আল-ফুরকান · 3/77
অনুবাদ উচ্চারণ — আল-ফুরকান
وَٱتَّخَذُواْ مِن دُونِهِۦٓ ءَالِهَةً لَّا يَخۡلُقُونَ شَيۡـًٔا وَهُمۡ يُخۡلَقُونَ وَلَا يَمۡلِكُونَ لِأَنفُسِهِمۡ ضَرًّا وَلَا نَفۡعًا وَلَا يَمۡلِكُونَ مَوۡتًا وَلَا حَيَوٰةً وَلَا نُشُورًا  ۝٣
Wattakhazoo min dooniheee aahihatal laa yakhluqoona shai`anw wa hum yukhlaqoona wa laa yamlikoona li anfusihim darranw wa laa naf`anw wa laa yamlikoona mawtanw wa laa hayaatanw wa laa nushooraa
📖 বাংলা অর্থ
তারা তাঁর পরিবর্তে কত উপাস্য গ্রহণ করেছে, যারা কিছুই সৃষ্টি করে না এবং তারা নিজেরাই সৃষ্ট এবং নিজেদের ভালও করতে পারে না, মন্দও করতে পারে না এবং জীবন, মরণ ও পুনরুজ্জীবনের ও তারা মালিক নয়।
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • আলিহাহ (آلِهَةً): উপাস্য বা মাবুদ, যাদের ইবাদত করা হয়।
  • নুশূর (نُشُورًا): মৃত্যুর পর পুনরুত্থান বা কবর থেকে জীবিত হয়ে ওঠা।

তাফসীর:

মুশরিকরা আল্লাহ তা‘আলাকে বাদ দিয়ে এমন সব উপাস্য বানিয়ে নিয়েছে যারা কোনো কিছু সৃষ্টি করতে পারে না, অথচ তারা নিজেরাই সৃষ্ট। মানুষই তাদের পাথর কেটে বা কাঠ খোদাই করে বানিয়ে থাকে। তারা নিজেদের থেকে কোনো ক্ষতি দূর করার বা নিজেদের জন্য কোনো উপকার আনার ক্ষমতাও রাখে না। কারো মৃত্যু ঘটানো, কাউকে জীবন দান করা কিংবা মৃতকে কবর থেকে পুনরুত্থিত করাও তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। যে সৃষ্টিকর্তা নন, নিজে সৃষ্ট; যিনি নিজের ক্ষতি-উপকারের মালিক নন; যিনি জীবন-মৃত্যু ও পুনরুত্থানের কোনো ক্ষমতা রাখেন না—তিনি কীভাবে উপাস্য হতে পারেন? ইবাদত তো কেবল সেই সত্তার প্রাপ্য, যিনি সবকিছু সৃষ্টি করেছেন, সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান এবং যিনি মৃত্যুর পর মানুষকে পুনরুত্থিত করে প্রতিদান দেবেন।

শিক্ষা ও উপকারিতা:

  1. এ আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, প্রকৃত উপাস্য হতে হলে তাকে সৃষ্টিকর্তা, রিজিকদাতা, জীবন-মৃত্যুর মালিক এবং পুনরুত্থানকারী হতে হবে। এই গুণগুলো একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার মধ্যেই বিদ্যমান।
  2. যে মূর্তি বা সৃষ্ট বস্তু নিজের ক্ষতিও দূর করতে পারে না, সে কীভাবে অপরের ক্ষতি দূর করবে? তাই শুধু আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাওয়া উচিত।
  3. মৃত্যুর পর পুনরুত্থানে বিশ্বাস ইসলামের মৌলিক বিষয়। এই বিশ্বাসই মানুষকে দায়িত্বশীল করে তোলে এবং ভালো কাজে উদ্বুদ্ধ করে।
  4. যারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্য কিছুকে উপাস্য বানায়, তাদের বুদ্ধি ও যুক্তি কত দুর্বল—তা এ আয়াত স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। তাই আমাদের উচিত একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করা এবং তাঁর কাছেই সব কিছু চাওয়া।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 1-5 — আল-ফুরকান

1تَبَارَكَ ٱلَّذِي نَزَّلَ ٱلۡفُرۡقَانَ عَلَىٰ عَبۡدِهِۦ لِيَكُونَ لِلۡعَٰلَمِينَ نَذِيرًا 
পরম কল্যাণময় তিনি যিনি তাঁর বান্দার প্রতি ফয়সালার গ্রন্থ অবর্তীণ করেছেন, যাতে সে বিশ্বজগতের জন্যে সতর্ককারী হয়,।
2ٱلَّذِي لَهُۥ مُلۡكُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِ وَلَمۡ يَتَّخِذۡ وَلَدًا وَلَمۡ يَكُن لَّهُۥ شَرِيكٌ فِي ٱلۡمُلۡكِ وَخَلَقَ كُلَّ شَيۡءٍ فَقَدَّرَهُۥ تَقۡدِيرًا 
তিনি হলেন যাঁর রয়েছে নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের রাজত্ব। তিনি কোন সন্তান গ্রহণ করেননি। রাজত্বে তাঁর কোন অংশীদার নেই। তিনি প্রত্যেক বস্তু সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তাকে শোধিত করেছেন পরিমিতভাবে।
3وَٱتَّخَذُواْ مِن دُونِهِۦٓ ءَالِهَةً لَّا يَخۡلُقُونَ شَيۡـًٔا وَهُمۡ يُخۡلَقُونَ وَلَا يَمۡلِكُونَ لِأَنفُسِهِمۡ ضَرًّا وَلَا نَفۡعًا وَلَا يَمۡلِكُونَ مَوۡتًا وَلَا حَيَوٰةً وَلَا نُشُورًا 
তারা তাঁর পরিবর্তে কত উপাস্য গ্রহণ করেছে, যারা কিছুই সৃষ্টি করে না এবং তারা নিজেরাই সৃষ্ট এবং নিজেদের ভালও করতে পারে না, মন্দও করতে পারে না এবং জীবন, মরণ ও পুনরুজ্জীবনের ও তারা মালিক নয়।
4وَقَالَ ٱلَّذِينَ كَفَرُوٓاْ إِنۡ هَٰذَآ إِلَّآ إِفۡكٌ ٱفۡتَرَىٰهُ وَأَعَانَهُۥ عَلَيۡهِ قَوۡمٌ ءَاخَرُونَۖ فَقَدۡ جَآءُو ظُلۡمًا وَزُورًا 
কাফেররা বলে, এটা মিথ্যা বৈ নয়, যা তিনি উদ্ভাবন করেছেন এবং অন্য লোকেরা তাঁকে সাহায্য করেছে। অবশ্যই তারা অবিচার ও মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছে।
5وَقَالُوٓاْ أَسَٰطِيرُ ٱلۡأَوَّلِينَ ٱكۡتَتَبَهَا فَهِيَ تُمۡلَىٰ عَلَيۡهِ بُكۡرَةً وَأَصِيلًا 
তারা বলে, এগুলো তো পুরাকালের রূপকথা, যা তিনি লিখে রেখেছেন। এগুলো সকাল-সন্ধ্যায় তাঁর কাছে শেখানো হয়।
আল-ফুরকানকুরআন সূচী
77আয়াত
মাক্কীRevelation
3আয়াত

অনুবাদ — আল-ফুরকান 3

সূরা আয়াত 3/77 — আল-ফুরকান الفرقان (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আল-ফুরকান শুনুন, আল-ফুরকান অনুবাদ, আল-ফুরকান mp3, আল-ফুরকান pdf. আয়াত 1–5. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না