আশ-শুরা · 10/53
অনুবাদ উচ্চারণ — আশ-শুরা
وَمَا اخْتَلَفْتُمْ فِيهِ مِن شَيْءٍ فَحُكْمُهُ إِلَى اللَّهِ ۚ ذَٰلِكُمُ اللَّهُ رَبِّي عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْهِ أُنِيبُ ۝١٠
Wa makh-talaftum feehi min shai`in fahukmuhooo ilallaah; zaalikumul laahu Rabbee `alaihi tawakkaltu wa ilaihi uneeb
📖 বাংলা অর্থ
তোমরা যে বিষয়েই মতভেদ কর, তার ফয়সালা আল্লাহর কাছে সোপর্দ। ইনিই আল্লাহ আমার পালনকর্তা আমি তাঁরই উপর নির্ভর করি এবং তাঁরই অভিমুখী হই।
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • فَحُكْمُهُ إِلَى اللهِ – এর ফয়সালা আল্লাহর নিকট।
  • أُنِيبُ – আমি ফিরে যাই, অভিমুখী হই (তাওবা ও আনুগত্যের সাথে)।

তাফসীর:

হে মানুষ! তোমরা দ্বীনের কোনো বিষয়ে—তা মূলনীতি হোক বা শাখাগত মাসআলা—যে বিষয়েই মতভেদ করো না কেন, তার চূড়ান্ত ফয়সালা আল্লাহরই নিকট। অর্থাৎ, মতভেদের মীমাংসা করতে হবে আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল ﷺ-এর সুন্নাহ অনুযায়ী। কারণ, আল্লাহই হচ্ছেন প্রকৃত বিধানদাতা এবং তিনিই জানেন কোনটি সত্য ও কোনটি মিথ্যা।

এই আল্লাহই আমার রব, যিনি এসব গুণে গুণান্বিত। আমি আমার সকল কাজে তাঁরই উপর ভরসা করেছি এবং প্রতিটি বিষয়ে তাঁরই দিকে ফিরে যাই—তাঁর আদেশ মান্য করতে, তাঁর বিধান অনুসরণ করতে এবং তাওবার মাধ্যমে তাঁর সান্নিধ্য লাভের চেষ্টা করতে। যেহেতু সবকিছুর মালিক ও শাসক তিনি, তাই তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তন।

শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. মুসলিম উম্মাহর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মূলনীতি হলো—যেকোনো মতভেদে ফয়সালা হতে হবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যক্তিগত মতামত বা প্রবৃত্তির অনুসরণে নয়। এটাই ঈমানের দাবি।
  2. আল্লাহর উপর পূর্ণ ভরসা ও তাঁর দিকে প্রত্যাবর্তনই মুমিনের চরিত্রের ভিত্তি। যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ভরসা করে এবং তাঁর দিকে ফিরে যায়, সে মানসিক শান্তি ও আত্মিক প্রশান্তি লাভ করে।
  3. দ্বীনের যেকোনো জটিলতায় সঠিক সমাধান পেতে হলে কুরআন ও সুন্নাহকে চূড়ান্ত মানদণ্ড হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। এতে উম্মাহ ঐক্যবদ্ধ থাকে এবং বিভেদ দূর হয়।
  4. আল্লাহর প্রতি ভরসা ও তাওবা—এই দুটি বিষয় মুমিনের জীবনে বিপদ-আপদ ও সংকটে ধৈর্য ও স্থিরতা এনে দেয় এবং তাকে সঠিক পথে পরিচালিত করে।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 8-12 — আশ-শুরা

8وَلَوْ شَاءَ اللَّهُ لَجَعَلَهُمْ أُمَّةً وَاحِدَةً وَلَٰكِن يُدْخِلُ مَن يَشَاءُ فِي رَحْمَتِهِ ۚ وَالظَّالِمُونَ مَا لَهُم مِّن وَلِيٍّ وَلَا نَصِيرٍ
আল্লাহ ইচ্ছা করলে সমস্ত লোককে এক দলে পরিণত করতে পারেন। কিন্তু তিনি যাকে ইচ্ছা স্বীয় রহমতে দাখিল করেন। আর যালেমদের কোন অভিভাবক ও সাহায্যকারী নেই।
9أَمِ اتَّخَذُوا مِن دُونِهِ أَوْلِيَاءَ ۖ فَاللَّهُ هُوَ الْوَلِيُّ وَهُوَ يُحْيِي الْمَوْتَىٰ وَهُوَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
তারা কি আল্লাহ ব্যতীত অপরকে অভিভাবক স্থির করেছে? পরন্তু আল্লাহই তো একমাত্র অভিভাবক। তিনি মৃতদেরকে জীবিত করেন। তিনি সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান।
10وَمَا اخْتَلَفْتُمْ فِيهِ مِن شَيْءٍ فَحُكْمُهُ إِلَى اللَّهِ ۚ ذَٰلِكُمُ اللَّهُ رَبِّي عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْهِ أُنِيبُ
তোমরা যে বিষয়েই মতভেদ কর, তার ফয়সালা আল্লাহর কাছে সোপর্দ। ইনিই আল্লাহ আমার পালনকর্তা আমি তাঁরই উপর নির্ভর করি এবং তাঁরই অভিমুখী হই।
11فَاطِرُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۚ جَعَلَ لَكُم مِّنْ أَنفُسِكُمْ أَزْوَاجًا وَمِنَ الْأَنْعَامِ أَزْوَاجًا ۖ يَذْرَؤُكُمْ فِيهِ ۚ لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ ۖ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ
তিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের স্রষ্টা। তিনি তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের জন্যে যুগল সৃষ্টি করেছেন এবং চতুস্পদ জন্তুদের মধ্য থেকে জোড়া সৃষ্টি করেছেন। এভাবে তিনি তোমাদের বংশ বিস্তার করেন। কোন কিছুই তাঁর অনুরূপ নয়। তিনি সব শুনেন, সব দেখেন।
12لَهُ مَقَالِيدُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۖ يَبْسُطُ الرِّزْقَ لِمَن يَشَاءُ وَيَقْدِرُ ۚ إِنَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ
আকাশ ও পৃথিবীর চাবি তাঁর কাছে। তিনি যার জন্যে ইচ্ছা রিযিক বৃদ্ধি করেন এবং পরিমিত করেন। তিনি সর্ব বিষয়ে জ্ঞানী।
আশ-শুরাকুরআন সূচী
53আয়াত
মাক্কীRevelation
10আয়াত

অনুবাদ — আশ-শুরা 10

সূরা আশ-শুরা আয়াত 10 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : তোমরা যে বিষয়েই মতভেদ কর, তার ফয়সালা আল্লাহর কাছে সোপর্দ।…

সূরা আয়াত 10/53 — আশ-শুরা الشورى (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আশ-শুরা শুনুন, আশ-শুরা অনুবাদ, আশ-শুরা mp3, আশ-শুরা pdf. আয়াত 8–12. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না