Tallaahi laqad arsalnaaa ilaaa umamim min qablika fazayyana lahumush Shaitaanu a`maalahum fahuwa waliyyuhumul yawma wa lahum `azaabun aleem
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
আল্লাহর কসম, আমি আপনার পূর্বে বিভিন্ন সম্প্রদায়ে রাসূল প্রেরণ করেছি, অতঃপর শয়তান তাদেরকে কর্ম সমূহ শোভনীয় করে দেখিয়েছে। আজ সেই তাদের অভিভাবক এবং তাদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
(ऐ रसूल) ख़ुदा की (अपनी) कसम तुमसे पहले उम्मतों के पास बहुतेरे पैग़म्बर भेजे तो शैतान ने उनकी कारस्तानियों को उम्दा कर दिखाया तो वही (शैतान) आज भी उन लोगों का सरपरस्त बना हुआ है हालॉकि उनके वास्ते दर्दनाक अज़ाब है
فَزَيَّنَ لَهُمُ الشَّيْطَانُ أَعْمَالَهُمْ – অতঃপর শয়তান তাদের কাজগুলোকে তাদের কাছে সুশোভিত করে দেখিয়েছে।
وَلِيُّهُمُ – তাদের অভিভাবক, সাহায্যকারী বা বন্ধু।
عَذَابٌ أَلِيمٌ – যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।
তাফসীর:
আল্লাহ তাআলা তাঁর নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সান্ত্বনা দিয়ে বলছেন, হে রাসূল! আল্লাহর কসম, আমি তোমার আগেও বিভিন্ন জাতির কাছে রাসূল প্রেরণ করেছিলাম। কিন্তু সেই জাতিগুলো তাদের রাসূলদেরকে মিথ্যা বলেছে এবং তাদের আনীত পথকে প্রত্যাখ্যান করেছে। এরপর শয়তান তাদের কাছে তাদের মন্দ কাজগুলোকে সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য করে দেখিয়েছে—যেমন শিরক, কুফর, গুনাহ এবং রাসূলদের অবিশ্বাস। ফলে তারা মনে করেছিল যে, তারা যা করছে তা-ই সঠিক। শুধু তাই নয়, শয়তান তাদের অভিভাবক ও সাহায্যকারী হয়ে গিয়েছিল দুনিয়ার জীবনে, যে তাদেরকে পথভ্রষ্টতায় নিমজ্জিত রেখেছিল। কিন্তু কিয়ামতের দিন সেই শয়তান তাদের কোনো কাজে আসবে না; বরং তখন তাদের জন্য অপেক্ষা করছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। সুতরাং হে নবী! তোমার সম্প্রদায় যখন তোমাকে মিথ্যা বলে এবং সত্যের বিরোধিতা করে, তখন তুমি হতাশ হয়ো না। এটা নতুন কিছু নয়; পূর্ববর্তী জাতিরাও তাদের নবীদের সাথে এরূপ আচরণ করেছিল, আর তাদের পরিণতি ছিল শাস্তি।
শিক্ষা ও উপকারিতা:
নবী-রাসূল প্রেরণের ধারাবাহিকতা প্রমাণ করে যে, আল্লাহ কখনো মানুষকে পথভ্রষ্ট অবস্থায় ছেড়ে দেননি; প্রতিটি যুগে তিনি হেদায়াতের ব্যবস্থা করেছেন।
শয়তানের প্রধান কৌশল হলো মন্দ কাজকে সুন্দর করে দেখানো। তাই মুমিনের উচিত প্রতিটি কাজকে কুরআন-সুন্নাহর আলোকে যাচাই করা, নিজের প্রবৃত্তি বা শয়তানের প্ররোচনায় নয়।
শয়তান কখনো প্রকৃত বন্ধু নয়; দুনিয়ায় সে মানুষকে ধোঁকা দেয়, আর আখিরাতে সে সম্পূর্ণ অসহায়। তাই একমাত্র আল্লাহকেই অভিভাবক ও সাহায্যকারী হিসেবে গ্রহণ করা উচিত।
নবীজীর প্রতি সান্ত্বনার এই বাণী আমাদের শেখায়, সত্যের পথে বাধা ও বিরোধিতা এলেই হতাশ হওয়া উচিত নয়; ধৈর্য ধরে দাওয়াত চালিয়ে যাওয়াই মুমিনের কর্তব্য।
আখিরাতের শাস্তির ভয় ও আল্লাহর ওয়াদার প্রতি বিশ্বাস মানুষকে গুনাহ থেকে বিরত রাখে এবং সৎকর্মে উদ্বুদ্ধ করে।
আল্লাহর কসম, আমি আপনার পূর্বে বিভিন্ন সম্প্রদায়ে রাসূল প্রেরণ করেছি, অতঃপর শয়তান তাদেরকে কর্ম সমূহ শোভনীয় করে দেখিয়েছে। আজ সেই তাদের অভিভাবক এবং তাদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।
যদি আল্লাহ লোকদেরকে তাদের অন্যায় কাজের কারণে পাকড়াও করতেন, তবে ভুপৃষ্ঠে চলমান কোন কিছুকেই ছাড়তেন না। কিন্তু তিনি প্রতিশ্রুতি সময় পর্যন্ত তাদেরকে অবকাশ দেন। অতঃপর নির্ধারিত সময়ে যখন তাদের মৃত্যু এসে যাবে, তখন এক মুহুর্তও বিলম্বিত কিংবা তরাম্বিত করতে পারবে না।
যা নিজেদের মন চায় না তারই তারা আল্লাহর জন্যে সাব্যস্ত করে এবং তাদের জিহবা মিথ্যা বর্ণনা করে যে, তাদের জন্যে রয়েছে কল্যাণ। স্বতঃসিদ্ধ কথা যে, তাদের জন্যে রয়েছে আগুন এবং তাদেরকেই সর্বাগ্রে নিক্ষেপ করা হবে।
আল্লাহর কসম, আমি আপনার পূর্বে বিভিন্ন সম্প্রদায়ে রাসূল প্রেরণ করেছি, অতঃপর শয়তান তাদেরকে কর্ম সমূহ শোভনীয় করে দেখিয়েছে। আজ সেই তাদের অভিভাবক এবং তাদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।
আমি আপনার প্রতি এ জন্যেই গ্রন্থ নাযিল করেছি, যাতে আপনি সরল পথ প্রদর্শনের জন্যে তাদের কে পরিষ্কার বর্ণনা করে দেন, যে বিষয়ে তারা মতবিরোধ করছে এবং ঈমানদারকে ক্ষমা করার জন্যে।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।