Wa khalaqal laahus samaawaati wal arda bilhaqqi wa litujzaa kullu nafsim bimaa kasabat wa hum laa yuzlamoon
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
আল্লাহ নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডল যথাযথভাবে সৃষ্টি করেছেন, যাতে প্রত্যেক ব্যক্তি তার উপার্জনের ফল পায়। তাদের প্রতি যুলুম করা হবে না।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
और ख़ुदा ने सारे आसमान व ज़मीन को हिकमत व मसलेहत से पैदा किया और ताकि हर शख़्श को उसके किये का बदला दिया जाए और उन पर (किसी तरह का) ज़ुल्म नहीं किया जाएगा
আল্লাহ নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডল যথাযথভাবে সৃষ্টি করেছেন, যাতে প্রত্যেক ব্যক্তি তার উপার্জনের ফল পায়। তাদের প্রতি যুলুম করা হবে না।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
بِالْحَقِّ — ন্যায়পরায়ণতা, প্রজ্ঞা ও সঠিক উদ্দেশ্যসহ।
لِتُجْزَىٰ — যাতে প্রতিদান দেওয়া হয়।
كَسَبَتْ — যা অর্জন করেছে (সৎকর্ম বা অসৎকর্ম)।
لَا يُظْلَمُونَ — তাদের প্রতি কোনো প্রকার জুলুম/অবিচার করা হবে না।
তাফসীর:
আল্লাহ তাআলা আসমানসমূহ ও পৃথিবীকে কোনো অনর্থক বা খেল-তামাশার জন্য সৃষ্টি করেননি; বরং তিনি এগুলো সৃষ্টি করেছেন সত্য, ন্যায়বিচার ও গভীর প্রজ্ঞার ভিত্তিতে। এই সৃষ্টিজগৎ একটি মহাপরিকল্পনার অংশ—যার পরিণতি হবে আখিরাতে। অর্থাৎ, এই পৃথিবীর জীবনই চূড়ান্ত নয়; বরং এর পরেই রয়েছে পুনরুত্থান ও প্রতিদানের দিন। আল্লাহ এ জগৎ সৃষ্টি করেছেন এই জন্য যে, প্রত্যেক ব্যক্তি তার কৃতকর্মের ফল ভোগ করবে—যে ভালো কাজ করবে সে ভালো ফল পাবে, আর যে মন্দ কাজ করবে সে মন্দ ফল পাবে। সেদিন কারো প্রতি সামান্যতম জুলুম হবে না; কারো নেকির প্রতিদান কমানো হবে না, আবার কারো গুনাহের শাস্তি বাড়ানোও হবে না। প্রত্যেকে তার নিজের কাজের সঠিক ও পূর্ণ প্রতিদান পাবে। এই ঘোষণা প্রমাণ করে যে, আল্লাহর সৃষ্টি কোনো উদ্দেশ্যহীন নয়, এবং তাঁর বিচার চরম ন্যায়পরায়ণতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত।
শিক্ষা ও উপকারিতা:
এই মহাবিশ্বের সৃষ্টি কোনো আকস্মিক বা অর্থহীন ঘটনা নয়; বরং এর পেছনে রয়েছে আল্লাহর মহাপ্রজ্ঞা ও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা। এটি আমাদের মনে আস্থা জাগায় যে, জীবন বৃথা নয়।
আখিরাতে প্রতিদানের বিশ্বাস মুমিনের হৃদয়ে দায়িত্ববোধ সৃষ্টি করে। যখন আমরা জানি যে, প্রতিটি কাজের হিসাব হবে, তখন আমরা সতর্ক থাকি এবং ভালো কাজে উদ্বুদ্ধ হই।
আল্লাহর ন্যায়বিচারের এই ঘোষণা আমাদের মনে প্রশান্তি আনে—দুনিয়ায় অনেক সময় ভালো মানুষ কষ্ট পায় এবং মন্দ মানুষ উন্নতি লাভ করে, কিন্তু আল্লাহর বিচারে কেউ বঞ্চিত হবে না। এটি আমাদের ধৈর্য ও আস্থা বৃদ্ধি করে।
এই আয়াত আমাদেরকে ইসলামের প্রতি ভালোবাসা জাগায়, কারণ ইসলাম এমন একটি জীবনব্যবস্থা প্রদান করে যা মানুষের কর্মের সঠিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করে এবং সর্বোচ্চ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করে।
যারা দুস্কর্ম উপার্জন করেছে তারা কি মনে করে যে, আমি তাদেরকে সে লোকদের মত করে দেব, যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে এবং তাদের জীবন ও মুত্যু কি সমান হবে? তাদের দাবী কত মন্দ।
আপনি কি তার প্রতি লক্ষ্য করেছেন, যে তার খেয়াল-খুশীকে স্বীয় উপাস্য স্থির করেছে? আল্লাহ জেনে শুনে তাকে পথভ্রষ্ট করেছেন, তার কান ও অন্তরে মহর এঁটে দিয়েছেন এবং তার চোখের উপর রেখেছেন পর্দা। অতএব, আল্লাহর পর কে তাকে পথ প্রদর্শন করবে? তোমরা কি চিন্তাভাবনা কর না?
তারা বলে, আমাদের পার্থিব জীবনই তো শেষ; আমরা মরি ও বাঁচি মহাকালই আমাদেরকে ধ্বংস করে। তাদের কাছে এ ব্যাপারে কোন জ্ঞান নেই। তারা কেবল অনুমান করে কথা বলে।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।