আল-ইমরান · 26/200
অনুবাদ উচ্চারণ — আল-ইমরান
قُلِ اللَّهُمَّ مَالِكَ الْمُلْكِ تُؤْتِي الْمُلْكَ مَن تَشَاءُ وَتَنزِعُ الْمُلْكَ مِمَّن تَشَاءُ وَتُعِزُّ مَن تَشَاءُ وَتُذِلُّ مَن تَشَاءُ ۖ بِيَدِكَ الْخَيْرُ ۖ إِنَّكَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ ۝٢٦
Qulil laahumma Maalikal Mulki tu`til mulka man tashaaa`u wa tanzi`ulmulka mimman tashhaaa`u wa tu`izzu man tashaaa`u wa tuzillu man tashaaa`u biyadikal khairu innaka `alaa kulli shai`in Qadeer
📖 বাংলা অর্থ
বলুন ইয়া আল্লাহ! তুমিই সার্বভৌম শক্তির অধিকারী। তুমি যাকে ইচ্ছা রাজ্য দান কর এবং যার কাছ থেকে ইচ্ছা রাজ্য ছিনিয়ে নাও এবং যাকে ইচ্ছা সম্মান দান কর আর যাকে ইচ্ছা অপমানে পতিত কর। তোমারই হাতে রয়েছে যাবতীয় কল্যাণ। নিশ্চয়ই তুমি সর্ব বিষয়ে ক্ষমতাশীল।
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • اللَّهُمَّ – হে আল্লাহ! (এটি আল্লাহ তাআলারই একটি নাম, যা দিয়ে কেবল তাঁকেই ডাকা হয়)
  • مَالِكَ الْمُلْكِ – যিনি সকল রাজত্ব ও সার্বভৌমত্বের মালিক
  • تُؤْتِي – তুমি দান করো
  • تَنزِعُ – তুমি কেড়ে নাও
  • تُعِزُّ – তুমি সম্মান দান করো
  • تُذِلُّ – তুমি অপমানিত করো
  • بِيَدِكَ الْخَيْرُ – তোমারই হাতে (নিয়ন্ত্রণে) রয়েছে সকল কল্যাণ

তাফসির:

হে নবী! আপনি আপনার রবের দিকে মনোনিবেশ করে দুআর ভাষায় বলুন: “হে আল্লাহ! আপনিই সকল রাজত্বের একমাত্র মালিক। আপনি যাকে ইচ্ছা রাজত্ব, ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব দান করেন এবং যার থেকে ইচ্ছা তা কেড়ে নেন। দুনিয়া ও আখিরাতে আপনি যাকে ইচ্ছা সম্মান ও মর্যাদা দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা অপমানিত ও লাঞ্ছিত করেন। এসব কিছুই ঘটে আপনার পূর্ণ হিকমত ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে। আপনারই হাতে রয়েছে সমস্ত কল্যাণ—দুনিয়ার কল্যাণ হোক বা আখিরাতের। নিশ্চয়ই আপনি প্রতিটি বিষয়ে সম্পূর্ণ ক্ষমতাবান; আপনার জন্য কিছুই কঠিন নয়।”

এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের শেখাচ্ছেন কীভাবে তাঁকে সম্বোধন করতে হয় এবং কীভাবে তাঁর প্রশংসা করতে হয়। এখানে আল্লাহর জন্য ‘হাত’ সিফাত (গুণ) প্রমাণিত হয়—যা তাঁর শান ও মর্যাদার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ, কোনো সৃষ্টির হাতের সাথে সাদৃশ্যহীন। আয়াতটি শুধু রাজত্বের কথাই বলেনি, বরং সম্মান-অপমান, দান-প্রত্যহার—সবকিছুই আল্লাহর ইচ্ছা ও ক্ষমতার অধীনে বলেছে। এটি মুমিনের অন্তরে আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও ভরসা সৃষ্টি করে।

শিক্ষা ও উপকারিতা:

  1. তাওহিদের পূর্ণ ঘোষণা: এই আয়াত প্রমাণ করে যে, সার্বভৌম ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের একমাত্র মালিক আল্লাহ। কোনো রাজা, রাষ্ট্রপ্রধান বা ক্ষমতাধর ব্যক্তি নিজের ইচ্ছায় কিছু করতে পারে না; সবকিছু ঘটে আল্লাহর ইচ্ছাতেই।
  2. আল্লাহর প্রতি পূর্ণ ভরসা: যখন আমরা জানি যে, সম্মান-অপমান, দান-বঞ্চনা—সবকিছু আল্লাহর হাতে, তখন আমরা মানুষের কাছে মাথা নত করা থেকে মুক্ত হয়ে যাই এবং কেবল আল্লাহর ওপরই ভরসা করি।
  3. দুআর শিক্ষা: আয়াতটি আমাদের শেখায় কীভাবে আল্লাহর কাছে দুআ করতে হয়—প্রশংসার মাধ্যমে শুরু করে নিজের প্রয়োজন পেশ করা। এটি দুআ কবুলের একটি উত্তম পদ্ধতি।
  4. ক্ষমতার সঠিক ব্যবহার: যারা ক্ষমতায় আছে তাদের মনে রাখা উচিত যে, এই ক্ষমতা আল্লাহর দান; তিনি যেকোনো সময় তা কেড়ে নিতে পারেন। তাই ক্ষমতার অপব্যবহার না করে ন্যায়বিচার ও মানুষের কল্যাণে তা ব্যবহার করা উচিত।
  5. আশা ও ভয়ের সমন্বয়: আয়াতটি মুমিনের মনে আল্লাহর রহমতের আশা জাগায় (তিনি যাকে ইচ্ছা সম্মান দেন) এবং সাথে সাথে আল্লাহর শাস্তির ভয়ও সৃষ্টি করে (তিনি যাকে ইচ্ছা অপমানিত করেন)। এই সমন্বয়ই একজন মুমিনের জীবনকে সঠিক পথে পরিচালিত করে।
  6. সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস: “إِنَّكَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ” (নিশ্চয়ই আপনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান) — এই ঘোষণা মুমিনের অন্তরে দৃঢ় বিশ্বাস তৈরি করে যে, আল্লাহর জন্য কিছুই অসম্ভব নয়। তাই যেকোনো সংকটে আমরা তাঁর কাছেই সাহায্য চাইব।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 24-28 — আল-ইমরান

24ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمْ قَالُوا لَن تَمَسَّنَا النَّارُ إِلَّا أَيَّامًا مَّعْدُودَاتٍ ۖ وَغَرَّهُمْ فِي دِينِهِم مَّا كَانُوا يَفْتَرُونَ
তা এজন্য যে, তারা বলে থাকে যে, দোযখের আগুন আমাদের স্পর্শ করবে না; তবে সামান্য হাতে গোনা কয়েকদিনের জন্য স্পর্শ করতে পারে। নিজেদের উদ্ভাবিত ভিত্তিহীন কথায় তারা ধোকা খেয়েছে।
25فَكَيْفَ إِذَا جَمَعْنَاهُمْ لِيَوْمٍ لَّا رَيْبَ فِيهِ وَوُفِّيَتْ كُلُّ نَفْسٍ مَّا كَسَبَتْ وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ
কিন্তু তখন কি অবস্থা দাঁড়াবে যখন আমি তাদেরকে একদিন সমবেত করবো যে দিনের আগমনে কোন সন্দেহ নেই আর নিজেদের কৃতকর্ম তাদের প্রত্যেকেই পাবে তাদের প্রাপ্য প্রদান মোটেই অন্যায় করা হবে না।
26قُلِ اللَّهُمَّ مَالِكَ الْمُلْكِ تُؤْتِي الْمُلْكَ مَن تَشَاءُ وَتَنزِعُ الْمُلْكَ مِمَّن تَشَاءُ وَتُعِزُّ مَن تَشَاءُ وَتُذِلُّ مَن تَشَاءُ ۖ بِيَدِكَ الْخَيْرُ ۖ إِنَّكَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
বলুন ইয়া আল্লাহ! তুমিই সার্বভৌম শক্তির অধিকারী। তুমি যাকে ইচ্ছা রাজ্য দান কর এবং যার কাছ থেকে ইচ্ছা রাজ্য ছিনিয়ে নাও এবং যাকে ইচ্ছা সম্মান দান কর আর যাকে ইচ্ছা অপমানে পতিত কর। তোমারই হাতে রয়েছে যাবতীয় কল্যাণ। নিশ্চয়ই তুমি সর্ব বিষয়ে ক্ষমতাশীল।
27تُولِجُ اللَّيْلَ فِي النَّهَارِ وَتُولِجُ النَّهَارَ فِي اللَّيْلِ ۖ وَتُخْرِجُ الْحَيَّ مِنَ الْمَيِّتِ وَتُخْرِجُ الْمَيِّتَ مِنَ الْحَيِّ ۖ وَتَرْزُقُ مَن تَشَاءُ بِغَيْرِ حِسَابٍ
তুমি রাতকে দিনের ভেতরে প্রবেশ করাও এবং দিনকে রাতের ভেতরে প্রবেশ করিয়ে দাও। আর তুমিই জীবিতকে মৃতের ভেতর থেকে বের করে আন এবং মৃতকে জীবিতের ভেতর থেকে বের কর। আর তুমিই যাকে ইচ্ছা বেহিসাব রিযিক দান কর।
28لَّا يَتَّخِذِ الْمُؤْمِنُونَ الْكَافِرِينَ أَوْلِيَاءَ مِن دُونِ الْمُؤْمِنِينَ ۖ وَمَن يَفْعَلْ ذَٰلِكَ فَلَيْسَ مِنَ اللَّهِ فِي شَيْءٍ إِلَّا أَن تَتَّقُوا مِنْهُمْ تُقَاةً ۗ وَيُحَذِّرُكُمُ اللَّهُ نَفْسَهُ ۗ وَإِلَى اللَّهِ الْمَصِيرُ
মুমিনগন যেন অন্য মুমিনকে ছেড়ে কেন কাফেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করে। যারা এরূপ করবে আল্লাহর সাথে তাদের কেন সম্পর্ক থাকবে না। তবে যদি তোমরা তাদের পক্ষ থেকে কোন অনিষ্টের আশঙ্কা কর, তবে তাদের সাথে সাবধানতার সাথে থাকবে আল্লাহ তা’আলা তাঁর সম্পর্কে তোমাদের সতর্ক করেছেন। এবং সবাই কে তাঁর কাছে ফিরে যেতে হবে।
আল-ইমরানকুরআন সূচী
200আয়াত
মাদানীRevelation
26আয়াত

অনুবাদ — আল-ইমরান 26

সূরা আল-ইমরান আয়াত 26 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : বলুন ইয়া আল্লাহ! তুমিই সার্বভৌম শক্তির অধিকারী। তুমি যাকে ইচ্ছা…

সূরা আয়াত 26/200 — আল-ইমরান آل عمران (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আল-ইমরান শুনুন, আল-ইমরান অনুবাদ, আল-ইমরান mp3, আল-ইমরান pdf. আয়াত 24–28. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না