Qaala yaaa Aadamu ambi` hum biasmaaa`ihimfalammaaa amba ahum bi asmaaa`ihim qaala alam aqul lakum inneee a`lamu ghaibas samaawaati wal ardi wa a`lamu maa tubdoona wa maa kuntum taktumoon
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
তিনি বললেন, হে আদম, ফেরেশতাদেরকে বলে দাও এসবের নাম। তারপর যখন তিনি বলে দিলেন সে সবের নাম, তখন তিনি বললেন, আমি কি তোমাদেরকে বলিনি যে, আমি আসমান ও যমীনের যাবতীয় গোপন বিষয় সম্পর্কে খুব ভাল করেই অবগত রয়েছি? এবং সেসব বিষয়ও জানি যা তোমরা প্রকাশ কর, আর যা তোমরা গোপন কর!
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
(उस वक्त ख़ुदा ने आदम को) हुक्म दिया कि ऐ आदम तुम इन फ़रिश्तों को उन सब चीज़ों के नाम बता दो बस जब आदम ने फ़रिश्तों को उन चीज़ों के नाम बता दिए तो खुदा ने फरिश्तों की तरफ ख़िताब करके फरमाया क्यों, मैं तुमसे न कहता था कि मैं आसमानों और ज़मीनों के छिपे हुए राज़ को जानता हूँ, और जो कुछ तुम अब ज़ाहिर करते हो और जो कुछ तुम छिपाते थे (वह सब) जानता हूँ
তিনি বললেন, হে আদম, ফেরেশতাদেরকে বলে দাও এসবের নাম। তারপর যখন তিনি বলে দিলেন সে সবের নাম, তখন তিনি বললেন, আমি কি তোমাদেরকে বলিনি যে, আমি আসমান ও যমীনের যাবতীয় গোপন বিষয় সম্পর্কে খুব ভাল করেই অবগত রয়েছি? এবং সেসব বিষয়ও জানি যা তোমরা প্রকাশ কর, আর যা তোমরা গোপন কর!
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
أَنبِئْهُم — তাদেরকে জানাও/অবহিত করো।
بِأَسْمَائِهِمْ — তাদের (সেসব বস্তুর) নামসমূহ দ্বারা।
غَيْبَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ — আসমান ও জমিনের গোপন/অদৃশ্য বিষয়াদি।
مَا تُبْدُونَ — যা তোমরা প্রকাশ করো।
مَا كُنتُمْ تَكْتُمُونَ — যা তোমরা গোপন করতে।
তাফসীর:
এরপর আল্লাহ তা‘আলা আদম (আঃ)-কে নির্দেশ দিলেন, “হে আদম! তুমি এদেরকে (ফেরেশতাদেরকে) এসব বস্তুর নাম সম্পর্কে জানিয়ে দাও।” তখন আদম (আঃ) আল্লাহর শিক্ষা অনুযায়ী প্রতিটি বস্তুর সঠিক নাম উল্লেখ করে তাদেরকে জানিয়ে দিলেন। যখন আদম (আঃ) সব কিছুর নাম বলে দিলেন, তখন আল্লাহ তা‘আলা ফেরেশতাদেরকে সম্বোধন করে বললেন, “আমি কি তোমাদেরকে বলিনি যে, আমি আসমান ও জমিনের সমস্ত গোপন বিষয় সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত? আমি জানি যা তোমরা প্রকাশ করো এবং যা তোমরা মনে মনে গোপন রাখো।”
অর্থাৎ, ফেরেশতারা আগে যখন বলেছিল, “আপনি কি জমিনে এমন কাউকে সৃষ্টি করবেন যারা সেখানে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে এবং রক্তপাত ঘটাবে?” — তখন তারা তাদের অভিমত প্রকাশ করেছিল। কিন্তু তাদের অন্তরে আদম (আঃ)-এর মর্যাদা সম্পর্কে কিছুটা দ্বিধা বা আত্মপ্রশংসার ভাবও ছিল। আল্লাহ তা‘আলা তাদের সেই প্রকাশ্য কথা এবং অন্তরের গোপন ভাবনা — সবই জানেন, তা তিনি এখানে প্রকাশ করে দিলেন, যাতে প্রমাণিত হয় যে, আল্লাহর জ্ঞান সীমাহীন এবং আদম (আঃ)-কে যে জ্ঞান দান করা হয়েছে তা ফেরেশতাদের জ্ঞানের ঊর্ধ্বে।
শিক্ষা ও উপদেশ:
নম্রতা ও বিনয়: ফেরেশতাদের মতো মহান সৃষ্টিও যখন নিজের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে উপলব্ধি করে, তখন আমাদের উচিত আরও বেশি বিনয়ী হওয়া। নিজের জ্ঞানকে বড় মনে করা উচিত নয়।
আল্লাহর জ্ঞানের অসীমতা: এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, আল্লাহ তা‘আলার জ্ঞান আসমান-জমিনের সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে আছে — আমাদের প্রকাশ্য কাজ এবং গোপন চিন্তা-ভাবনা সবই তাঁর জানা। তাই আমাদের উচিত সর্বদা সতর্ক থাকা এবং ভালো কাজ করা।
জ্ঞান অর্জনের গুরুত্ব: আদম (আঃ)-কে জ্ঞান দান করে তাকে ফেরেশতাদের চেয়ে মর্যাদায় উন্নীত করা হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে, জ্ঞান অর্জন মানুষের জন্য কত বড় সম্মানের বিষয়। ইসলাম জ্ঞানচর্চাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে।
আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা: যখন আমরা বুঝতে পারি যে, আল্লাহ সবকিছু জানেন এবং তাঁর সিদ্ধান্তই সর্বোত্তম, তখন আমাদের জীবনের প্রতিটি বিষয়ে তাঁর উপর ভরসা করা উচিত। তিনি যা কিছু করেন, তার মধ্যে কল্যাণই নিহিত।
অন্যের ভুল ধরার আগে আত্মসমালোচনা: ফেরেশতারা আদম (আঃ)-এর সৃষ্টি সম্পর্কে প্রশ্ন তুলেছিল, কিন্তু পরে তারা বুঝতে পেরেছিল যে, আল্লাহর জ্ঞানই সর্বশ্রেষ্ঠ। আমাদেরও উচিত অন্যের সমালোচনা করার আগে নিজের সীমাবদ্ধতা উপলব্ধি করা।
আর আল্লাহ তা’আলা শিখালেন আদমকে সমস্ত বস্তু-সামগ্রীর নাম। তারপর সে সমস্ত বস্তু-সামগ্রীকে ফেরেশতাদের সামনে উপস্থাপন করলেন। অতঃপর বললেন, আমাকে তোমরা এগুলোর নাম বলে দাও, যদি তোমরা সত্য হয়ে থাক।
তিনি বললেন, হে আদম, ফেরেশতাদেরকে বলে দাও এসবের নাম। তারপর যখন তিনি বলে দিলেন সে সবের নাম, তখন তিনি বললেন, আমি কি তোমাদেরকে বলিনি যে, আমি আসমান ও যমীনের যাবতীয় গোপন বিষয় সম্পর্কে খুব ভাল করেই অবগত রয়েছি? এবং সেসব বিষয়ও জানি যা তোমরা প্রকাশ কর, আর যা তোমরা গোপন কর!
এবং যখন আমি হযরত আদম (আঃ)-কে সেজদা করার জন্য ফেরেশতাগণকে নির্দেশ দিলাম, তখনই ইবলীস ব্যতীত সবাই সিজদা করলো। সে (নির্দেশ) পালন করতে অস্বীকার করল এবং অহংকার প্রদর্শন করল। ফলে সে কাফেরদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে গেল।
এবং আমি আদমকে হুকুম করলাম যে, তুমি ও তোমার স্ত্রী জান্নাতে বসবাস করতে থাক এবং ওখানে যা চাও, যেখান থেকে চাও, পরিতৃপ্তিসহ খেতে থাক, কিন্তু এ গাছের নিকটবর্তী হয়ো না। অন্যথায় তোমরা যালিমদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে পড়বে।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।