আয়াত: নিদর্শনসমূহ, প্রমাণসমূহ, আল্লাহর নির্দেশ ও আদেশ।
লিকাউল আখিরাহ: আখিরাতের সাক্ষাৎ, অর্থাৎ মৃত্যুর পর পুনরুত্থান, হিসাব-নিকাশ, জান্নাত-জাহান্নামে বিশ্বাস।
হাবিতাত: নিষ্ফল হয়ে গেছে, বিনষ্ট হয়ে গেছে, এমনভাবে নষ্ট যেন তা কখনো ছিলই না।
ইউজজাওন: তাদেরকে প্রতিদান দেওয়া হবে, বদলা দেওয়া হবে।
তাফসির (ব্যাখ্যা):
যারা আল্লাহর স্পষ্ট নিদর্শনাবলী ও প্রমাণসমূহকে মিথ্যা বলেছে এবং আখিরাতের সাক্ষাৎকে অস্বীকার করেছে—অর্থাৎ পুনরুত্থান, হিসাব-নিকাশ, জান্নাত-জাহান্নামকে বিশ্বাস করেনি—তাদের সমস্ত সৎকর্ম ও ভালো কাজ নিষ্ফল হয়ে গেছে। কেননা ঈমানই হলো সকল নেক আমল কবুল হওয়ার পূর্বশর্ত। ঈমান ছাড়া কোনো কাজই আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। তাদের ভালো কাজগুলো এমনভাবে বিনষ্ট হয়ে যাবে যেন তারা কখনো তা করেনি।
আর কিয়ামতের দিন তাদেরকে শুধু সেই প্রতিদানই দেওয়া হবে যা তারা দুনিয়ায় নিজেরা উপার্জন করেছে—অর্থাৎ কুফরি, শিরক ও পাপাচারের শাস্তি। তাদেরকে অন্যায়ভাবে কোনো শাস্তি দেওয়া হবে না; বরং তাদের নিজেদের কর্মেরই ফল তারা ভোগ করবে। আর তার পরিণতি হলো জাহান্নামে চিরস্থায়ী অবস্থান।
শিক্ষা ও উপদেশ:
ঈমানই是所有 আমল কবুল হওয়ার মূল চাবিকাঠি। ঈমান না থাকলে যত বড় ভালো কাজই করা হোক না কেন, তা আল্লাহর দরবারে গ্রহণযোগ্য হবে না।
আখিরাতে বিশ্বাসই মানুষকে দায়িত্ববান করে তোলে। যে ব্যক্তি পরকালকে অস্বীকার করে, সে দুনিয়ায় যা খুশি করতে পারে এবং তার কোনো কর্মই নিয়ন্ত্রিত হয় না।
আল্লাহ কখনো বান্দার প্রতি জুলুম করেন না। প্রত্যেকে যা করে, তার যথাযথ ফল পাবে। এটি আল্লাহর ন্যায়বিচারের প্রমাণ।
এই আয়াত আমাদের সতর্ক করে যে, শুধু ভালো কাজ করলেই হবে না, বরং সেই কাজের সাথে সঠিক ঈমান ও বিশ্বাস থাকা অপরিহার্য। তাই আমাদের উচিত ঈমানের উপর অটল থাকা এবং সকল ভালো কাজ ঈমানের সাথে সম্পাদন করা, যাতে তা আল্লাহর কাছে কবুল হয় এবং আখিরাতে সাফল্য লাভ করতে পারি।
আর আমি তোমাকে পটে লিখে দিয়েছি সর্বপ্রকার উপদেশ ও বিস্তারিত সব বিষয়। অতএব, এগুলোকে দৃঢ়ভাবে ধারণ কর এবং স্বজাতিকে এর কল্যাণকর বিষয়সমূহ দৃঢ়তার সাথে পালনের নির্দেশ দাও।
আমি আমার নিদর্শনসমূহ হতে তাদেরকে ফিরিয়ে রাখি, যারা পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে গর্ব করে। যদি তারা সমস্ত নিদর্শন প্রত্যক্ষ করে ফেলে, তবুও তা বিশ্বাস করবে না। আর যদি হেদায়েতের পথ দেখে, তবে সে পথ গ্রহণ করে না। অথচ গোমরাহীর পথ দেখলে তাই গ্রহণ করে নেয়। এর কারণ, তারা আমার নিদর্শনসমূহকে মিথ্যা বলে মনে করেছে এবং তা থেকে বেখবর রয়ে গেছে।
আর বানিয়ে নিল মূসার সম্প্রদায় তার অনুপস্থিতিতে নিজেদের অলংকারাদির দ্বারা একটি বাছুর তা থেকে বেরুচ্ছিল ‘হাম্বা হাম্বা’ শব্দ। তারা কি একথাও লক্ষ্য করল না যে, সেটি তাদের সাথে কথাও বলছে না এবং তাদেরকে কোন পথও বাতলে দিচ্ছে না! তারা সেটিকে উপাস্য বানিয়ে নিল। বস্তুতঃ তারা ছিল জালেম।
অতঃপর যখন তারা অনুতপ্ত হল এবং বুঝতে পারল যে, আমরা নিশ্চিতই গোমরাহ হয়ে পড়েছি, তখন বলতে লাগল, আমাদের প্রতি যদি আমাদের পরওয়ারদেগার করুণা না করেন, তবে অবশ্যই আমরা ধবংস হয়ে যাব।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।