আল-ইমরান · 18/200
অনুবাদ উচ্চারণ — আল-ইমরান
شَهِدَ ٱللَّهُ أَنَّهُۥ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ وَٱلۡمَلَٰٓئِكَةُ وَأُوْلُواْ ٱلۡعِلۡمِ قَآئِمَۢا بِٱلۡقِسۡطِۚ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ٱلۡعَزِيزُ ٱلۡحَكِيمُ  ۝١٨
Shahidal laahu annahoo laa ilaaha illaa Huwa walmalaaa`ikatu wa ulul `ilmi qaaa`imam bilqist; laaa ilaaha illaa Huwal `Azeezul Hakeem
📖 বাংলা অর্থ
আল্লাহ সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, তাঁকে ছাড়া আর কোন উপাস্য নেই। ফেরেশতাগণ এবং ন্যায়নিষ্ঠ জ্ঞানীগণও সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, তিনি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই। তিনি পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময়।
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দের অর্থ:

  • شَهِدَ اللهُ — আল্লাহ সাক্ষ্য দিয়েছেন, অর্থাৎ তিনি নিজেই ঘোষণা ও প্রকাশ করেছেন।
  • قَائِمًا بِالْقِسْطِ — ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাকারী; অর্থাৎ তিনি ন্যায়ের সাথে সমস্ত কিছু পরিচালনা করেন।
  • الْعَزِيزُ — পরাক্রমশালী, যাঁকে কেউ পরাজিত করতে পারে না।
  • الْحَكِيمُ — প্রজ্ঞাময়, যাঁর সকল কাজ ও আদেশ নিখুঁত জ্ঞান ও প্রজ্ঞার ভিত্তিতে।

তাফসীর (ব্যাখ্যা):

আল্লাহ তাআলা নিজেই ঘোষণা করেছেন যে, তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই। তিনি তাঁর একত্বের সাক্ষ্য দিয়েছেন এবং এই সাক্ষ্যে তিনি ফেরেশতাদের এবং জ্ঞানী ব্যক্তিদেরকেও অংশীদার করেছেন। অর্থাৎ, ফেরেশতারা এবং নবী-রাসূলগণ ও ঈমানদার জ্ঞানী ব্যক্তিরা—সবাই এই সত্যের সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, আল্লাহই একমাত্র উপাস্য, তিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই। এই সাক্ষ্য দেওয়ার অর্থ হলো, তারা এই বিষয়টি দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে স্বীকার করেছেন এবং মানুষের কাছে তা প্রচার করেছেন।

আল্লাহ তাআলা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাকারী। তিনি তাঁর সৃষ্টি ও বিধান—সবকিছুতে ন্যায়পরায়ণতা বজায় রাখেন। তাঁর কোনো কাজে জুলুম বা অন্যায় নেই। তিনি তাঁর বান্দাদের প্রতি ন্যায়বিচার করেন এবং তাঁর আইনও ন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত।

অতঃপর আল্লাহ তাআলা পুনরায় ঘোষণা করেছেন: "আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই; তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।" অর্থাৎ, তিনি এমন পরাক্রমশালী যে, তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে কেউ দাঁড়াতে পারে না এবং তিনি এমন প্রজ্ঞাময় যে, তাঁর সকল কাজ, সৃষ্টি ও বিধান অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ও নিখুঁত।

শিক্ষা ও উপকারিতা:

  1. তাওহীদ (একত্ববাদ) ইসলামের মূল ভিত্তি। আল্লাহ নিজেই এই সত্যের সাক্ষ্য দিয়েছেন, তাই প্রতিটি মুমিনের উচিত এই সাক্ষ্যকে অন্তর থেকে বিশ্বাস করা এবং জীবনযাপনে তা বাস্তবায়ন করা।
  2. জ্ঞান অর্জন অত্যন্ত সম্মানজনক। আল্লাহ তাআলা জ্ঞানীদের সাক্ষ্যকে নিজের সাক্ষ্যের সাথে যুক্ত করেছেন, যা প্রমাণ করে যে, জ্ঞানী ব্যক্তিদের মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ।
  3. ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা আল্লাহর গুণ। মুমিনদের উচিত নিজেদের জীবনে ন্যায়পরায়ণতা অবলম্বন করা এবং সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখা।
  4. আল্লাহর গুণাবলী সম্পর্কে জানা এবং চিন্তা করা ঈমানকে দৃঢ় করে। তাঁর পরাক্রমশালিতা ও প্রজ্ঞা উপলব্ধি করলে মানুষের অন্তরে তাঁর প্রতি ভয় ও ভালোবাসা বৃদ্ধি পায়।
  5. এই আয়াত প্রমাণ করে যে, প্রকৃত জ্ঞান ও ঈমান একে অপরের পরিপূরক। জ্ঞানী ব্যক্তিরাই আল্লাহর একত্ব ও ন্যায়বিচার সম্পর্কে মানুষের কাছে সাক্ষ্য দিতে পারেন।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 16-20 — আল-ইমরান

16ٱلَّذِينَ يَقُولُونَ رَبَّنَآ إِنَّنَآ ءَامَنَّا فَٱغۡفِرۡ لَنَا ذُنُوبَنَا وَقِنَا عَذَابَ ٱلنَّارِ 
যারা বলে, হে আমাদের পালনকর্তা, আমরা ঈমান এনেছি, কাজেই আমাদের গোনাহ ক্ষমা করে দাও আর আমাদেরকে দোযখের আযাব থেকে রক্ষা কর।
17ٱلصَّٰبِرِينَ وَٱلصَّٰدِقِينَ وَٱلۡقَٰنِتِينَ وَٱلۡمُنفِقِينَ وَٱلۡمُسۡتَغۡفِرِينَ بِٱلۡأَسۡحَارِ 
তারা ধৈর্য্যধারণকারী, সত্যবাদী, নির্দেশ সম্পাদনকারী, সৎপথে ব্যয়কারী এবং শেষরাতে ক্ষমা প্রার্থনাকারী।
18شَهِدَ ٱللَّهُ أَنَّهُۥ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ وَٱلۡمَلَٰٓئِكَةُ وَأُوْلُواْ ٱلۡعِلۡمِ قَآئِمَۢا بِٱلۡقِسۡطِۚ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ٱلۡعَزِيزُ ٱلۡحَكِيمُ 
আল্লাহ সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, তাঁকে ছাড়া আর কোন উপাস্য নেই। ফেরেশতাগণ এবং ন্যায়নিষ্ঠ জ্ঞানীগণও সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, তিনি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই। তিনি পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময়।
19إِنَّ ٱلدِّينَ عِندَ ٱللَّهِ ٱلۡإِسۡلَٰمُۗ وَمَا ٱخۡتَلَفَ ٱلَّذِينَ أُوتُواْ ٱلۡكِتَٰبَ إِلَّا مِنۢ بَعۡدِ مَا جَآءَهُمُ ٱلۡعِلۡمُ بَغۡيَۢا بَيۡنَهُمۡۗ وَمَن يَكۡفُرۡ بِـَٔايَٰتِ ٱللَّهِ فَإِنَّ ٱللَّهَ سَرِيعُ ٱلۡحِسَابِ 
নিঃসন্দেহে আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য দ্বীন একমাত্র ইসলাম। এবং যাদের প্রতি কিতাব দেয়া হয়েছে তাদের নিকট প্রকৃত জ্ঞান আসার পরও ওরা মতবিরোধে লিপ্ত হয়েছে, শুধুমাত্র পরস্পর বিদ্বেষবশতঃ, যারা আল্লাহর নিদর্শনসমূহের প্রতি কুফরী করে তাদের জানা উচিত যে, নিশ্চিতরূপে আল্লাহ হিসাব গ্রহণে অত্যন্ত দ্রুত।
20فَإِنۡ حَآجُّوكَ فَقُلۡ أَسۡلَمۡتُ وَجۡهِيَ لِلَّهِ وَمَنِ ٱتَّبَعَنِۗ وَقُل لِّلَّذِينَ أُوتُواْ ٱلۡكِتَٰبَ وَٱلۡأُمِّيِّـۧنَ ءَأَسۡلَمۡتُمۡۚ فَإِنۡ أَسۡلَمُواْ فَقَدِ ٱهۡتَدَواْۖ وَّإِن تَوَلَّوۡاْ فَإِنَّمَا عَلَيۡكَ ٱلۡبَلَٰغُۗ وَٱللَّهُ بَصِيرُۢ بِٱلۡعِبَادِ 
যদি তারা তোমার সাথে বিতর্কে অবতীর্ণ হয় তবে বলে দাও, "আমি এবং আমার অনুসরণকারীগণ আল্লাহর প্রতি আত্নসমর্পণ করেছি।" আর আহলে কিতাবদের এবং নিরক্ষরদের বলে দাও যে, তোমরাও কি আত্নসমর্পণ করেছ? তখন যদি তারা আত্নসমর্পণ করে, তবে সরল পথ প্রাপ্ত হলো, আর যদি মুখ ঘুরিয়ে নেয়, তাহলে তোমার দায়িত্ব হলো শুধু পৌছে দেয়া। আর আল্লাহর দৃষ্টিতে রয়েছে সকল বান্দা।
আল-ইমরানকুরআন সূচী
200আয়াত
মাদানীRevelation
18আয়াত

অনুবাদ — আল-ইমরান 18

সূরা আয়াত 18/200 — আল-ইমরান آل عمران (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আল-ইমরান শুনুন, আল-ইমরান অনুবাদ, আল-ইমরান mp3, আল-ইমরান pdf. আয়াত 16–20. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না