Alam yaraw ilat tairi musakhkharaatin fee jawwis samaaa`i maa yumsikuhunna illal laah; inna fee zaalika la Aayaatil liqawminy yu`minoon
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
তারা কি উড়ন্ত পাখীকে দেখে না? এগুলো আকাশের অন্তরীক্ষে আজ্ঞাধীন রয়েছে। আল্লাহ ছাড়া কেউ এগুলোকে আগলে রাখে না। নিশ্চয় এতে বিশ্বাসীদের জন্যে নিদর্শনবলী রয়েছে।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
क्या उन लोगों ने परिन्दों की तरफ ग़ौर नहीं किया जो आसमान के नीचे हवा में घिरे हुए (उड़ते रहते हैं) उनको तो बस ख़ुदा ही (गिरने से ) रोकता है बेशक इसमें भी (कुदरते ख़ुदा की) ईमानदारों के लिए बहुत सी निशानियाँ हैं
তারা কি উড়ন্ত পাখীকে দেখে না? এগুলো আকাশের অন্তরীক্ষে আজ্ঞাধীন রয়েছে। আল্লাহ ছাড়া কেউ এগুলোকে আগলে রাখে না। নিশ্চয় এতে বিশ্বাসীদের জন্যে নিদর্শনবলী রয়েছে।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
মুসাখখারাত (مسخرات): অনুগত, বশীভূত, যাদেরকে উড্ডয়নের জন্য সুবিধাজনক ও নিয়ন্ত্রিত করা হয়েছে।
জাওউস সামা (جو السماء): আকাশের শূন্যতা বা বিস্তৃত ব্যবধান, যা পৃথিবী ও আকাশের মাঝে অবস্থিত।
ইয়ুমছিকুহুন্না (يمسكهن): তাদেরকে (পাখিদেরকে) ধরে রাখা, অর্থাৎ বাতাসে স্থির রাখা বা পড়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করা।
তাফসীর:
মুশরিকরা কি লক্ষ্য করে না আকাশের বিশাল শূন্যতায় পাখিদের উড়ে বেড়ানো? আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে উড্ডয়নের জন্য সম্পূর্ণ অনুগত ও উপযুক্ত করে সৃষ্টি করেছেন। তাদের ডানা, হালকা শরীর, বাতাসের গঠন—সবকিছু এমনভাবে সাজানো হয়েছে যেন তারা সহজেই উড়তে পারে, উঠতে পারে, নামতে পারে এবং ঘুরে ফিরে আসতে পারে। তাদেরকে বাতাসে ধরে রাখার জন্য কোনো দৃশ্যমান বন্ধন নেই, তবুও তারা পড়ে যায় না। কে তাদেরকে এভাবে ধরে রাখে? একমাত্র আল্লাহই তাদেরকে নিজের ক্ষমতায় ধরে রাখেন, তাদের শরীরে এমন বৈশিষ্ট্য দান করেছেন এবং বায়ুমণ্ডলকে এমনভাবে সৃষ্টি করেছেন যা তাদের উড্ডয়নকে সম্ভব করে তোলে। যারা ঈমান আনে এবং অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে দেখে, তাদের জন্য এ দৃশ্যে আল্লাহর অসীম ক্ষমতা, জ্ঞান ও দানশীলতার বহু নিদর্শন রয়েছে। কারণ তারা এই সৃষ্টির পেছনে স্রষ্টার হাত দেখতে পায় এবং শিক্ষা গ্রহণ করে।
উপকার ও শিক্ষা:
পাখির উড্ডয়নের মতো সাধারণ একটি বিষয়েও আল্লাহর ক্ষমতার অসংখ্য নিদর্শন লুকিয়ে আছে। তাই আমাদের উচিত প্রকৃতির দিকে চোখ খুলে তাকানো এবং প্রতিটি সৃষ্টির মধ্যে স্রষ্টার জ্ঞান ও কুদরতের প্রমাণ খুঁজে পাওয়া।
এই আয়াত আমাদেরকে আল্লাহর ওপর ভরসা করতে শেখায়। যিনি পাখিদেরকে বাতাসে ধরে রাখেন, তিনি তার বান্দাদেরকে সবসময় রক্ষা করবেন—এ বিশ্বাস হৃদয়ে গেঁথে নেওয়া জরুরি।
ঈমানদারদের বৈশিষ্ট্য হলো, তারা প্রতিটি জিনিসের মধ্যে আল্লাহর নিদর্শন দেখে এবং তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে। এটি তাদের ঈমানকে আরও দৃঢ় করে এবং আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা বাড়িয়ে দেয়।
এই আয়াত প্রমাণ করে যে, এই বিশ্বজগৎ কোনো অন্ধ প্রকৃতির খেলা নয়; বরং একজন মহাজ্ঞানী, সর্বশক্তিমান স্রষ্টা প্রতিটি বিষয়কে হিকমতের সাথে পরিচালনা করছেন। এই উপলব্ধি মানুষকে সঠিক পথে পরিচালিত করে এবং তাকে স্রষ্টার আনুগত্যে উদ্বুদ্ধ করে।
নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের গোপন রহস্য আল্লাহর কাছেই রয়েছে। কিয়ামতের ব্যাপারটি তো এমন, যেমন চোখের পলক অথবা তার চাইতেও নিকটবর্তী। নিশ্চয় আল্লাহ সব কিছুর উপর শক্তিমান।
আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের মায়ের গর্ভ থেকে বের করেছেন। তোমরা কিছুই জানতে না। তিনি তোমাদেরকে কর্ণ, চক্ষু ও অন্তর দিয়েছেন, যাতে তোমরা অনুগ্রহ স্বীকার কর।
তারা কি উড়ন্ত পাখীকে দেখে না? এগুলো আকাশের অন্তরীক্ষে আজ্ঞাধীন রয়েছে। আল্লাহ ছাড়া কেউ এগুলোকে আগলে রাখে না। নিশ্চয় এতে বিশ্বাসীদের জন্যে নিদর্শনবলী রয়েছে।
আল্লাহ করে দিয়েছেন তোমাদের গৃহকে অবস্থানের জায়গা এবং চতুস্পদ জন্তুর চামড়া দ্বারা করেছেন তোমার জন্যে তাঁবুর ব্যবস্থা। তোমরা এগুলোকে সফরকালে ও অবস্থান কালে পাও। ভেড়ার পশম, উটের বাবরি চুল ও ছাগলের লোম দ্বারা কত আসবাবপত্র ও ব্যবহারের সামগ্রী তৈরী করেছেন এক নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত।
আল্লাহ তোমাদের জন্যে সৃজিত বস্তু দ্বারা ছায়া করে দিয়েছেন এবং পাহাড় সমূহে তোমাদের জন্যে আত্ন গোপনের জায়গা করেছেন এবং তোমাদের জন্যে পোশাক তৈরী করে দিয়েছেন, যা তোমাদেরকে গ্রীষ্ম এবং বিপদের সময় রক্ষা করে। এমনিভাবে তিনি তোমাদের প্রতি স্বীয় অনুগ্রহের পূর্ণতা দান করেন, যাতে তোমরা আত্নসমর্পণ কর।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।