Innad deena `indal laahil Islaam; wa makhtalafal lazeena ootul Kitaaba illaa mim ba`di maa jaaa`ahumul `ilmu baghyam bainahum; wa mai yakfur bi Aayaatil laahi fa innal laaha saree`ul hisaab
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
নিঃসন্দেহে আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য দ্বীন একমাত্র ইসলাম। এবং যাদের প্রতি কিতাব দেয়া হয়েছে তাদের নিকট প্রকৃত জ্ঞান আসার পরও ওরা মতবিরোধে লিপ্ত হয়েছে, শুধুমাত্র পরস্পর বিদ্বেষবশতঃ, যারা আল্লাহর নিদর্শনসমূহের প্রতি কুফরী করে তাদের জানা উচিত যে, নিশ্চিতরূপে আল্লাহ হিসাব গ্রহণে অত্যন্ত দ্রুত।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
और अहले किताब ने जो उस दीने हक़ से इख्तेलाफ़ किया तो महज़ आपस की शरारत और असली (अम्र) मालूम हो जाने के बाद (ही क्या है) और जिस शख्स ने ख़ुदा की निशानियों से इन्कार किया तो (वह समझ ले कि यक़ीनन ख़ुदा (उससे) बहुत जल्दी हिसाब लेने वाला है
নিঃসন্দেহে আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য দ্বীন একমাত্র ইসলাম। এবং যাদের প্রতি কিতাব দেয়া হয়েছে তাদের নিকট প্রকৃত জ্ঞান আসার পরও ওরা মতবিরোধে লিপ্ত হয়েছে, শুধুমাত্র পরস্পর বিদ্বেষবশতঃ, যারা আল্লাহর নিদর্শনসমূহের প্রতি কুফরী করে তাদের জানা উচিত যে, নিশ্চিতরূপে আল্লাহ হিসাব গ্রহণে অত্যন্ত দ্রুত।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
الدِّينُ: এখানে অর্থাৎ সেই দ্বীন বা জীবনব্যবস্থা যা আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য।
الإسْلَامُ: আল্লাহর একান্ত আনুগত্য, তাঁর কাছে আত্মসমর্পণ করা এবং তাঁর নির্দেশের কাছে নিজেকে সম্পূর্ণরূপে সোপর্দ করা।
بَغْيًا: বিদ্বেষ, হিংসা এবং অন্যায়ভাবে সীমালঙ্ঘন করা; দুনিয়ার স্বার্থ ও নেতৃত্বের লোভ।
سَرِيعُ الْحِسَابِ: যিনি অতি দ্রুত হিসাব নেবেন; তাঁর হিসাব গ্রহণে বিলম্ব নেই।
তাফসীর:
নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য দ্বীন একটিই—সেটি হলো ইসলাম। ইসলামের অর্থ হলো আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাস করা, তাঁর আদেশের কাছে নিজেকে সম্পূর্ণরূপে সমর্পণ করা এবং সকল যুগে প্রেরিত নবী-রাসূলগণের ওপর ঈমান আনা। সর্বশেষ নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আগমন之后的 আর কোনো নতুন শরিয়ত নেই; তাই তাঁর পরে যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো পথ গ্রহণ করবে, তা আল্লাহর দরবারে কখনো গ্রহণযোগ্য হবে না।
আহলে কিতাব (ইয়াহুদি ও খ্রিস্টান) যারা তাওরাত ও ইঞ্জিলের জ্ঞান লাভ করেছিল, তারা নিজেদের মধ্যে মতভেদ সৃষ্টি করে বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে যায়। অথচ তাদের কাছে সত্য স্পষ্টভাবে পৌঁছে গিয়েছিল এবং তারা জানত যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সত্য নবী। কিন্তু তারা কেবল হিংসা, বিদ্বেষ এবং দুনিয়ার ক্ষমতা ও নেতৃত্বের লোভের কারণে সত্যকে গ্রহণ করেনি। তারা নিজেদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে, কেউ ঈসা (আ.)-কে আল্লাহর পুত্র বলল, কেউ উজায়ের (আ.)-কে আল্লাহর পুত্র বলল—এমনকি তারা আল্লাহর সাথে শিরক করল।
যারা আল্লাহর আয়াতসমূহ—যা কুরআনে নাজিল হয়েছে এবং আল্লাহর একত্ববাদ ও রুবুবিয়্যাতের প্রমাণ বহন করে—অস্বীকার করে, তাদের জন্য রয়েছে কঠোর সতর্কবার্তা। আল্লাহ তাআলা অত্যন্ত দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী; কিয়ামতের দিন তিনি তাদের সকল কাজের হিসাব নেবেন এবং তাদেরকে তাদের কর্মের উপযুক্ত প্রতিফল দেবেন। প্রতিটি মানুষের কর্ম আল্লাহর কাছে স্পষ্ট, এবং তাঁর হিসাব গ্রহণে কোনো বিলম্ব হবে না।
শিক্ষা ও উপকারিতা:
ইসলামই একমাত্র সত্য ও গ্রহণযোগ্য জীবনব্যবস্থা; আল্লাহর কাছে অন্য কোনো পথই কবুল হবে না। তাই আমাদের উচিত ইসলামের ওপর অটল থাকা এবং তা অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা।
জ্ঞান অর্জনের পর সত্য থেকে বিচ্যুত হওয়া অত্যন্ত মারাত্মক অপরাধ। যারা সত্য জানার পরও হিংসা ও দুনিয়ার লোভে বিভেদ সৃষ্টি করে, তারা আল্লাহর ক্রোধের পাত্র হয়।
বিভেদ ও মতভেদ সৃষ্টি করা ইসলামে নিন্দনীয়। মুসলিমদের উচিত ঐক্যবদ্ধ থাকা এবং পরস্পরের মধ্যে ভালোবাসা ও সহমর্মিতা বজায় রাখা।
আল্লাহর হিসাব অত্যন্ত দ্রুত; তাই আমাদের প্রতিটি কাজে সতর্ক থাকা উচিত, কারণ আমরা সবাই আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়ে হিসাব দেব।
এই আয়াত আমাদেরকে শিরক ও কুফর থেকে দূরে থাকতে এবং তাওহিদের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকতে শেখায়, যা ইসলামের মূল ভিত্তি।
আল্লাহ সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, তাঁকে ছাড়া আর কোন উপাস্য নেই। ফেরেশতাগণ এবং ন্যায়নিষ্ঠ জ্ঞানীগণও সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, তিনি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই। তিনি পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময়।
নিঃসন্দেহে আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য দ্বীন একমাত্র ইসলাম। এবং যাদের প্রতি কিতাব দেয়া হয়েছে তাদের নিকট প্রকৃত জ্ঞান আসার পরও ওরা মতবিরোধে লিপ্ত হয়েছে, শুধুমাত্র পরস্পর বিদ্বেষবশতঃ, যারা আল্লাহর নিদর্শনসমূহের প্রতি কুফরী করে তাদের জানা উচিত যে, নিশ্চিতরূপে আল্লাহ হিসাব গ্রহণে অত্যন্ত দ্রুত।
যদি তারা তোমার সাথে বিতর্কে অবতীর্ণ হয় তবে বলে দাও, "আমি এবং আমার অনুসরণকারীগণ আল্লাহর প্রতি আত্নসমর্পণ করেছি।" আর আহলে কিতাবদের এবং নিরক্ষরদের বলে দাও যে, তোমরাও কি আত্নসমর্পণ করেছ? তখন যদি তারা আত্নসমর্পণ করে, তবে সরল পথ প্রাপ্ত হলো, আর যদি মুখ ঘুরিয়ে নেয়, তাহলে তোমার দায়িত্ব হলো শুধু পৌছে দেয়া। আর আল্লাহর দৃষ্টিতে রয়েছে সকল বান্দা।
যারা আল্লাহর নিদর্শনাবলীকে অস্বীকার করে এবং পয়গম্বরগণকে হত্যা করে অন্যায়ভাবে, আর সেসব লোককে হত্যা করে যারা ন্যায়পরায়ণতার নির্দেশ দেয় তাদেরকে বেদনাদায়ক শাস্তির সংবাদ দিন।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।