এ হল তারই প্রতিফল যা তোমরা ইতিপূর্বে নিজের হাতে পাঠিয়েছ। বস্তুতঃ আল্লাহ বান্দাদের প্রতি অত্যাচার করেন না।
📜
অনুবাদ — Tafsir
### معاني الكلمات:
ذَٰلِكَ: অর্থাৎ সেই শাস্তি বা আযাব।
بِمَا قَدَّمَتْ أَيْدِيكُمْ: যা তোমাদের হাত আগে পাঠিয়েছে, অর্থাৎ তোমাদের কৃতকর্ম ও পাপাচার।
لَيْسَ بِظَلَّامٍ لِّلْعَبِيدِ: বান্দাদের প্রতি কোনো প্রকার জুলুমকারী নন।
### تفسير الآية:
হে নবী! এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা ইয়াহুদীদের অবস্থা বর্ণনা করেছেন, যাদেরকে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করা হবে। তখন তাদেরকে বলা হবে: “এই শাস্তি যা তোমরা আজ ভোগ করছ, তা তোমাদের নিজেদের হাতের কৃতকর্মেরই ফল। কারণ তোমরা দুনিয়ায় আল্লাহর অবাধ্যতা করেছ, তাঁর রাসূলদেরকে মিথ্যা বলেছ, নবী-রাসূলদেরকে হত্যা করেছ এবং আল্লাহর বিধান লঙ্ঘন করে পাপাচারে লিপ্ত থেকেছ। আর আল্লাহ তো কখনো তাঁর বান্দাদের প্রতি জুলুম করেন না। তিনি সম্পূর্ণ ন্যায়পরায়ণ। তিনি কাউকে অন্যায়ভাবে শাস্তি দেন না, বরং প্রত্যেকে যা কিছু করে, তারই উপযুক্ত প্রতিফল পায়। যে ভালো কাজ করে, সে ভালো ফল পাবে; আর যে মন্দ কাজ করে, সে মন্দ ফল ভোগ করবে। সুতরাং এই শাস্তি তাদের নিজেদের কর্মেরই স্বাভাবিক পরিণতি, আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো জুলুম নয়।”
### শিক্ষণীয় বিষয়:
কর্মফলের নীতি: প্রতিটি মানুষের ভালো-মন্দ কাজের ফল সে অবশ্যই পাবে। দুনিয়ায় কৃতকর্মের হিসাব আখিরাতে দেওয়া হবে।
আল্লাহর ন্যায়বিচার: আল্লাহ কখনো তাঁর বান্দাদের প্রতি জুলুম করেন না। তিনি সম্পূর্ণ ন্যায়পরায়ণ ও ইনসাফকারী। তাই কোনো অবস্থাতেই আল্লাহর প্রতি অন্যায়ের অভিযোগ আনা যায় না।
দায়িত্ববোধ: মানুষ তার নিজের কর্মের জন্য নিজেই দায়ী। কেউ অন্যের পাপের বোঝা বহন করবে না। তাই আমাদের উচিত নিজেদের কাজ সম্পর্কে সচেতন থাকা।
তওবার সুযোগ: এই আয়াত আমাদের সতর্ক করে যে, দুনিয়ার জীবনই হলো কর্ম করার স্থান। এখানে তওবা করার ও নিজেকে সংশোধন করার সুযোগ রয়েছে। আখিরাতে আর কোনো সুযোগ থাকবে না।
আল্লাহর রহমতের প্রতি আশা: যদিও শাস্তির কথা বলা হয়েছে, কিন্তু আল্লাহর রহমত অপরিসীম। যারা তওবা করে নিজেদের সংশোধন করে, আল্লাহ তাদের ক্ষমা করে দেন। তাই আমাদের উচিত আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ না হয়ে সৎকর্মে অগ্রসর হওয়া।
আল্লাহ তাদেরকে নিজের অনুগ্রহে যা দান করেছেন তাতে যারা কৃপণতা করে এই কার্পন্য তাদের জন্য মঙ্গলকর হবে বলে তারা যেন ধারণা না করে। বরং এটা তাদের পক্ষে একান্তই ক্ষতিকর প্রতিপন্ন হবে। যাতে তারা কার্পন্য করে সে সমস্ত ধন-সম্পদকে কিয়ামতের দিন তাদের গলায় বেড়ী বানিয়ে পরানো হবে। আর আল্লাহ হচ্ছেন আসমান ও যমীনের পরম সত্ত্বাধিকারী। আর যা কিছু তোমরা কর; আল্লাহ সে সম্পর্কে জানেন।
নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাদের কথা শুনেছেন, যারা বলেছে যে, আল্লাহ হচ্ছেন অভাবগ্রস্ত আর আমরা বিত্তবান! এখন আমি তাদের কথা এবং যেসব নবীকে তারা অন্যায়ভাবে হত্যা করেছে তা লিখে রাখব, অতঃপর বলব, আস্বাদন কর জ্বলন্ত আগুনের আযাব।
সে সমস্ত লোক, যারা বলে যে, আল্লাহ আমাদিগকে এমন কোন রসূলের ওপর বিশ্বাস না করতে বলে রেখেছেন যতক্ষণ না তারা আমাদের নিকট এমন কোরবানী নিয়ে আসবেন যাকে আগুন গ্রাস করে নেবে। তুমি তাদের বলে দাও, তোমাদের মাঝে আমার পূর্বে বহু রসূল নিদর্শনসমূহ এবং তোমরা যা আব্দার করেছ তা নিয়ে এসেছিলেন, তখন তোমরা কেন তাদেরকে হত্যা করলে যদি তোমরা সত্য হয়ে থাক।
তাছাড়া এরা যদি তোমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে, তবে তোমার পূর্বেও এরা এমন বহু নবীকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে, যারা নিদর্শন সমূহ নিয়ে এসেছিলেন। এবং এনেছিলেন সহীফা ও প্রদীপ্ত গ্রন্থ।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।