আল্লাহ তা’আলা জীবনোপকরণে তোমাদের একজনকে অন্যজনের চাইতে শ্রেষ্টত্ব দিয়েছেন। অতএব যাদেরকে শ্রেষ্ঠত্ব দেয়া হয়েছে, তারা তাদের অধীনস্থ দাস-দাসীদেরকে স্বীয় জীবিকা থেকে এমন কিছু দেয় না, যাতে তারা এ বিষয়ে তাদের সমান হয়ে যাবে। তবে কি তারা আল্লাহর নেয়ামত অস্বীকার করে।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
और ख़ुदा ही ने तुममें से बाज़ को बाज़ पर रिज़क (दौलत में) तरजीह दी है फिर जिन लोगों को रोज़ी ज्यादा दी गई है वह लोग अपनी रोज़ी में से उन लोगों को जिन पर उनका दस्तरस (इख्तेयार) है (लौन्डी ग़ुलाम वग़ैरह) देने वाला नहीं (हालॉकि इस माल में तो सब के सब मालिक गुलाम वग़ैरह) बराबर हैं तो क्या ये लोग ख़ुदा की नेअमत के मुन्किर हैं
مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ — যাদের ওপর তাদের ডান হাত কর্তৃত্ব করেছে, অর্থাৎ দাস-দাসী।
يَجْحَدُونَ — অস্বীকার করে, অকৃতজ্ঞ হয়।
তাফসীর (ব্যাখ্যা):
আল্লাহ তাআলা মানুষের মধ্যে জীবিকা ও সম্পদের বণ্টনে সমতা রাখেননি; বরং তিনি কাউকে ধনী করেছেন, কাউকে দরিদ্র করেছেন, কাউকে মালিক বানিয়েছেন, আবার কাউকে অধীনস্থ করেছেন। এটি তাঁরই ইচ্ছা ও হিকমত। এখন প্রশ্ন হলো—যারা সম্পদে শ্রেষ্ঠত্ব পেয়েছে, তারা কি তাদের দাস-দাসীদেরকে নিজেদের সম্পদের অংশীদার করে নেয়, যাতে তারা সম্পদের মালিকানায় সমান হয়ে যায়? কখনোই না। কোনো মনিবই তার দাসকে নিজের সম্পদের সমান অংশীদার করতে রাজি হয় না। অথচ এই একই মানুষরা যখন আল্লাহর কথা বলে, তখন তারা আল্লাহর সৃষ্ট দাস-বান্দাদেরকে তাঁর অংশীদার সাব্যস্ত করে! তারা নিজেদের জন্য যে বিষয়টি মেনে নিতে পারে না, সেই একই বিষয় তারা আল্লাহর জন্য কীভাবে মেনে নেয়? এটি কি চরম অন্যায় ও আল্লাহর নেয়ামতের প্রতি চরম অকৃতজ্ঞতা নয়? আল্লাহ তাআলা তাদেরকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন যে, তিনি যদি তাদের ওপর অসন্তুষ্ট হতেন, তবে তাদের কাছ থেকে এই সম্পদ কেড়ে নিতে পারতেন, যেমনটি তারা নিজেদের দাসদের থেকে সম্পদ কেড়ে নেয়। কিন্তু তিনি তাদের প্রতি দয়াবান হয়ে সম্পদ দান করেছেন, আর তারা তা অস্বীকার করে তাঁর সাথে শিরক করছে।
শিক্ষা ও উপদেশ:
জীবিকা ও সম্পদের তারতম্য আল্লাহর ইচ্ছা ও হিকমতের ওপর নির্ভরশীল; এটি তাঁর ন্যায়বিচারের পরিপন্থী নয়, বরং এটি মানুষের পরীক্ষার মাধ্যম।
মানুষ যখন নিজের অধীনস্থদের সাথে সম্পদ ভাগ করে নিতে রাজি হয় না, তখন সে কীভাবে আল্লাহর সাথে তাঁর সৃষ্টিজীবকে অংশীদার করতে পারে? এটি চরম অযৌক্তিক ও অন্যায়।
এই আয়াতটি তাওহীদের পক্ষে অকাট্য যুক্তি উপস্থাপন করে এবং শিরকের অসারতা প্রমাণ করে।
মানুষের উচিত আল্লাহর দেওয়া সম্পদ ও নেয়ামতের জন্য কৃতজ্ঞ হওয়া এবং তা তাঁর নির্দেশ অনুযায়ী ব্যয় করা, যাতে সমাজে ভারসাম্য বজায় থাকে।
সম্পদের মালিকদের উচিত দাস-দাসী, কর্মচারী ও অধীনস্থদের সাথে ন্যায়সঙ্গত আচরণ করা এবং তাদের প্রতি দয়া প্রদর্শন করা, কারণ আল্লাহই প্রকৃত মালিক এবং সবাই তাঁরই বান্দা।
আল্লাহ তা’আলা জীবনোপকরণে তোমাদের একজনকে অন্যজনের চাইতে শ্রেষ্টত্ব দিয়েছেন। অতএব যাদেরকে শ্রেষ্ঠত্ব দেয়া হয়েছে, তারা তাদের অধীনস্থ দাস-দাসীদেরকে স্বীয় জীবিকা থেকে এমন কিছু দেয় না, যাতে তারা এ বিষয়ে তাদের সমান হয়ে যাবে। তবে কি তারা আল্লাহর নেয়ামত অস্বীকার করে।
এরপর সর্বপ্রকার ফল থেকে ভক্ষণ কর এবং আপন পালনকর্তার উম্মুক্ত পথ সমূহে চলমান হও। তার পেট থেকে বিভিন্ন রঙে পানীয় নির্গত হয়। তাতে মানুষের জন্যে রয়েছে রোগের প্রতিকার। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্যে নিদর্শন রয়েছে।
আল্লাহ তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এরপর তোমাদের মৃত্যুদান করেন। তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ পৌছে যায় জরাগ্রস্ত অকর্মন্য বয়সে, ফলে যা কিছু তারা জানত সে সম্পর্কে তারা সজ্ঞান থাকবে না। নিশ্চয় আল্লাহ সু-বিজ্ঞ সর্বশক্তিমান।
আল্লাহ তা’আলা জীবনোপকরণে তোমাদের একজনকে অন্যজনের চাইতে শ্রেষ্টত্ব দিয়েছেন। অতএব যাদেরকে শ্রেষ্ঠত্ব দেয়া হয়েছে, তারা তাদের অধীনস্থ দাস-দাসীদেরকে স্বীয় জীবিকা থেকে এমন কিছু দেয় না, যাতে তারা এ বিষয়ে তাদের সমান হয়ে যাবে। তবে কি তারা আল্লাহর নেয়ামত অস্বীকার করে।
আল্লাহ তোমাদের জন্যে তোমাদেরই শ্রেণী থেকে জোড়া পয়দা করেছেন এবং তোমাদের যুগল থেকে তোমাদেরকে পুত্র ও পৌত্রাদি দিয়েছেন এবং তোমাদেরকে উত্তম জীবনোপকরণ দান করেছেন। অতএব তারা কি মিথ্যা বিষয়ে বিশ্বাস স্থাপন করে এবং আল্লাহর অনুগ্রহ অস্বীকার করে?
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।