আল-কাসাস · 66/88
অনুবাদ উচ্চারণ — আল-কাসাস
فَعَمِيَتْ عَلَيْهِمُ الْأَنبَاءُ يَوْمَئِذٍ فَهُمْ لَا يَتَسَاءَلُونَ ۝٦٦
Fa`amiyat `alaihimul ambaaa`u Yawma`izin fahum laa yatasaaa`aloon
📖 বাংলা অর্থ
অতঃপর তাদের কথাবার্তা বন্ধ হয়ে যাবে এবং তারা একে অপরকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে না।
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • فَعَمِيَتْ – অদৃশ্য হয়ে যাওয়া, লুকিয়ে যাওয়া, অস্পষ্ট হয়ে যাওয়া।
  • الْأَنبَاءُ – খবরসমূহ, প্রমাণসমূহ, যুক্তি-প্রমাণ।
  • يَوْمَئِذٍ – সেদিন (কিয়ামতের দিন)।
  • لَا يَتَسَاءَلُونَ – তারা পরস্পরকে জিজ্ঞাসা করবে না।

তাফসীর (ব্যাখ্যা):

সেদিন অর্থাৎ কিয়ামতের দিন যখন আল্লাহ তাআলা মুশরিকদেরকে জিজ্ঞাসা করবেন যে, তারা আল্লাহর সাথে যাদেরকে শরীক করতেছিল তাদেরকে ডেকে আনুক, তখন তাদের কাছে কোনো জবাব থাকবে না। তাদের সমস্ত যুক্তি-প্রমাণ, ওজর-আপত্তি এবং কথা লুকিয়ে যাবে, অস্পষ্ট হয়ে যাবে। তারা হতবাক ও স্তব্ধ হয়ে যাবে। এত বড় ভয় ও আতঙ্ক তাদেরকে গ্রাস করবে যে, তারা একে অপরের সাথে কোনো কথা বলতেও পারবে না, এমনকি পরস্পরকে জিজ্ঞাসাও করতে পারবে না যে, কী জবাব দেবে বা কী বলবে। কারণ তারা নিজেরাই জানে যে, তাদের কোনো স্পষ্ট প্রমাণ বা যুক্তি নেই। তাদের মুখ বন্ধ হয়ে যাবে এবং তারা সম্পূর্ণ নিঃস্ব ও অসহায় হয়ে পড়বে। এটি হবে তাদের জন্য চরম লাঞ্ছনা ও অপমানের মুহূর্ত।

ফায়েদা (শিক্ষা ও উপকারিতা):

  1. কিয়ামতের দিন সত্য প্রকাশিত হবে এবং মিথ্যা ও শির্কের সমস্ত পর্দা উন্মোচিত হয়ে যাবে। সেদিন কারো কোনো অজুহাত বা যুক্তি গ্রহণ করা হবে না।
  2. দুনিয়ায় যারা আল্লাহর সাথে শরীক করে বা সত্যকে মেনে নিতে অস্বীকার করে, তাদের কাছে কিয়ামতের দিন কোনো জবাব থাকবে না; তারা সম্পূর্ণ নীরব ও লজ্জিত হবে।
  3. এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, দুনিয়াতেই আমাদের উচিত সত্যকে মেনে নেওয়া এবং আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাস স্থাপন করা, যাতে আখিরাতে আমাদের মুখ উজ্জ্বল থাকে এবং আমরা কোনো প্রকার লাঞ্ছনা ও অপমানের সম্মুখীন না হই।
  4. এটি মুমিনদের জন্য সুসংবাদ যে, তারা দুনিয়ায় আল্লাহর নির্দেশ মেনে চলার মাধ্যমে আখিরাতে নিরাপদ ও সম্মানিত হবে, আর মুশরিক ও সত্যবিমুখরা সেদিন সম্পূর্ণ অসহায় ও অপমানিত হবে।
  5. আয়াতটি আমাদেরকে তাওহীদের গুরুত্ব এবং শির্কের ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করে, যেন আমরা সর্বদা আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ থাকি এবং তাঁর সাথে কাউকে শরীক না করি।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 64-68 — আল-কাসাস

64وَقِيلَ ادْعُوا شُرَكَاءَكُمْ فَدَعَوْهُمْ فَلَمْ يَسْتَجِيبُوا لَهُمْ وَرَأَوُا الْعَذَابَ ۚ لَوْ أَنَّهُمْ كَانُوا يَهْتَدُونَ
বলা হবে, তোমরা তোমাদের শরীকদের আহবান কর। তখন তারা ডাকবে,। অতঃপর তারা তাদের ডাকে সাড়া দিবে না এবং তারা আযাব দেখবে। হায়! তারা যদি সৎপথ প্রাপ্ত হত।
65وَيَوْمَ يُنَادِيهِمْ فَيَقُولُ مَاذَا أَجَبْتُمُ الْمُرْسَلِينَ
যে দিন আল্লাহ তাদেরকে ডেকে বলবেন, তোমরা রসূলগণকে কি জওয়াব দিয়েছিলে?
66فَعَمِيَتْ عَلَيْهِمُ الْأَنبَاءُ يَوْمَئِذٍ فَهُمْ لَا يَتَسَاءَلُونَ
অতঃপর তাদের কথাবার্তা বন্ধ হয়ে যাবে এবং তারা একে অপরকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে না।
67فَأَمَّا مَن تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا فَعَسَىٰ أَن يَكُونَ مِنَ الْمُفْلِحِينَ
তবে যে তওবা করে, বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে, আশা করা যায়, সে সফলকাম হবে।
68وَرَبُّكَ يَخْلُقُ مَا يَشَاءُ وَيَخْتَارُ ۗ مَا كَانَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ ۚ سُبْحَانَ اللَّهِ وَتَعَالَىٰ عَمَّا يُشْرِكُونَ
আপনার পালনকর্তা যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন এবং পছন্দ করেন। তাদের কোন ক্ষমতা নেই। আল্লাহ পবিত্র এবং তারা যাকে শরীক করে, তা থেকে উর্ধ্বে।
আল-কাসাসকুরআন সূচী
88আয়াত
মাক্কীRevelation
66আয়াত

অনুবাদ — আল-কাসাস 66

সূরা আল-কাসাস আয়াত 66 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : অতঃপর তাদের কথাবার্তা বন্ধ হয়ে যাবে এবং তারা একে অপরকে…

সূরা আয়াত 66/88 — আল-কাসাস القصص (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আল-কাসাস শুনুন, আল-কাসাস অনুবাদ, আল-কাসাস mp3, আল-কাসাস pdf. আয়াত 64–68. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না