আন-নাহল · 63/128
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আন-নাহল
تَاللَّهِ لَقَدْ أَرْسَلْنَا إِلَىٰ أُمَمٍ مِّن قَبْلِكَ فَزَيَّنَ لَهُمُ الشَّيْطَانُ أَعْمَالَهُمْ فَهُوَ وَلِيُّهُمُ الْيَوْمَ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ ۝٦٣
Tallaahi laqad arsalnaaa ilaaa umamim min qablika fazayyana lahumush Shaitaanu a`maalahum fahuwa waliyyuhumul yawma wa lahum `azaabun aleem
📖 বাংলা অর্থ
আল্লাহর কসম, আমি আপনার পূর্বে বিভিন্ন সম্প্রদায়ে রাসূল প্রেরণ করেছি, অতঃপর শয়তান তাদেরকে কর্ম সমূহ শোভনীয় করে দেখিয়েছে। আজ সেই তাদের অভিভাবক এবং তাদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • تَاللَّهِ – আল্লাহর কসম।
  • أُمَمٍ – বিভিন্ন জাতি বা সম্প্রদায়।
  • فَزَيَّنَ لَهُمُ الشَّيْطَانُ أَعْمَالَهُمْ – অতঃপর শয়তান তাদের কাজগুলোকে তাদের কাছে সুশোভিত করে দেখিয়েছে।
  • وَلِيُّهُمُ – তাদের অভিভাবক, সাহায্যকারী বা বন্ধু।
  • عَذَابٌ أَلِيمٌ – যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।

তাফসীর:

আল্লাহ তাআলা তাঁর নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সান্ত্বনা দিয়ে বলছেন, হে রাসূল! আল্লাহর কসম, আমি তোমার আগেও বিভিন্ন জাতির কাছে রাসূল প্রেরণ করেছিলাম। কিন্তু সেই জাতিগুলো তাদের রাসূলদেরকে মিথ্যা বলেছে এবং তাদের আনীত পথকে প্রত্যাখ্যান করেছে। এরপর শয়তান তাদের কাছে তাদের মন্দ কাজগুলোকে সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য করে দেখিয়েছে—যেমন শিরক, কুফর, গুনাহ এবং রাসূলদের অবিশ্বাস। ফলে তারা মনে করেছিল যে, তারা যা করছে তা-ই সঠিক। শুধু তাই নয়, শয়তান তাদের অভিভাবক ও সাহায্যকারী হয়ে গিয়েছিল দুনিয়ার জীবনে, যে তাদেরকে পথভ্রষ্টতায় নিমজ্জিত রেখেছিল। কিন্তু কিয়ামতের দিন সেই শয়তান তাদের কোনো কাজে আসবে না; বরং তখন তাদের জন্য অপেক্ষা করছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। সুতরাং হে নবী! তোমার সম্প্রদায় যখন তোমাকে মিথ্যা বলে এবং সত্যের বিরোধিতা করে, তখন তুমি হতাশ হয়ো না। এটা নতুন কিছু নয়; পূর্ববর্তী জাতিরাও তাদের নবীদের সাথে এরূপ আচরণ করেছিল, আর তাদের পরিণতি ছিল শাস্তি।

শিক্ষা ও উপকারিতা:

  1. নবী-রাসূল প্রেরণের ধারাবাহিকতা প্রমাণ করে যে, আল্লাহ কখনো মানুষকে পথভ্রষ্ট অবস্থায় ছেড়ে দেননি; প্রতিটি যুগে তিনি হেদায়াতের ব্যবস্থা করেছেন।
  2. শয়তানের প্রধান কৌশল হলো মন্দ কাজকে সুন্দর করে দেখানো। তাই মুমিনের উচিত প্রতিটি কাজকে কুরআন-সুন্নাহর আলোকে যাচাই করা, নিজের প্রবৃত্তি বা শয়তানের প্ররোচনায় নয়।
  3. শয়তান কখনো প্রকৃত বন্ধু নয়; দুনিয়ায় সে মানুষকে ধোঁকা দেয়, আর আখিরাতে সে সম্পূর্ণ অসহায়। তাই একমাত্র আল্লাহকেই অভিভাবক ও সাহায্যকারী হিসেবে গ্রহণ করা উচিত।
  4. নবীজীর প্রতি সান্ত্বনার এই বাণী আমাদের শেখায়, সত্যের পথে বাধা ও বিরোধিতা এলেই হতাশ হওয়া উচিত নয়; ধৈর্য ধরে দাওয়াত চালিয়ে যাওয়াই মুমিনের কর্তব্য।
  5. আখিরাতের শাস্তির ভয় ও আল্লাহর ওয়াদার প্রতি বিশ্বাস মানুষকে গুনাহ থেকে বিরত রাখে এবং সৎকর্মে উদ্বুদ্ধ করে।


📜 আয়াত 61-65 — সূরা আন-নাহল

61وَلَوْ يُؤَاخِذُ اللَّهُ النَّاسَ بِظُلْمِهِم مَّا تَرَكَ عَلَيْهَا مِن دَابَّةٍ وَلَٰكِن يُؤَخِّرُهُمْ إِلَىٰ أَجَلٍ مُّسَمًّى ۖ فَإِذَا جَاءَ أَجَلُهُمْ لَا يَسْتَأْخِرُونَ سَاعَةً ۖ وَلَا يَسْتَقْدِمُونَ
যদি আল্লাহ লোকদেরকে তাদের অন্যায় কাজের কারণে পাকড়াও করতেন, তবে ভুপৃষ্ঠে চলমান কোন কিছুকেই ছাড়তেন না। কিন্তু তিনি প্রতিশ্রুতি সময় পর্যন্ত তাদেরকে অবকাশ দেন। অতঃপর নির্ধারিত সময়ে যখন তাদের মৃত্যু এসে যাবে, তখন এক মুহুর্তও বিলম্বিত কিংবা তরাম্বিত করতে পারবে না।
62وَيَجْعَلُونَ لِلَّهِ مَا يَكْرَهُونَ وَتَصِفُ أَلْسِنَتُهُمُ الْكَذِبَ أَنَّ لَهُمُ الْحُسْنَىٰ ۖ لَا جَرَمَ أَنَّ لَهُمُ النَّارَ وَأَنَّهُم مُّفْرَطُونَ
যা নিজেদের মন চায় না তারই তারা আল্লাহর জন্যে সাব্যস্ত করে এবং তাদের জিহবা মিথ্যা বর্ণনা করে যে, তাদের জন্যে রয়েছে কল্যাণ। স্বতঃসিদ্ধ কথা যে, তাদের জন্যে রয়েছে আগুন এবং তাদেরকেই সর্বাগ্রে নিক্ষেপ করা হবে।
63تَاللَّهِ لَقَدْ أَرْسَلْنَا إِلَىٰ أُمَمٍ مِّن قَبْلِكَ فَزَيَّنَ لَهُمُ الشَّيْطَانُ أَعْمَالَهُمْ فَهُوَ وَلِيُّهُمُ الْيَوْمَ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ
আল্লাহর কসম, আমি আপনার পূর্বে বিভিন্ন সম্প্রদায়ে রাসূল প্রেরণ করেছি, অতঃপর শয়তান তাদেরকে কর্ম সমূহ শোভনীয় করে দেখিয়েছে। আজ সেই তাদের অভিভাবক এবং তাদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।
64وَمَا أَنزَلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ إِلَّا لِتُبَيِّنَ لَهُمُ الَّذِي اخْتَلَفُوا فِيهِ ۙ وَهُدًى وَرَحْمَةً لِّقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ
আমি আপনার প্রতি এ জন্যেই গ্রন্থ নাযিল করেছি, যাতে আপনি সরল পথ প্রদর্শনের জন্যে তাদের কে পরিষ্কার বর্ণনা করে দেন, যে বিষয়ে তারা মতবিরোধ করছে এবং ঈমানদারকে ক্ষমা করার জন্যে।
65وَاللَّهُ أَنزَلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَأَحْيَا بِهِ الْأَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا ۚ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَآيَةً لِّقَوْمٍ يَسْمَعُونَ
আল্লাহ আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছেন, তদ্বারা যমীনকে তার মৃত্যুর পর পুনর্জীবিত করেছেন। নিশ্চয় এতে তাদের জন্যে নিদর্শন রয়েছে, যারা শ্রবণ করে।
আন-নাহলকুরআন সূচী
128আয়াত
মাক্কীঅবতরণস্থান
63আয়াত

অনুবাদ — আন-নাহল 63

সূরা আন-নাহল আয়াত 63 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : আল্লাহর কসম, আমি আপনার পূর্বে বিভিন্ন সম্প্রদায়ে রাসূল প্রেরণ করেছি,…

সূরা আয়াত 63/128 — সূরা আন-নাহল النحل (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আন-নাহল শুনুন, সূরা আন-নাহল অনুবাদ, সূরা আন-নাহল mp3, সূরা আন-নাহল pdf. আয়াত 61–65. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Monday, September 28, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না