Fakaifa izaa jama`naahum li Yawmil laa raiba fee wa wuffiyat kullu nafsim maa kasabat wa hum laa yuzlamoon
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
কিন্তু তখন কি অবস্থা দাঁড়াবে যখন আমি তাদেরকে একদিন সমবেত করবো যে দিনের আগমনে কোন সন্দেহ নেই আর নিজেদের কৃতকর্ম তাদের প্রত্যেকেই পাবে তাদের প্রাপ্য প্রদান মোটেই অন্যায় করা হবে না।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
फ़िर उनकी क्या गत होगी जब हम उनको एक दिन (क़यामत) जिसके आने में कोई शुबहा नहीं इक्ट्ठा करेंगे और हर शख्स को उसके किए का पूरा पूरा बदला दिया जाएगा और उनकी किसी तरह हक़तल्फ़ी नहीं की जाएगी
কিন্তু তখন কি অবস্থা দাঁড়াবে যখন আমি তাদেরকে একদিন সমবেত করবো যে দিনের আগমনে কোন সন্দেহ নেই আর নিজেদের কৃতকর্ম তাদের প্রত্যেকেই পাবে তাদের প্রাপ্য প্রদান মোটেই অন্যায় করা হবে না।
📜
অনুবাদ — Tafsir
কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দের অর্থ:
فَكَيْفَ – তাহলে কেমন হবে (অবস্থা)?
جَمَعْنَاهُمْ – আমরা তাদেরকে একত্র করব।
لِيَوْمٍ لَّا رَيْبَ فِيهِ – সেই দিনের জন্যে, যাতে কোনো সন্দেহ নেই (অর্থাৎ কিয়ামতের দিন)।
وُفِّيَتْ – পূর্ণরূপে দেওয়া হবে (পরিপূর্ণভাবে আদায় করা হবে)।
مَّا كَسَبَتْ – যা সে উপার্জন করেছে (নেক বা গুনাহ)।
لَا يُظْلَمُونَ – তাদের প্রতি কোনো জুলুম/অবিচার করা হবে না।
সম্পূর্ণ তাফসির:
তাহলে চিন্তা করুন, কেমন হবে তাদের অবস্থা, যখন আমি (আল্লাহ) তাদের সবাইকে একত্র করব সেই নির্ধারিত দিনে — যে দিনের আগমন সম্পর্কে কোনো সন্দেহ নেই, অর্থাৎ কিয়ামতের দিন? সেদিন প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার কৃতকর্মের পূর্ণ ফল দেওয়া হবে — ভালো কাজের জন্য ভালো প্রতিদান এবং মন্দ কাজের জন্য শাস্তি। সেদিন কারো প্রতি সামান্যতম জুলুম করা হবে না; কারো নেকির হিসাব কমানো হবে না, আবার কারো গুনাহের শাস্তি বাড়ানোও হবে না। প্রত্যেকে তার নিজের কাজের যথাযথ ফল পাবে।
যারা দুনিয়ায় আল্লাহর আয়াত অস্বীকার করে এবং নিজেদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে, তাদের জন্য সেদিন হবে চরম আফসোস ও অনুতাপের দিন। তারা যখন নিজেদের কৃতকর্মের ফল দেখবে, তখন তারা বুঝতে পারবে যে দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী সুখ-সম্ভোগের বিনিময়ে তারা চিরন্তন শাস্তি অর্জন করেছে।
শিক্ষা ও উপকারিতা:
আখিরাতে বিশ্বাস – এই আয়াত আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে কিয়ামত অবশ্যই আসবে এবং সেদিন সবাইকে আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে হবে। এই বিশ্বাস মানুষকে দুনিয়ার জীবনে সতর্ক ও দায়িত্বশীল করে তোলে।
নিখুঁত বিচারব্যবস্থা – আল্লাহর বিচার সম্পূর্ণ ন্যায়সংগত। সেখানে কোনো প্রভাব-প্রতিপত্তি, সুপারিশ বা অন্যায়ভাবে কারো ক্ষতি-উপকার করা হবে না। প্রত্যেকে তার কাজের সঠিক ফল পাবে।
কর্মফলের নীতি – এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, দুনিয়ার প্রতিটি কাজের হিসাব আছে। ভালো কাজ করলে ভালো ফল পাব, আর মন্দ কাজ করলে তার পরিণতি ভোগ করতে হবে। তাই আমাদের উচিত জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে সৎকর্ম করা এবং গুনাহ থেকে দূরে থাকা।
আল্লাহর রহমতের আশা – যদিও বিচার কঠোর, তবুও আল্লাহর রহমত অপরিসীম। যে ব্যক্তি দুনিয়ায় তাওবা করে নিজেকে সংশোধন করে নেয়, আল্লাহ তার প্রতি দয়ালু হবেন। তাই এই আয়াত আমাদেরকে আল্লাহর দিকে ফিরে আসার এবং তাঁর রহমত কামনা করার প্রেরণা দেয়।
দুনিয়ার জীবনের গুরুত্ব – এই আয়াত থেকে আমরা বুঝতে পারি যে, দুনিয়ার জীবনই হলো পরীক্ষার স্থান। এখানে আমরা যা কিছু করি, তার সবই রেকর্ড হচ্ছে এবং আখিরাতে তার পূর্ণ হিসাব দেওয়া হবে। তাই আমাদের উচিত দুনিয়ার জীবনকে আখিরাতের সফলতার জন্য কাজে লাগানো।
আপনি কি তাদের দেখেননি, যারা কিতাবের কিছু অংশ পেয়েছে-আল্লাহর কিতাবের প্রতি তাদের আহবান করা হয়েছিল যাতে তাদের মধ্যে মীমাংসা করা যায়। অতঃপর তাদের মধ্যে একদল তা অমান্য করে মুখ ফিরিয়ে নেয়।
তা এজন্য যে, তারা বলে থাকে যে, দোযখের আগুন আমাদের স্পর্শ করবে না; তবে সামান্য হাতে গোনা কয়েকদিনের জন্য স্পর্শ করতে পারে। নিজেদের উদ্ভাবিত ভিত্তিহীন কথায় তারা ধোকা খেয়েছে।
কিন্তু তখন কি অবস্থা দাঁড়াবে যখন আমি তাদেরকে একদিন সমবেত করবো যে দিনের আগমনে কোন সন্দেহ নেই আর নিজেদের কৃতকর্ম তাদের প্রত্যেকেই পাবে তাদের প্রাপ্য প্রদান মোটেই অন্যায় করা হবে না।
বলুন ইয়া আল্লাহ! তুমিই সার্বভৌম শক্তির অধিকারী। তুমি যাকে ইচ্ছা রাজ্য দান কর এবং যার কাছ থেকে ইচ্ছা রাজ্য ছিনিয়ে নাও এবং যাকে ইচ্ছা সম্মান দান কর আর যাকে ইচ্ছা অপমানে পতিত কর। তোমারই হাতে রয়েছে যাবতীয় কল্যাণ। নিশ্চয়ই তুমি সর্ব বিষয়ে ক্ষমতাশীল।
তুমি রাতকে দিনের ভেতরে প্রবেশ করাও এবং দিনকে রাতের ভেতরে প্রবেশ করিয়ে দাও। আর তুমিই জীবিতকে মৃতের ভেতর থেকে বের করে আন এবং মৃতকে জীবিতের ভেতর থেকে বের কর। আর তুমিই যাকে ইচ্ছা বেহিসাব রিযিক দান কর।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।