আন-নিসা · 63/176
অনুবাদ উচ্চারণ — আন-নিসা
أُولَٰئِكَ الَّذِينَ يَعْلَمُ اللَّهُ مَا فِي قُلُوبِهِمْ فَأَعْرِضْ عَنْهُمْ وَعِظْهُمْ وَقُل لَّهُمْ فِي أَنفُسِهِمْ قَوْلًا بَلِيغًا ۝٦٣
Ulaaa`ikal lazeena ya`la mullaahu maa fee quloobihim fa a`rid `anhum wa `izhum wa qul lahum feee anfusihim qawlam baleeghaa
📖 বাংলা অর্থ
এরা হলো সে সমস্ত লোক, যাদের মনের গোপন বিষয় সম্পর্কেও আল্লাহ তা’আলা অবগত। অতএব, আপনি ওদেরকে উপেক্ষা করুন এবং ওদেরকে সদুপদেশ দিয়ে এমন কোন কথা বলুন যা তাদের জন্য কল্যাণকর।
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • فَأَعْرِضْ عَنْهُمْ — তাদেরকে ছেড়ে দাও, তাদের শাস্তি/দণ্ড থেকে বিরত থাকো।
  • وَعِظْهُمْ — তাদেরকে উপদেশ দাও, ভয়-ভীতি দেখাও।
  • قَوْلًا بَلِيغًا — এমন প্রভাবশালী ও মর্মস্পর্শী কথা যা তাদের অন্তরে গভীরভাবে পৌঁছে যায় এবং তাদেরকে কাঁপিয়ে দেয়।

তাফসির:

এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা তাঁর নবী (সা.)-কে সেই মুনাফিকদের সম্পর্কে অবহিত করছেন, যারা মুখে ঈমানের দাবি করে কিন্তু অন্তরে কুফর ও প্রতারণা লালন করে। আল্লাহ তাদের অন্তরের গোপন বিষয়সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত — তাদের নিফাক, মন্দ উদ্দেশ্য এবং প্রতারণার কথা তিনি জানেন। তাই আল্লাহ তাঁর নবীকে নির্দেশ দিচ্ছেন:

  1. তাদেরকে ছেড়ে দিন — অর্থাৎ তাদের প্রতি শাস্তি বা কঠোর ব্যবস্থা প্রয়োগ করবেন না, তাদের সাথে বাহ্যিক আচরণ স্বাভাবিক রাখুন।
  2. তাদেরকে উপদেশ দিন — তাদের সামনে সত্য ও ন্যায়ের কথা পেশ করুন, তাদের ভুল বুঝিয়ে দিন এবং আল্লাহর শাস্তির ভয় দেখান, যাতে তারা তাওবা করে।
  3. তাদের সাথে ব্যক্তিগতভাবে মর্মস্পর্শী কথা বলুন — তাদের একান্তে ডেকে এমন প্রভাবশালী ও হৃদয়গ্রাহী ভাষায় উপদেশ দিন যা তাদের অন্তরে গেঁথে যায় এবং তাদের বিবেককে জাগ্রত করে। তাদের সামনে আল্লাহর ভয়, আখিরাতের হিসাব এবং শাস্তির কথা এমনভাবে উপস্থাপন করুন যাতে তারা নিজেদের ভুল বুঝতে পারে এবং সংশোধনের পথ খুঁজে পায়।

এখানে শিক্ষণীয় বিষয় হলো — মুনাফিকদের সাথে আচরণে কোমলতা ও প্রজ্ঞা অবলম্বন করা, তাদেরকে প্রকাশ্যে অপমান না করা, বরং তাদের সংশোধনের সুযোগ দেওয়া। কারণ আল্লাহ তাদের প্রকৃত অবস্থা জানেন এবং তাদের হিসাব আল্লাহর কাছে থাকবে।

শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. আল্লাহ তাআলা প্রতিটি মানুষের অন্তরের গোপন বিষয় সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত। তাই আমাদের উচিত অন্তরকে পবিত্র রাখা এবং মুখে ও কাজে সততা অবলম্বন করা।
  2. অন্যদের ভুল-ত্রুটি দেখলে তাদের প্রতি ক্ষমাশীল ও সহানুভূতিশীল হওয়া উচিত, তাদের সংশোধনের জন্য কোমল উপদেশ দেওয়া উচিত — এটিই ইসলামের শিক্ষা।
  3. উপদেশ ও নসিহত এমন ভাষায় হতে হবে যা মানুষের হৃদয়ে প্রভাব ফেলে, তাদেরকে ভালোবাসা ও ভয়ের মাধ্যমে সঠিক পথে আনে। রূঢ়তা ও কঠোরতা নয়, বরং প্রজ্ঞা ও মমত্ববোধ দিয়ে মানুষকে হেদায়েতের পথে আনা ইসলামের মহান আদর্শ।
  4. মানুষের দোষ-ত্রুটি প্রকাশ না করে গোপনে উপদেশ দেওয়া অধিক ফলপ্রসূ — এটি ইসলামী আচরণের একটি সুন্দর দিক।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 61-65 — আন-নিসা

61وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ تَعَالَوْا إِلَىٰ مَا أَنزَلَ اللَّهُ وَإِلَى الرَّسُولِ رَأَيْتَ الْمُنَافِقِينَ يَصُدُّونَ عَنكَ صُدُودًا
আর যখন আপনি তাদেরকে বলবেন, আল্লাহর নির্দেশের দিকে এসো-যা তিনি রসূলের প্রতি নাযিল করেছেন, তখন আপনি মুনাফেকদিগকে দেখবেন, ওরা আপনার কাছ থেকে সম্পূর্ণ ভাবে সরে যাচ্ছে।
62فَكَيْفَ إِذَا أَصَابَتْهُم مُّصِيبَةٌ بِمَا قَدَّمَتْ أَيْدِيهِمْ ثُمَّ جَاءُوكَ يَحْلِفُونَ بِاللَّهِ إِنْ أَرَدْنَا إِلَّا إِحْسَانًا وَتَوْفِيقًا
এমতাবস্থায় যদি তাদের কৃতকর্মের দরুন বিপদ আরোপিত হয়, তবে তাতে কি হল! অতঃপর তারা আপনার কাছে আল্লাহর নামে কসম খেয়ে খেয়ে ফিরে আসবে যে, মঙ্গল ও সম্প্রীতি ছাড়া আমাদের অন্য কোন উদ্দেশ্য ছিল না।
63أُولَٰئِكَ الَّذِينَ يَعْلَمُ اللَّهُ مَا فِي قُلُوبِهِمْ فَأَعْرِضْ عَنْهُمْ وَعِظْهُمْ وَقُل لَّهُمْ فِي أَنفُسِهِمْ قَوْلًا بَلِيغًا
এরা হলো সে সমস্ত লোক, যাদের মনের গোপন বিষয় সম্পর্কেও আল্লাহ তা’আলা অবগত। অতএব, আপনি ওদেরকে উপেক্ষা করুন এবং ওদেরকে সদুপদেশ দিয়ে এমন কোন কথা বলুন যা তাদের জন্য কল্যাণকর।
64وَمَا أَرْسَلْنَا مِن رَّسُولٍ إِلَّا لِيُطَاعَ بِإِذْنِ اللَّهِ ۚ وَلَوْ أَنَّهُمْ إِذ ظَّلَمُوا أَنفُسَهُمْ جَاءُوكَ فَاسْتَغْفَرُوا اللَّهَ وَاسْتَغْفَرَ لَهُمُ الرَّسُولُ لَوَجَدُوا اللَّهَ تَوَّابًا رَّحِيمًا
বস্তুতঃ আমি একমাত্র এই উদ্দেশ্যেই রসূল প্রেরণ করেছি, যাতে আল্লাহর নির্দেশানুযায়ী তাঁদের আদেশ-নিষেধ মান্য করা হয়। আর সেসব লোক যখন নিজেদের অনিষ্ট সাধন করেছিল, তখন যদি আপনার কাছে আসত অতঃপর আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করত এবং রসূলও যদি তাদেরকে ক্ষমা করিয়ে দিতেন। অবশ্যই তারা আল্লাহকে ক্ষমাকারী, মেহেরবানরূপে পেত।
65فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّىٰ يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنفُسِهِمْ حَرَجًا مِّمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا
অতএব, তোমার পালনকর্তার কসম, সে লোক ঈমানদার হবে না, যতক্ষণ না তাদের মধ্যে সৃষ্ট বিবাদের ব্যাপারে তোমাকে ন্যায়বিচারক বলে মনে না করে। অতঃপর তোমার মীমাংসার ব্যাপারে নিজের মনে কোন রকম সংকীর্ণতা পাবে না এবং তা হূষ্টচিত্তে কবুল করে নেবে।
আন-নিসাকুরআন সূচী
176আয়াত
মাদানীRevelation
63আয়াত

অনুবাদ — আন-নিসা 63

সূরা আন-নিসা আয়াত 63 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : এরা হলো সে সমস্ত লোক, যাদের মনের গোপন বিষয় সম্পর্কেও…

সূরা আয়াত 63/176 — আন-নিসা النساء (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আন-নিসা শুনুন, আন-নিসা অনুবাদ, আন-নিসা mp3, আন-নিসা pdf. আয়াত 61–65. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না