আন-নিসা · 107/176
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আন-নিসা
وَلَا تُجَادِلْ عَنِ الَّذِينَ يَخْتَانُونَ أَنفُسَهُمْ ۚ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ مَن كَانَ خَوَّانًا أَثِيمًا ۝١٠٧
Wa laa tujaadil `anil lazeena yakhtaanoona anfusahum; innal laaha laa yuhibbuman kaana khawwaanan aseemaa
📖 বাংলা অর্থ
যারা মনে বিশ্বাস ঘাতকতা পোষণ করে তাদের পক্ষ থেকে বিতর্ক করবেন না। আল্লাহ পছন্দ করেন না তাকে, যে বিশ্বাস ঘাতক পাপী হয়।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

কয়েকটি শব্দের অর্থ:

  • تُجَادِلْ – বিতর্ক করা, পক্ষ সমর্থন করা, ওকালতি করা।
  • يَخْتَانُونَ – খিয়ানত করে, বিশ্বাসঘাতকতা করে (এখানে নিজেদের ক্ষতি নিজেরাই করে)।
  • أَنفُسَهُمْ – নিজেদেরকে।
  • خَوَّانًا – যে অধিক খিয়ানতকারী, বিশ্বাসঘাতকতায় অভ্যস্ত।
  • أَثِيمًا – যে অধিক পাপী, গুনাহগার।

তাফসির (ব্যাখ্যা):

এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সম্বোধন করে নির্দেশ দিচ্ছেন যে, যারা নিজেদের আত্মার সাথে খিয়ানত করে—অর্থাৎ গুনাহ ও অপরাধের মাধ্যমে নিজেদেরকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়—তাদের পক্ষ হয়ে তুমি কারো সাথে বিতর্ক করো না, তাদের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পর তাদেরকে রক্ষা করার চেষ্টা করো না। কারণ, যে ব্যক্তি খিয়ানত করে এবং সাথে সাথে পাপাচারে লিপ্ত থাকে, আল্লাহ তাকে ভালোবাসেন না। বরং তিনি এমন খিয়ানতকারী ও পাপী লোকদের প্রতি অসন্তুষ্ট হন।

আয়াতের প্রেক্ষাপটে উল্লেখ আছে যে, এক ব্যক্তি (তুমা ইবনে উবাইরিক) একটি বর্ম চুরি করেছিল এবং অন্য এক নিরপরাধ ইয়াহুদীকে দোষারোপ করেছিল। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন বিষয়টি জানতে পারেন, তখন তিনি নিরপরাধ ব্যক্তিকে রক্ষা করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু আল্লাহ তাআলা এই আয়াত নাযিল করে স্পষ্ট করে দেন যে, প্রকৃত অপরাধীকে রক্ষা করার চেষ্টা করা উচিত নয়, বরং সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে থাকা উচিত। খিয়ানতকারীকে বাঁচাতে গিয়ে নিজেও যেন খিয়ানতের অংশীদার না হয়ে যাওয়া হয়।

মূল কথা হলো, কোনো মুসলিমের উচিত নয় অপরাধী ও বিশ্বাসঘাতক লোকদের পক্ষ নেওয়া, তাদের অপরাধ ঢাকতে সাহায্য করা, বা তাদের জন্য ওকালতি করা। বরং সত্য প্রকাশ করা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করাই ঈমানের দাবি।


শিক্ষা ও উপকারিতা:

  1. ন্যায়বিচারের প্রতি কঠোর নির্দেশ: ইসলাম কখনো অপরাধীকে প্রশ্রয় দেয় না, এমনকি নিজের আত্মীয় বা কাছের মানুষ হলেও। সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে থাকাই মুমিনের কর্তব্য।
  2. খিয়ানত ও পাপাচারের পরিণাম: আল্লাহ তাআলা খিয়ানতকারী ও পাপী ব্যক্তিদের ভালোবাসেন না। এটি তাদের জন্য কঠিন সতর্কবার্তা যে, দুনিয়াতে তারা যতই চালাকি করুক না কেন, আল্লাহর ভালোবাসা থেকে তারা বঞ্চিত।
  3. অপরাধ ঢাকার ভয়াবহতা: যে ব্যক্তি অপরাধীকে রক্ষা করতে গিয়ে সত্য গোপন করে, সে নিজেও আল্লাহর অসন্তুষ্টির শিকার হয়। তাই সত্যের পক্ষে সাহসী ভূমিকা রাখা ঈমানের পরিচয়।
  4. আত্মার খিয়ানত থেকে সতর্কতা: প্রতিটি গুনাহ আসলে নিজের আত্মার সাথে খিয়ানত। কারণ এর ক্ষতি প্রথমে নিজেকেই ভোগ করতে হয়। তাই নিজের ক্ষতি নিজে না করার জন্য গুনাহ থেকে দূরে থাকা জরুরি।
  5. রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর অনুসরণ: এই নির্দেশ প্রমাণ করে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-ও আল্লাহর নির্দেশের বাইরে কারো পক্ষ নিতে পারতেন না। এটি ইসলামের ন্যায়বিচার ব্যবস্থার অনন্য দৃষ্টান্ত।


📜 আয়াত 105-109 — সূরা আন-নিসা

105إِنَّا أَنزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ لِتَحْكُمَ بَيْنَ النَّاسِ بِمَا أَرَاكَ اللَّهُ ۚ وَلَا تَكُن لِّلْخَائِنِينَ خَصِيمًا
নিশ্চয় আমি আপনার প্রতি সত্য কিতাব অবতীর্ণ করেছি, যাতে আপনি মানুষের মধ্যে ফয়সালা করেন, যা আল্লাহ আপনাকে হৃদয়ঙ্গম করান। আপনি বিশ্বাসঘাতকদের পক্ষ থেকে বিতর্ককারী হবেন না।
106وَاسْتَغْفِرِ اللَّهَ ۖ إِنَّ اللَّهَ كَانَ غَفُورًا رَّحِيمًا
এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু।
107وَلَا تُجَادِلْ عَنِ الَّذِينَ يَخْتَانُونَ أَنفُسَهُمْ ۚ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ مَن كَانَ خَوَّانًا أَثِيمًا
যারা মনে বিশ্বাস ঘাতকতা পোষণ করে তাদের পক্ষ থেকে বিতর্ক করবেন না। আল্লাহ পছন্দ করেন না তাকে, যে বিশ্বাস ঘাতক পাপী হয়।
108يَسْتَخْفُونَ مِنَ النَّاسِ وَلَا يَسْتَخْفُونَ مِنَ اللَّهِ وَهُوَ مَعَهُمْ إِذْ يُبَيِّتُونَ مَا لَا يَرْضَىٰ مِنَ الْقَوْلِ ۚ وَكَانَ اللَّهُ بِمَا يَعْمَلُونَ مُحِيطًا
তারা মানুষের কাছে লজ্জিত হয় এবং আল্লাহর কাছে লজ্জিত হয় না। তিনি তাদের সাথে রয়েছেন, যখন তারা রাত্রে এমন বিষয়ে পরামর্শ করে, যাতে আল্লাহ সম্মত নন। তারা যাকিছু করে, সবই আল্লাহর আয়ত্তাধীণ।
109هَا أَنتُمْ هَٰؤُلَاءِ جَادَلْتُمْ عَنْهُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا فَمَن يُجَادِلُ اللَّهَ عَنْهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَم مَّن يَكُونُ عَلَيْهِمْ وَكِيلًا
শুনছ? তোমরা তাদের পক্ষ থেকে পার্থিব জীবনে বিবাদ করছ, অতঃপর কেয়ামতের দিনে তাদের পক্ষ হয়ে আল্লাহর সাথে কে বিবাদ করবে অথবা কে তাদের কার্যনির্বাহী হবে।
আন-নিসাকুরআন সূচী
176আয়াত
মাদানীঅবতরণস্থান
107আয়াত

অনুবাদ — আন-নিসা 107

সূরা আন-নিসা আয়াত 107 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : যারা মনে বিশ্বাস ঘাতকতা পোষণ করে তাদের পক্ষ থেকে বিতর্ক…

সূরা আয়াত 107/176 — সূরা আন-নিসা النساء (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আন-নিসা শুনুন, সূরা আন-নিসা অনুবাদ, সূরা আন-নিসা mp3, সূরা আন-নিসা pdf. আয়াত 105–109. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Wednesday, September 30, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না