আদ-দুখান · 13/59
অনুবাদ উচ্চারণ — আদ-দুখান
أَنَّىٰ لَهُمُ الذِّكْرَىٰ وَقَدْ جَاءَهُمْ رَسُولٌ مُّبِينٌ ۝١٣
Annaa lahumuz zikraa wa qad jaaa`ahum Rasoolum mubeen
📖 বাংলা অর্থ
তারা কি করে বুঝবে, অথচ তাদের কাছে এসেছিলেন স্পষ্ট বর্ণনাকারী রসূল।
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • أَنَّى: কীভাবে, কোথা থেকে।
  • الذِّكْرَى: উপদেশ গ্রহণ, স্মরণ, তওবা ও ঈমান আনার সুযোগ।
  • رَسُولٌ مُّبِينٌ: স্পষ্ট ও সুস্পষ্টভাবে সত্য পথ প্রদর্শনকারী রাসূল, যাঁর সত্যবাদিতা ও বিশ্বস্ততা সবার কাছে প্রকাশ্য।

তাফসীর:

আল্লাহ তাআলা এখানে কাফিরদের অবস্থা বর্ণনা করেছেন। যখন তারা আযাব প্রত্যক্ষ করবে, তখন তারা বলবে, “আমরা ঈমান আনলাম!” কিন্তু তাদের এই ঈমান আনার কোনো মূল্যই নেই। কারণ, আযাব আসার আগেই তো তাদের কাছে স্পষ্ট বাণীসহ রাসূল (ﷺ) এসেছিলেন। তিনি তাদের কাছে আল্লাহর নির্দেশ ও নিষেধ স্পষ্টভাবে পৌঁছে দিয়েছিলেন, তাদের সামনে সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য সুস্পষ্ট করে দিয়েছিলেন। তারা তাঁর সত্যবাদিতা, আমানতদারি ও চরিত্র সম্পর্কে অবগত ছিল। অথচ তারা তাঁর কথা গ্রহণ করেনি, বরং তাকে অপবাদ দিয়েছিল—কেউ বলেছিল তিনি জাদুকর, কেউ বলেছিল তিনি পাগল, কেউ বলেছিল তিনি মানুষের কাছ থেকে শিক্ষা নিয়েছেন। এখন আযাব দেখে যদি তারা ঈমান আনে, তবে তা তো জোরপূর্বক ও বাধ্য হয়ে আনা ঈমান, যা আল্লাহর দরবারে গ্রহণযোগ্য নয়। উপদেশ গ্রহণের প্রকৃত সময় ছিল তখন, যখন রাসূল (ﷺ) তাদের মধ্যে ছিলেন এবং তারা ইচ্ছা করে তা গ্রহণ করতে পারত। কিন্তু তারা তা করেনি। তাই আযাবের পর তাদের তওবা ও ঈমানের কোনো সুযোগ আর থাকবে না।

শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. আল্লাহর রাসূল (ﷺ) ছিলেন স্পষ্ট ও উজ্জ্বল প্রমাণসহ আগমনকারী। তাঁর আগমন ছিল মানবজাতির জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ রহমত ও অনুগ্রহ।
  2. সত্য গ্রহণের সুযোগ জীবনে একবারই আসে—যখন তা উপস্থিত থাকে। সময় পার হয়ে গেলে আর তা ফিরে পাওয়া যায় না। তাই প্রতিটি মুহূর্তে সত্যকে গ্রহণ করা উচিত।
  3. বাধ্য হয়ে বা বিপদে পড়ে ঈমান আনা আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়; বরং স্বেচ্ছায়, জ্ঞান-বুদ্ধি ও ইখলাসের সাথে ঈমান আনাই কাম্য।
  4. রাসূল (ﷺ)-এর প্রতি অপবাদ দেওয়া, তাঁর দাওয়াতকে প্রত্যাখ্যান করা এবং তাঁর বিরোধিতা করা চরম দুর্ভাগ্য ও ধ্বংসের কারণ।
  5. এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, আল্লাহর নেয়ামত ও হিদায়াতের পথ যখন আমাদের সামনে উন্মুক্ত থাকে, তখনই তা গ্রহণ করা উচিত। দেরি করলে অনুতাপ ছাড়া আর কিছুই হাতে থাকে না।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 11-15 — আদ-দুখান

11يَغْشَى النَّاسَ ۖ هَٰذَا عَذَابٌ أَلِيمٌ
যা মানুষকে ঘিরে ফেলবে। এটা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।
12رَّبَّنَا اكْشِفْ عَنَّا الْعَذَابَ إِنَّا مُؤْمِنُونَ
হে আমাদের পালনকর্তা আমাদের উপর থেকে শাস্তি প্রত্যাহার করুন, আমরা বিশ্বাস স্থাপন করছি।
13أَنَّىٰ لَهُمُ الذِّكْرَىٰ وَقَدْ جَاءَهُمْ رَسُولٌ مُّبِينٌ
তারা কি করে বুঝবে, অথচ তাদের কাছে এসেছিলেন স্পষ্ট বর্ণনাকারী রসূল।
14ثُمَّ تَوَلَّوْا عَنْهُ وَقَالُوا مُعَلَّمٌ مَّجْنُونٌ
অতঃপর তারা তাকে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে এবং বলে, সে তো উম্মাদ-শিখানো কথা বলে।
15إِنَّا كَاشِفُو الْعَذَابِ قَلِيلًا ۚ إِنَّكُمْ عَائِدُونَ
আমি তোমাদের উপর থেকে আযাব কিছুটা প্রত্যাহার করব, কিন্তু তোমরা পুনরায় পুনর্বস্থায় ফিরে যাবে।
আদ-দুখানকুরআন সূচী
59আয়াত
মাক্কীRevelation
13আয়াত

অনুবাদ — আদ-দুখান 13

সূরা আদ-দুখান আয়াত 13 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : তারা কি করে বুঝবে, অথচ তাদের কাছে এসেছিলেন স্পষ্ট বর্ণনাকারী…

সূরা আয়াত 13/59 — আদ-দুখান الدخان (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আদ-দুখান শুনুন, আদ-দুখান অনুবাদ, আদ-দুখান mp3, আদ-দুখান pdf. আয়াত 11–15. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না