আন-নূর · 42/64
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আন-নূর
وَلِلَّهِ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۖ وَإِلَى اللَّهِ الْمَصِيرُ ۝٤٢
Wa lillaahi mulkus samaawaati wal ardi wa ilal laahil maseer
📖 বাংলা অর্থ
নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের সার্বভৌমত্ব আল্লাহরই এবং তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • مُلْكُ — রাজত্ব, সার্বভৌমত্ব, পূর্ণ অধিকার।
  • السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ — আসমানসমূহ ও যমীন (সমগ্র সৃষ্টিজগৎ)।
  • الْمَصِيرُ — প্রত্যাবর্তন, ফিরে যাওয়ার স্থান, চূড়ান্ত গন্তব্য।

তাফসীর (ব্যাখ্যা):

আল্লাহ তাআলাই একমাত্র আসমান ও যমীনের পূর্ণ মালিক। তাঁরই হাতে রয়েছে সমগ্র সৃষ্টিজগতের রাজত্ব, শাসনক্ষমতা এবং সকল কিছুর পরিচালনা। তিনি যেমন সবকিছুর সৃষ্টিকর্তা, তেমনি তিনিই সবকিছুর রক্ষক ও পরিচালক। আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর কোনো কিছুই তাঁর ইচ্ছা ও অনুমতির বাইরে ঘটে না। তাঁর রাজত্বে কোনো অংশীদার নেই, কোনো সহকারী নেই।

আর এই পৃথিবীর জীবনই শেষ নয়। প্রতিটি মানুষ, প্রতিটি সৃষ্টিকে একদিন তাঁর কাছেই ফিরে যেতে হবে। কিয়ামতের দিন সকলেই তাঁর সামনে উপস্থিত হবে — হিসাব-নিকাশের জন্য, ভালো-মন্দ কাজের প্রতিদান পাওয়ার জন্য। সেদিন কারো পালানোর জায়গা থাকবে না, কারো সুপারিশও কাজে আসবে না, যদি না আল্লাহ নিজে অনুমতি দেন। সেদিন প্রত্যেকেই তার কৃতকর্মের ফল ভোগ করবে — নেককাররা জান্নাতের সুখময় জীবন পাবে, আর বদকাররা জাহান্নামের শাস্তির সম্মুখীন হবে।

এই পৃথিবীর রাজত্ব যার হাতেই থাকুক না কেন, তা সাময়িক। প্রকৃত মালিক তো আল্লাহই, আর প্রকৃত প্রত্যাবর্তনও তাঁরই দিকে। তাই মানুষের উচিত এই পার্থিব জীবনে আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে চলা, কারণ একদিন তাঁকেই সবকিছুর হিসাব দিতে হবে।

শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. আল্লাহর রাজত্ব ও ক্ষমতা অসীম — তিনি সবকিছুর উপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাখেন। এই বিশ্বাস মানুষের অন্তরে আল্লাহর ভয় ও শ্রদ্ধা তৈরি করে।
  2. এই পৃথিবীর জীবন ক্ষণস্থায়ী এবং পরকালই চিরস্থায়ী। তাই জীবনের প্রতিটি কাজে পরকালের হিসাবকে সামনে রাখা উচিত।
  3. যখন আমরা জানি যে, সবকিছুর মালিক আল্লাহ এবং আমাদের সকলকে তাঁর কাছে ফিরে যেতে হবে, তখন অন্যায়, অত্যাচার ও পাপাচার থেকে বেঁচে থাকা সহজ হয়।
  4. এই আয়াত মুমিনকে ধৈর্য ও দৃঢ়তা দেয় — বিপদ-আপদে, কষ্টে-দুর্দশায় এই জ্ঞান তাকে সান্ত্বনা দেয় যে, সবকিছু আল্লাহর হাতে এবং তাঁর কাছেই আমাদের ফিরে যেতে হবে।
  5. আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও ভরসা রাখা এবং তাঁর আনুগত্যের পথে চলাই সফলতার চাবিকাঠি — কারণ তাঁর কাছেই আমাদের চূড়ান্ত প্রত্যাবর্তন।


📜 আয়াত 40-44 — সূরা আন-নূর

40أَوْ كَظُلُمَاتٍ فِي بَحْرٍ لُّجِّيٍّ يَغْشَاهُ مَوْجٌ مِّن فَوْقِهِ مَوْجٌ مِّن فَوْقِهِ سَحَابٌ ۚ ظُلُمَاتٌ بَعْضُهَا فَوْقَ بَعْضٍ إِذَا أَخْرَجَ يَدَهُ لَمْ يَكَدْ يَرَاهَا ۗ وَمَن لَّمْ يَجْعَلِ اللَّهُ لَهُ نُورًا فَمَا لَهُ مِن نُّورٍ
অথবা (তাদের কর্ম) প্রমত্ত সমুদ্রের বুকে গভীর অন্ধকারের ন্যায়, যাকে উদ্বেলিত করে তরঙ্গের উপর তরঙ্গ, যার উপরে ঘন কালো মেঘ আছে। একের উপর এক অন্ধকার। যখন সে তার হাত বের করে, তখন তাকে একেবারেই দেখতে পায় না। আল্লাহ যাকে জ্যোতি দেন না, তার কোন জ্যোতিই নেই।
41أَلَمْ تَرَ أَنَّ اللَّهَ يُسَبِّحُ لَهُ مَن فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَالطَّيْرُ صَافَّاتٍ ۖ كُلٌّ قَدْ عَلِمَ صَلَاتَهُ وَتَسْبِيحَهُ ۗ وَاللَّهُ عَلِيمٌ بِمَا يَفْعَلُونَ
তুমি কি দেখ না যে, নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে যারা আছে, তারা এবং উড়ন্ত পক্ষীকুল তাদের পাখা বিস্তার করতঃ আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে? প্রত্যেকেই তার যোগ্য এবাদত এবং পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণার পদ্ধতি জানে। তারা যা করে, আল্লাহ সে বিষয়ে সম্যক জ্ঞাত।
42وَلِلَّهِ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۖ وَإِلَى اللَّهِ الْمَصِيرُ
নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের সার্বভৌমত্ব আল্লাহরই এবং তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে।
43أَلَمْ تَرَ أَنَّ اللَّهَ يُزْجِي سَحَابًا ثُمَّ يُؤَلِّفُ بَيْنَهُ ثُمَّ يَجْعَلُهُ رُكَامًا فَتَرَى الْوَدْقَ يَخْرُجُ مِنْ خِلَالِهِ وَيُنَزِّلُ مِنَ السَّمَاءِ مِن جِبَالٍ فِيهَا مِن بَرَدٍ فَيُصِيبُ بِهِ مَن يَشَاءُ وَيَصْرِفُهُ عَن مَّن يَشَاءُ ۖ يَكَادُ سَنَا بَرْقِهِ يَذْهَبُ بِالْأَبْصَارِ
তুমি কি দেখ না যে, আল্লাহ মেঘমালাকে সঞ্চালিত করেন, অতঃপর তাকে পুঞ্জীভূত করেন, অতঃপর তাকে স্তরে স্তরে রাখেন; অতঃপর তুমি দেখ যে, তার মধ্য থেকে বারিধারা নির্গত হয়। তিনি আকাশস্থিত শিলাস্তুপ থেকে শিলাবর্ষণ করেন এবং তা দ্বারা যাকে ইচ্ছা আঘাত করেন এবং যার কাছ থেকে ইচ্ছা, তা অন্যদিকে ফিরিয়ে দেন। তার বিদ্যুৎঝলক দৃষ্টিশক্তি যেন বিলীন করে দিতে চায়।
44يُقَلِّبُ اللَّهُ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ ۚ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَعِبْرَةً لِّأُولِي الْأَبْصَارِ
আল্লাহ দিন ও রাত্রির পরিবর্তন ঘটান। এতে অর্ন্তদৃষ্টি-সম্পন্নগণের জন্যে চিন্তার উপকরণ রয়েছে।
আন-নূরকুরআন সূচী
64আয়াত
মাদানীঅবতরণস্থান
42আয়াত

অনুবাদ — আন-নূর 42

সূরা আন-নূর আয়াত 42 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের সার্বভৌমত্ব আল্লাহরই এবং তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তন করতে…

সূরা আয়াত 42/64 — সূরা আন-নূর النور (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আন-নূর শুনুন, সূরা আন-নূর অনুবাদ, সূরা আন-নূর mp3, সূরা আন-নূর pdf. আয়াত 40–44. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Thursday, October 1, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না