আন-নিসা · 148/176
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আন-নিসা
۞ لَّا يُحِبُّ اللَّهُ الْجَهْرَ بِالسُّوءِ مِنَ الْقَوْلِ إِلَّا مَن ظُلِمَ ۚ وَكَانَ اللَّهُ سَمِيعًا عَلِيمًا ۝١٤٨
Laa yuhibbullaahul jahra bis sooo`i minal qawli illaa man zulim; wa kaanallaahu Samee`an `Aleeman
📖 বাংলা অর্থ
আল্লাহ কোন মন্দ বিষয় প্রকাশ করা পছন্দ করেন না। তবে কারো প্রতি জুলুম হয়ে থাকলে সে কথা আলাদা। আল্লাহ শ্রবণকারী, বিজ্ঞ।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দের অর্থ:

  • الْجَهْرَ = প্রকাশ্যে বলা, উচ্চৈঃস্বরে বলা
  • بِالسُّوءِ = মন্দ কথা, খারাপ কথা
  • مِنَ الْقَوْلِ = কথার মধ্যে থেকে
  • إِلَّا مَن ظُلِمَ = তবে যে অত্যাচারিত হয়েছে (সে ব্যতীত)
  • سَمِيعًا = সর্বশ্রোতা
  • عَلِيمًا = সর্বজ্ঞ

তাফসীর (ব্যাখ্যা):

আল্লাহ তাআলা মন্দ কথা প্রকাশ্যে বলা পছন্দ করেন না। অর্থাৎ, কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে খারাপ কথা বলা, গালি দেওয়া, অপমান করা, বা কোনো অন্যায় কথা জোরেশোরে বলা—এসব আল্লাহর কাছে অত্যন্ত অপছন্দনীয় এবং ঘৃণিত কাজ। ইসলামের দৃষ্টিতে মানুষের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তাই কারো সম্পর্কে মন্দ কথা প্রকাশ্যে বলা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

তবে এখানে একটি ব্যতিক্রম আছে—যে ব্যক্তি অত্যাচারিত বা জুলুমের শিকার হয়েছে, সে তার উপর হওয়া জুলুমের অভিযোগ প্রকাশ করতে পারে। যেমন, কেউ কারো সম্পদ আত্মসাৎ করলে, বা কারো সম্মানহানি করলে, অথবা কেউ তার উপর অন্যায় করলে—সে সেই অন্যায়ের কথা বলতে পারে, আদালতে বা জনসমক্ষে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলতে পারে, অথবা তার উপর অত্যাচারকারীর বিরুদ্ধে বদদোয়া করতে পারে এবং ন্যায়বিচার চাইতে পারে। তবে এটাও মনে রাখতে হবে যে, ধৈর্য ধারণ করা এবং ক্ষমা করে দেওয়া আরও উত্তম। ইসলাম সবসময় ধৈর্য ও ক্ষমাকে উৎসাহিত করে।

আল্লাহ তাআলা বলেন, তিনি সবকিছু শোনেন এবং সবকিছু জানেন। অর্থাৎ, তোমরা যা কিছু বলো, আল্লাহ তা শোনেন; আর তোমাদের অন্তরে যা আছে, তোমাদের নিয়ত ও উদ্দেশ্য সম্পর্কেও তিনি সম্পূর্ণ অবগত। তাই তোমাদের উচিত সতর্ক থাকা—কোনো মন্দ কথা বলার সময় বা মন্দ উদ্দেশ্য পোষণ করার সময় মনে রাখা যে, আল্লাহ সব দেখছেন ও শুনছেন। তিনি জুলুমের প্রতিকারও দেবেন এবং অন্যায়ের শাস্তিও দেবেন।

শিক্ষা ও উপকারিতা:

  1. ইসলাম একটি শালীন ও মার্জিত জীবনব্যবস্থা। এটি মানুষের মুখকে পবিত্র রাখতে শেখায় এবং মন্দ কথা বলা থেকে বিরত রাখে। একজন মুসলিমের উচিত সর্বদা ভালো কথা বলা এবং কাউকে কষ্ট দেয় এমন কথা এড়িয়ে চলা।
  2. অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা এবং জুলুমের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলা ইসলামে বৈধ। ইসলাম ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করতে উৎসাহিত করে। যারা নীরবে জুলুম সহ্য করে এবং অন্যায়ের প্রতিবাদ করে না, তারা ইসলামের দৃষ্টিতে দুর্বলতা প্রকাশ করে।
  3. ধৈর্য ও ক্ষমা করা সর্বোত্তম গুণ। এমনকি জুলুমের শিকার হয়েও যদি কেউ ধৈর্য ধারণ করে এবং আল্লাহর কাছে সওয়াবের আশা করে, তবে তা তার জন্য উত্তম। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনেও আমরা দেখতে পাই, তিনি কখনো ব্যক্তিগত আঘাতের জন্য প্রতিশোধ নেননি, বরং ক্ষমা করেছেন।
  4. আল্লাহ সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ। এই বিশ্বাস একজন মুমিনের অন্তরে আত্মসংযম তৈরি করে। যখন আমরা জানি যে, আল্লাহ আমাদের প্রতিটি কথা শোনেন এবং প্রতিটি কাজ দেখেন, তখন আমরা অন্যায় ও মন্দ কাজ থেকে দূরে থাকতে চেষ্টা করি।
  5. এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, ইসলামে সামাজিক শান্তি ও সম্প্রীতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মন্দ কথা প্রকাশ্যে বলা সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, সম্পর্ক নষ্ট করে এবং মানুষের মধ্যে ঘৃণা ছড়ায়। তাই ইসলাম এই কাজকে কঠোরভাবে নিষেধ করেছে।


📜 আয়াত 146-150 — সূরা আন-নিসা

146إِلَّا الَّذِينَ تَابُوا وَأَصْلَحُوا وَاعْتَصَمُوا بِاللَّهِ وَأَخْلَصُوا دِينَهُمْ لِلَّهِ فَأُولَٰئِكَ مَعَ الْمُؤْمِنِينَ ۖ وَسَوْفَ يُؤْتِ اللَّهُ الْمُؤْمِنِينَ أَجْرًا عَظِيمًا
অবশ্য যারা তওবা করে নিয়েছে, নিজেদের অবস্থার সংস্কার করেছে এবং আল্লাহর পথকে সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে আল্লাহর ফরমাবরদার হয়েছে, তারা থাকবে মুসলমানদেরই সাথে। বস্তুতঃ আল্লাহ শীঘ্রই ঈমানদারগণকে মহাপূণ্য দান করবেন।
147مَّا يَفْعَلُ اللَّهُ بِعَذَابِكُمْ إِن شَكَرْتُمْ وَآمَنتُمْ ۚ وَكَانَ اللَّهُ شَاكِرًا عَلِيمًا
তোমাদের আযাব দিয়ে আল্লাহ কি করবেন যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর এবং ঈমানের উপর প্রতিষ্ঠিত থাক! আর আল্লাহ হচ্ছেন সমুচিত মূল্যদানকারী সর্বজ্ঞ।
148۞ لَّا يُحِبُّ اللَّهُ الْجَهْرَ بِالسُّوءِ مِنَ الْقَوْلِ إِلَّا مَن ظُلِمَ ۚ وَكَانَ اللَّهُ سَمِيعًا عَلِيمًا
আল্লাহ কোন মন্দ বিষয় প্রকাশ করা পছন্দ করেন না। তবে কারো প্রতি জুলুম হয়ে থাকলে সে কথা আলাদা। আল্লাহ শ্রবণকারী, বিজ্ঞ।
149إِن تُبْدُوا خَيْرًا أَوْ تُخْفُوهُ أَوْ تَعْفُوا عَن سُوءٍ فَإِنَّ اللَّهَ كَانَ عَفُوًّا قَدِيرًا
তোমরা যদি কল্যাণ কর প্রকাশ্যভাবে কিংবা গোপনে অথবা যদি তোমরা আপরাধ ক্ষমা করে দাও, তবে জেনো, আল্লাহ নিজেও ক্ষমাকারী, মহাশক্তিশালী।
150إِنَّ الَّذِينَ يَكْفُرُونَ بِاللَّهِ وَرُسُلِهِ وَيُرِيدُونَ أَن يُفَرِّقُوا بَيْنَ اللَّهِ وَرُسُلِهِ وَيَقُولُونَ نُؤْمِنُ بِبَعْضٍ وَنَكْفُرُ بِبَعْضٍ وَيُرِيدُونَ أَن يَتَّخِذُوا بَيْنَ ذَٰلِكَ سَبِيلًا
যারা আল্লাহ ও তার রসূলের প্রতি অস্বীকৃতি জ্ঞাপনকারী তদুপরি আল্লাহ ও রসূলের প্রতি বিশ্বাসে তারতম্য করতে চায় আর বলে যে, আমরা কতককে বিশ্বাস করি কিন্তু কতককে প্রত্যাখ্যান করি এবং এরই মধ্যবর্তী কোন পথ অবলম্বন করতে চায়।
আন-নিসাকুরআন সূচী
176আয়াত
মাদানীঅবতরণস্থান
148আয়াত

অনুবাদ — আন-নিসা 148

সূরা আন-নিসা আয়াত 148 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : আল্লাহ কোন মন্দ বিষয় প্রকাশ করা পছন্দ করেন না। তবে…

সূরা আয়াত 148/176 — সূরা আন-নিসা النساء (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আন-নিসা শুনুন, সূরা আন-নিসা অনুবাদ, সূরা আন-নিসা mp3, সূরা আন-নিসা pdf. আয়াত 146–150. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Monday, September 28, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না