আল-আরাফ · 148/206
অনুবাদ উচ্চারণ — আল-আরাফ
وَٱتَّخَذَ قَوۡمُ مُوسَىٰ مِنۢ بَعۡدِهِۦ مِنۡ حُلِيِّهِمۡ عِجۡلًا جَسَدًا لَّهُۥ خُوَارٌۚ أَلَمۡ يَرَوۡاْ أَنَّهُۥ لَا يُكَلِّمُهُمۡ وَلَا يَهۡدِيهِمۡ سَبِيلًاۘ ٱتَّخَذُوهُ وَكَانُواْ ظَٰلِمِينَ  ۝١٤٨
Wattakhaza qawmu Moosaa mim ba`dihee min huliyyihim `ijlan jasadal lahoo khuwaar; alam yaraw annahoo laa yukallimuhum wa laa yahdeehim sabeelaa; ittakha zoohu wa kaanoo zaalimeen
📖 বাংলা অর্থ
আর বানিয়ে নিল মূসার সম্প্রদায় তার অনুপস্থিতিতে নিজেদের অলংকারাদির দ্বারা একটি বাছুর তা থেকে বেরুচ্ছিল ‘হাম্বা হাম্বা’ শব্দ। তারা কি একথাও লক্ষ্য করল না যে, সেটি তাদের সাথে কথাও বলছে না এবং তাদেরকে কোন পথও বাতলে দিচ্ছে না! তারা সেটিকে উপাস্য বানিয়ে নিল। বস্তুতঃ তারা ছিল জালেম।
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • حُلِيِّهِمْ (হুলিয়িহিম): তাদের অলংকারসমূহ (স্বর্ণ ও রৌপ্যের গহনা)।
  • عِجْلًا جَسَدًا (ইজলান জাসাদান): একটি বাছুরের মূর্তি, যা দেহবিশিষ্ট ছিল কিন্তু প্রাণহীন।
  • خُوَارٌ (খুওয়ার): গরুর ডাক বা শব্দ।
  • ظَالِمِينَ (যালিমিন): সীমালঙ্ঘনকারী, নিজেদের প্রতি অত্যাচারী।

তাফসির (ব্যাখ্যা):

মূসা (আঃ) তাঁর প্রতিপালকের সাথে মুনাজাতের জন্য তূর পাহাড়ে যাওয়ার পর তাঁর অনুসারীরা (বনী ইসরাঈল) বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। তারা মিশরের কিবতিদের কাছ থেকে ধার নেওয়া অলংকারসমূহ থেকে একটি বাছুরের মূর্তি তৈরি করে, যার দেহ ছিল কিন্তু প্রাণ ছিল না — তা ছিল নিছক একটি জড় পদার্থ। তবে আল্লাহর কুদরতে তা থেকে গরুর ডাকের মতো শব্দ বের হতো। অথচ তারা কি দেখতে পায়নি যে, এই বাছুরটি তাদের সাথে কথা বলে না, তাদের কোনো পথ দেখায় না, কোনো উপকার বা অপকার করতে পারে না? তারা এতটাই অন্ধ ও বিভ্রান্ত ছিল যে, এই জড় মূর্তিকেই তারা উপাস্য বানিয়ে নিল। এ কাজের মাধ্যমে তারা নিজেদের ওপরই জুলুম করল, কারণ তারা আল্লাহর পরিবর্তে এমন বস্তুর ইবাদত শুরু করল যা কোনো ক্ষমতার অধিকারী নয়। তাদের এই কাজ ছিল চরম মূর্খতা ও সীমালঙ্ঘন, এবং এতে তারা নিজেদের আত্মারই ক্ষতি করল।

শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. প্রকৃত ইবাদত একমাত্র আল্লাহরই প্রাপ্য — কোনো সৃষ্ট বস্তু, মূর্তি বা প্রতীক নয়। যারা আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুর ওপর ভরসা করে বা তাকে উপাস্য বানায়, তারা নিজেদেরই ক্ষতি করে।
  2. বুদ্ধি ও বিবেকের দাবি হলো, যে বস্তু কথা বলতে পারে না, পথ দেখাতে পারে না, উপকার-অপকার করতে পারে না — তাকে কখনো উপাস্য বানানো উচিত নয়। আল্লাহর সৃষ্টি সম্পর্কে চিন্তা করলেই সত্য পথ পাওয়া যায়।
  3. অজ্ঞতা ও প্রবৃত্তির অনুসরণ মানুষকে এমন পর্যায়ে নামিয়ে আনে, যেখানে মানুষ জড় বস্তুকেও উপাস্য বানিয়ে ফেলে। তাই জ্ঞান ও সঠিক পথপ্রদর্শকের অনুসরণ করা অপরিহার্য।
  4. নবী-রাসূলদের অনুপস্থিতিতে উম্মতের দায়িত্ব হলো তাদের শিক্ষা ও নির্দেশনা অনুযায়ী চলা, নিজেদের মনগড়া পথ তৈরি না করা।
  5. আল্লাহর রহমত ও ক্ষমা অপরিসীম — বনী ইসরাঈল ভুল করার পরও তাওবা করলে আল্লাহ তাদের ক্ষমা করেছিলেন। তাই যে কোনো ভুলের পর আল্লাহর দিকে ফিরে আসার দরজা খোলা।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 146-150 — আল-আরাফ

146سَأَصۡرِفُ عَنۡ ءَايَٰتِيَ ٱلَّذِينَ يَتَكَبَّرُونَ فِي ٱلۡأَرۡضِ بِغَيۡرِ ٱلۡحَقِّ وَإِن يَرَوۡاْ كُلَّ ءَايَةٍ لَّا يُؤۡمِنُواْ بِهَا وَإِن يَرَوۡاْ سَبِيلَ ٱلرُّشۡدِ لَا يَتَّخِذُوهُ سَبِيلًا وَإِن يَرَوۡاْ سَبِيلَ ٱلۡغَيِّ يَتَّخِذُوهُ سَبِيلًاۚ ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمۡ كَذَّبُواْ بِـَٔايَٰتِنَا وَكَانُواْ عَنۡهَا غَٰفِلِينَ 
আমি আমার নিদর্শনসমূহ হতে তাদেরকে ফিরিয়ে রাখি, যারা পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে গর্ব করে। যদি তারা সমস্ত নিদর্শন প্রত্যক্ষ করে ফেলে, তবুও তা বিশ্বাস করবে না। আর যদি হেদায়েতের পথ দেখে, তবে সে পথ গ্রহণ করে না। অথচ গোমরাহীর পথ দেখলে তাই গ্রহণ করে নেয়। এর কারণ, তারা আমার নিদর্শনসমূহকে মিথ্যা বলে মনে করেছে এবং তা থেকে বেখবর রয়ে গেছে।
147وَٱلَّذِينَ كَذَّبُواْ بِـَٔايَٰتِنَا وَلِقَآءِ ٱلۡأٓخِرَةِ حَبِطَتۡ أَعۡمَٰلُهُمۡۚ هَلۡ يُجۡزَوۡنَ إِلَّا مَا كَانُواْ يَعۡمَلُونَ 
বস্তুতঃ যারা মিথ্যা জেনেছে আমার আয়াতসমূকে এবং আখেরাতের সাক্ষাতকে, তাদের যাবতীয় কাজকর্ম ধ্বংস হয়ে গেছে। তেমন বদলাই সে পাবে যেমন আমল করত।
148وَٱتَّخَذَ قَوۡمُ مُوسَىٰ مِنۢ بَعۡدِهِۦ مِنۡ حُلِيِّهِمۡ عِجۡلًا جَسَدًا لَّهُۥ خُوَارٌۚ أَلَمۡ يَرَوۡاْ أَنَّهُۥ لَا يُكَلِّمُهُمۡ وَلَا يَهۡدِيهِمۡ سَبِيلًاۘ ٱتَّخَذُوهُ وَكَانُواْ ظَٰلِمِينَ 
আর বানিয়ে নিল মূসার সম্প্রদায় তার অনুপস্থিতিতে নিজেদের অলংকারাদির দ্বারা একটি বাছুর তা থেকে বেরুচ্ছিল ‘হাম্বা হাম্বা’ শব্দ। তারা কি একথাও লক্ষ্য করল না যে, সেটি তাদের সাথে কথাও বলছে না এবং তাদেরকে কোন পথও বাতলে দিচ্ছে না! তারা সেটিকে উপাস্য বানিয়ে নিল। বস্তুতঃ তারা ছিল জালেম।
149وَلَمَّا سُقِطَ فِيٓ أَيۡدِيهِمۡ وَرَأَوۡاْ أَنَّهُمۡ قَدۡ ضَلُّواْ قَالُواْ لَئِن لَّمۡ يَرۡحَمۡنَا رَبُّنَا وَيَغۡفِرۡ لَنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ ٱلۡخَٰسِرِينَ 
অতঃপর যখন তারা অনুতপ্ত হল এবং বুঝতে পারল যে, আমরা নিশ্চিতই গোমরাহ হয়ে পড়েছি, তখন বলতে লাগল, আমাদের প্রতি যদি আমাদের পরওয়ারদেগার করুণা না করেন, তবে অবশ্যই আমরা ধবংস হয়ে যাব।
150وَلَمَّا رَجَعَ مُوسَىٰٓ إِلَىٰ قَوۡمِهِۦ غَضۡبَٰنَ أَسِفًا قَالَ بِئۡسَمَا خَلَفۡتُمُونِي مِنۢ بَعۡدِيٓۖ أَعَجِلۡتُمۡ أَمۡرَ رَبِّكُمۡۖ وَأَلۡقَى ٱلۡأَلۡوَاحَ وَأَخَذَ بِرَأۡسِ أَخِيهِ يَجُرُّهُۥٓ إِلَيۡهِۚ قَالَ ٱبۡنَ أُمَّ إِنَّ ٱلۡقَوۡمَ ٱسۡتَضۡعَفُونِي وَكَادُواْ يَقۡتُلُونَنِي فَلَا تُشۡمِتۡ بِيَ ٱلۡأَعۡدَآءَ وَلَا تَجۡعَلۡنِي مَعَ ٱلۡقَوۡمِ ٱلظَّٰلِمِينَ 
তারপর যখন মূসা নিজ সম্প্রদায়ে ফিরে এলেন রাগাম্বিত ও অনুতপ্ত অবস্থায়, তখন বললেন, আমার অনুপস্থিতিতে তোমরা আমার কি নিকৃষ্ট প্রতিনিধিত্বটাই না করেছ। তোমরা নিজ পরওয়ারদেগারের হুকুম থেকে কি তাড়াহুড়া করে ফেললে এবং সে তখতীগুলো ছুঁড়ে ফেলে দিলেন এবং নিজের ভাইয়ের মাথার চুল চেপে ধরে নিজের দিকে টানতে লাগলেন। ভাই বললেন, হে আমার মায়ের পুত্র, লোকগুলো যে আমাকে দুর্বল মনে করল এবং আমাকে যে মেরে ফেলার উপক্রম করেছিল। সুতরাং আমার উপর আর শত্রুদের হাসিও না। আর আমাকে জালিমদের সারিতে গন্য করো না।
আল-আরাফকুরআন সূচী
206আয়াত
মাক্কীRevelation
148আয়াত

অনুবাদ — আল-আরাফ 148

সূরা আয়াত 148/206 — আল-আরাফ الأعراف (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আল-আরাফ শুনুন, আল-আরাফ অনুবাদ, আল-আরাফ mp3, আল-আরাফ pdf. আয়াত 146–150. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না