আল-বাকারা · 34/286
অনুবাদ উচ্চারণ — আল-বাকারা
وَإِذْ قُلْنَا لِلْمَلَائِكَةِ اسْجُدُوا لِآدَمَ فَسَجَدُوا إِلَّا إِبْلِيسَ أَبَىٰ وَاسْتَكْبَرَ وَكَانَ مِنَ الْكَافِرِينَ ۝٣٤
Wa iz qulnaa lilmalaaa`i katis judoo liAadama fasajadooo illaaa Ibleesa abaa wastakbara wa kaana minal kaafireen
📖 বাংলা অর্থ
এবং যখন আমি হযরত আদম (আঃ)-কে সেজদা করার জন্য ফেরেশতাগণকে নির্দেশ দিলাম, তখনই ইবলীস ব্যতীত সবাই সিজদা করলো। সে (নির্দেশ) পালন করতে অস্বীকার করল এবং অহংকার প্রদর্শন করল। ফলে সে কাফেরদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে গেল।
🎧 শুনুন
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • أَبَىٰ — অস্বীকৃতি জানাল, অসম্মত হলো, প্রত্যাখ্যান করল।
  • وَاسْتَكْبَرَ — অহংকার করল, নিজেকে বড় মনে করল।
  • وَكَانَ مِنَ الْكَافِرِينَ — এবং সে কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেল (অর্থাৎ আল্লাহর আদেশ অস্বীকার করার কারণে)।

তাফসির:

হে নবী! আপনি লোকদেরকে সেই সময়ের কথা স্মরণ করিয়ে দিন, যখন আল্লাহ তা‘আলা সমস্ত ফেরেশতাকে আদেশ করেছিলেন: “আদমকে সিজদা কর”—এটি ছিল আদম (আঃ)-এর সম্মান ও মর্যাদা প্রকাশের জন্য, আর তা ছিল আল্লাহর আদেশের অনুগত হয়ে। ফেরেশতারা সকলেই সাথে সাথে আল্লাহর আদেশ পালন করল এবং সিজদা করল। কিন্তু ইবলিশ (শয়তান) সিজদা করল না। সে ছিল জিন জাতির অন্তর্ভুক্ত। সে আল্লাহর আদেশের বিরুদ্ধে আপত্তি জানাল, অহংকার প্রদর্শন করল এবং আদম (আঃ)-কে নিজের চেয়ে নিচু মনে করল। ফলে সে আল্লাহর আদেশ অমান্য করার কারণে কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেল। অর্থাৎ, তার এই অবাধ্যতা ও অহংকারই প্রমাণ করে যে, আল্লাহর পূর্ব জ্ঞানে সে ছিল ধ্বংসপ্রাপ্ত ও কাফিরদের দলভুক্ত।

শিক্ষা ও উপকারিতা:

  1. আল্লাহ তা‘আলা মানুষকে অত্যন্ত সম্মান ও মর্যাদা দিয়েছেন। ফেরেশতাদেরকেও আদম (আঃ)-কে সিজদা করার আদেশ দিয়ে এই মর্যাদা প্রকাশ করেছেন। সুতরাং আমাদের উচিত নিজের এই মর্যাদা অনুযায়ী জীবনযাপন করা এবং আল্লাহর আদেশ মেনে চলা।
  2. অহংকার ও হিংসা是人类 ধ্বংসের মূল কারণ। ইবলিশের পতন ঘটেছিল শুধুমাত্র অহংকারের কারণে। তাই আমাদের উচিত অহংকার থেকে দূরে থাকা এবং বিনয় অবলম্বন করা।
  3. আল্লাহর আদেশের সামনে নিজের মতামত বা যুক্তি দেওয়া যায় না। ইবলিশের আপত্তি ছিল ভিত্তিহীন, আর এর পরিণতি ছিল চিরস্থায়ী লানত। সুতরাং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আদেশ মেনে নেওয়াই সফলতার পথ।
  4. এই ঘটনা থেকে আমরা শিখি যে, জ্ঞান ও ইবাদতের দীর্ঘ ইতিহাস থাকলেও আল্লাহর আদেশ অমান্য করলে তা কোনো কাজে আসে না। ইবলিশ বহু বছর ইবাদত করেছিল, কিন্তু একটি অহংকার তার সবকিছু নষ্ট করে দিল। তাই আমাদের উচিত সর্বদা আল্লাহর আনুগত্য করা এবং নিজের আমল নিয়ে গর্ব না করা।
  5. শয়তান আমাদের প্রকাশ্য শত্রু। সে চায় মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করতে। তাই আমাদের উচিত শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে সতর্ক থাকা এবং আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করা।

📜 আয়াত 32-36 — আল-বাকারা

32قَالُوا سُبْحَانَكَ لَا عِلْمَ لَنَا إِلَّا مَا عَلَّمْتَنَا ۖ إِنَّكَ أَنتَ الْعَلِيمُ الْحَكِيمُ
তারা বলল, তুমি পবিত্র! আমরা কোন কিছুই জানি না, তবে তুমি যা আমাদিগকে শিখিয়েছ (সেগুলো ব্যতীত) নিশ্চয় তুমিই প্রকৃত জ্ঞানসম্পন্ন, হেকমতওয়ালা।
33قَالَ يَا آدَمُ أَنبِئْهُم بِأَسْمَائِهِمْ ۖ فَلَمَّا أَنبَأَهُم بِأَسْمَائِهِمْ قَالَ أَلَمْ أَقُل لَّكُمْ إِنِّي أَعْلَمُ غَيْبَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَأَعْلَمُ مَا تُبْدُونَ وَمَا كُنتُمْ تَكْتُمُونَ
তিনি বললেন, হে আদম, ফেরেশতাদেরকে বলে দাও এসবের নাম। তারপর যখন তিনি বলে দিলেন সে সবের নাম, তখন তিনি বললেন, আমি কি তোমাদেরকে বলিনি যে, আমি আসমান ও যমীনের যাবতীয় গোপন বিষয় সম্পর্কে খুব ভাল করেই অবগত রয়েছি? এবং সেসব বিষয়ও জানি যা তোমরা প্রকাশ কর, আর যা তোমরা গোপন কর!
34وَإِذْ قُلْنَا لِلْمَلَائِكَةِ اسْجُدُوا لِآدَمَ فَسَجَدُوا إِلَّا إِبْلِيسَ أَبَىٰ وَاسْتَكْبَرَ وَكَانَ مِنَ الْكَافِرِينَ
এবং যখন আমি হযরত আদম (আঃ)-কে সেজদা করার জন্য ফেরেশতাগণকে নির্দেশ দিলাম, তখনই ইবলীস ব্যতীত সবাই সিজদা করলো। সে (নির্দেশ) পালন করতে অস্বীকার করল এবং অহংকার প্রদর্শন করল। ফলে সে কাফেরদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে গেল।
35وَقُلْنَا يَا آدَمُ اسْكُنْ أَنتَ وَزَوْجُكَ الْجَنَّةَ وَكُلَا مِنْهَا رَغَدًا حَيْثُ شِئْتُمَا وَلَا تَقْرَبَا هَٰذِهِ الشَّجَرَةَ فَتَكُونَا مِنَ الظَّالِمِينَ
এবং আমি আদমকে হুকুম করলাম যে, তুমি ও তোমার স্ত্রী জান্নাতে বসবাস করতে থাক এবং ওখানে যা চাও, যেখান থেকে চাও, পরিতৃপ্তিসহ খেতে থাক, কিন্তু এ গাছের নিকটবর্তী হয়ো না। অন্যথায় তোমরা যালিমদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে পড়বে।
36فَأَزَلَّهُمَا الشَّيْطَانُ عَنْهَا فَأَخْرَجَهُمَا مِمَّا كَانَا فِيهِ ۖ وَقُلْنَا اهْبِطُوا بَعْضُكُمْ لِبَعْضٍ عَدُوٌّ ۖ وَلَكُمْ فِي الْأَرْضِ مُسْتَقَرٌّ وَمَتَاعٌ إِلَىٰ حِينٍ
অনন্তর শয়তান তাদের উভয়কে ওখান থেকে পদস্খলিত করেছিল। পরে তারা যে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে ছিল তা থেকে তাদেরকে বের করে দিল এবং আমি বললাম, তোমরা নেমে যাও। তোমরা পরস্পর একে অপরের শক্র হবে এবং তোমাদেরকে সেখানে কিছুকাল অবস্থান করতে হবে ও লাভ সংগ্রহ করতে হবে।
আল-বাকারাকুরআন সূচী
286আয়াত
মাদানীRevelation
34আয়াত

অনুবাদ — আল-বাকারা 34

সূরা আল-বাকারা আয়াত 34 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : এবং যখন আমি হযরত আদম (আঃ)-কে সেজদা করার জন্য ফেরেশতাগণকে…

সূরা আয়াত 34/286 — আল-বাকারা البقرة (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আল-বাকারা শুনুন, আল-বাকারা অনুবাদ, আল-বাকারা mp3, আল-বাকারা pdf. আয়াত 32–36. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না