অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ (প্রয়োজনীয় শব্দের অর্থ):
- نُرِيَنَّكَ – আমি তোমাকে দেখাব (হে নবী)।
- نَعِدُهُمْ – আমরা তাদেরকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি (শাস্তি বা আযাবের)।
- نَتَوَفَّيَنَّكَ – আমরা তোমাকে মৃত্যু দান করব (অর্থাৎ তুমি ইন্তেকাল করবে)।
- الْبَلَاغُ – পৌঁছে দেওয়া / প্রচার করা (দাওয়াত ও রিসালাত পৌঁছে দেওয়া)।
- الْحِسَابُ – হিসাব নেওয়া (প্রতিদান ও শাস্তি প্রদান)।
তাফসির (ব্যাখ্যা):
হে নবী! আল্লাহ তাআলা আপনাকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন এবং বলছেন: হে রাসূল! আমরা আমাদের শত্রুদেরকে যে শাস্তি ও লাঞ্ছনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, তার কিছু অংশ যদি আমি তোমাকে তোমার জীবদ্দশায় দেখিয়ে দিই (অর্থাৎ তাদের ওপর আযাব নাজিল করি), তাহলে তো ভালোই; আর যদি তা দেখানোর আগেই আমি তোমাকে মৃত্যু দান করি, তবুও তোমার কোনো চিন্তা নেই। কারণ তোমার দায়িত্ব শুধু এই যে, আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত বার্তা ও বিধান মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। তাদেরকে হিসাব দেওয়া, শাস্তি দেওয়া বা ক্ষমা করা — এ সব কিছুই আল্লাহর এখতিয়ারে। তোমার ওপর তাদের প্রতিশোধ নেওয়ার দায়িত্ব নেই, আর তাদের হিসাব নেওয়াও তোমার কাজ নয়। হিসাব-নিকাশ ও চূড়ান্ত প্রতিদান কিয়ামতের দিন আল্লাহর হাতেই থাকবে। সুতরাং তুমি নিজের দায়িত্ব পালন করে যাও, আর ফলাফল আল্লাহর ওপর ছেড়ে দাও।
শিক্ষা ও উপদেশ (ফায়দা):
- দায়িত্ব ও ফলাফল আলাদা: প্রতিটি মুসলিমের কর্তব্য হলো আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করা এবং সত্য প্রচার করা। কিন্তু ফলাফল — কে সত্য গ্রহণ করল বা করল না, কার ওপর শাস্তি নাজিল হবে — তা সম্পূর্ণ আল্লাহর হাতে। এতে দাওয়াতি কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের জন্য বিশাল সান্ত্বনা রয়েছে।
- ধৈর্য ও দৃঢ়তা: নবীজি (সা.)-এর জীবদ্দশায় অনেক শত্রু শাস্তি পায়নি, কিন্তু তিনি হতাশ হননি। কারণ তিনি জানতেন, তার কাজ শুধু পৌঁছে দেওয়া। আমাদের জীবনেও যখন অন্যায়কারীরা শাস্তি পেতে দেরি করে, তখন আমাদের ধৈর্য ধারণ করা এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা উচিত।
- আল্লাহর ন্যায়বিচারে আস্থা: এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, কোনো অত্যাচারী বা সত্যবিরোধী শক্তি যদি দুনিয়াতেই শাস্তি না পায়, তবে কিয়ামতের দিন আল্লাহর ন্যায়বিচার অবশ্যই তার হিসাব নেবে। এ বিশ্বাস মুমিনের অন্তরে প্রশান্তি আনে।
- আমলের বিশুদ্ধতা: যেহেতু আমাদের দায়িত্ব শুধু প্রচার ও আমল, তাই আমাদের উচিত নিজের কাজটি সুন্দরভাবে ও আন্তরিকতার সাথে করা, অন্যকে ইসলামের সুন্দর বার্তা পৌঁছে দেওয়া এবং বাকি আল্লাহর ওপর ছেড়ে দেওয়া। এতে অন্তর থেকে অহেতুক দুশ্চিন্তা ও হতাশা দূর হয়।
- রাসূলের (সা.) আদর্শ অনুসরণ: এই আয়াতের মাধ্যমে আমরা শিখি যে, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর মতো আমাদেরও উচিত দাওয়াতের কাজে ক্লান্ত না হওয়া, বরং নিজের দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট থাকা এবং আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখা।
📜 আয়াত 38-42 — আর-রাদ
অনুবাদ — আর-রাদ 40
সূরা আর-রাদ আয়াত 40 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : আমি তাদের সাথে যে ওয়াদা করেছি, তার কোন একটি যদি…সূরা আয়াত 40/43 — আর-রাদ الرعد (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আর-রাদ শুনুন, আর-রাদ অনুবাদ, আর-রাদ mp3, আর-রাদ pdf. আয়াত 38–42. বাংলা অর্থ: हिन्दी.
পবিত্র কুরআন
Tuesday, August 18, 2026
আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না








