ করল, তখন আল্লাহর বিধানের বিরুদ্ধে…

সূরা আয়াত 68/111 — ইউসুফ يوسف (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: ইউসুফ শুনুন, ইউসুফ অনুবাদ, ইউসুফ mp3, ইউসুফ pdf. আয়াত 66–70. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না