আল-জ্বিন · 4/28
অনুবাদ উচ্চারণ — আল-জ্বিন
وَأَنَّهُ كَانَ يَقُولُ سَفِيهُنَا عَلَى اللَّهِ شَطَطًا ۝٤
Wa annahoo kaana yaqoolu safeehunaa `alal laahi shatataa
📖 বাংলা অর্থ
আমাদের মধ্যে নির্বোধেরা আল্লাহ তা’আলা সম্পর্কে বাড়াবাড়ির কথাবার্তা বলত।
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • سَفِيهُنَا – আমাদের নির্বোধ/মূর্খ (এখানে ইবলিশকে বোঝানো হয়েছে)।
  • شَطَطًا – সত্য থেকে দূরে, অন্যায় ও মিথ্যা কথা।

তাফসীর:

এই আয়াতে জিনদের একটি দলের কথা বর্ণনা করা হচ্ছে, যারা কুরআন শুনে ঈমান এনেছিল এবং তাদের সম্প্রদায়কে বলেছিল: “আমাদের মধ্যে যে নির্বোধ (ইবলিশ) ছিল, সে আল্লাহ সম্পর্কে এমন কথা বলত যা সত্য থেকে সম্পূর্ণ বিচ্যুত এবং অন্যায়।” অর্থাৎ ইবলিশ আল্লাহ তা‘আলার প্রতি মিথ্যা অপবাদ দিত, যেমন—তাঁর সন্তান আছে, তাঁর সহধর্মিণী আছে ইত্যাদি। এগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও গর্হিত কথা। জিনদের এই স্বীকৃতির মাধ্যমে তারা স্বীকার করে নিয়েছিল যে, ইবলিশের এই অপবাদই ছিল তার মূর্খতা ও পথভ্রষ্টতার প্রমাণ। অথচ আল্লাহ পবিত্র, তিনি এসব ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত।

ফায়দা:

  1. এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, সত্যের প্রতি ঈমান আনার পর নিজেদের পূর্বের ভুল স্বীকার করা এবং তা থেকে তাওবা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জিনদের এই স্বীকৃতি তাদের ঈমানের গভীরতা প্রকাশ করে।
  2. আল্লাহ তা‘আলা সম্পর্কে কোনো ভুল ধারণা বা মিথ্যা কথা বলা কঠোর গুনাহ। তাঁর সম্পর্কে আমরা যা কিছু বলি, তা যেন কুরআন ও সহীহ হাদীসের আলোকে হয়।
  3. ইবলিশের চরিত্র আমাদের জন্য শিক্ষা—সে আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা বলেছে এবং মানুষকে বিভ্রান্ত করেছে। তাই আমাদের উচিত শয়তানের প্ররোচনা থেকে সতর্ক থাকা এবং সর্বদা আল্লাহর সত্য বাণীকে আঁকড়ে ধরা।
  4. এই আয়াত প্রমাণ করে যে, কুরআন শোনার পর জিনদের মতো বুদ্ধিমান সৃষ্টিও হিদায়াত পেয়েছে, তাই মানুষের উচিত কুরআনের প্রতি মনোযোগ দেওয়া এবং তা অনুযায়ী জীবন গড়া।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 2-6 — আল-জ্বিন

2يَهْدِي إِلَى الرُّشْدِ فَآمَنَّا بِهِ ۖ وَلَن نُّشْرِكَ بِرَبِّنَا أَحَدًا
যা সৎপথ প্রদর্শন করে। ফলে আমরা তাতে বিশ্বাস স্থাপন করেছি। আমরা কখনও আমাদের পালনকর্তার সাথে কাউকে শরীক করব না।
3وَأَنَّهُ تَعَالَىٰ جَدُّ رَبِّنَا مَا اتَّخَذَ صَاحِبَةً وَلَا وَلَدًا
এবং আরও বিশ্বাস করি যে, আমাদের পালনকর্তার মহান মর্যাদা সবার উর্ধ্বে। তিনি কোন পত্নী গ্রহণ করেননি এবং তাঁর কোন সন্তান নেই।
4وَأَنَّهُ كَانَ يَقُولُ سَفِيهُنَا عَلَى اللَّهِ شَطَطًا
আমাদের মধ্যে নির্বোধেরা আল্লাহ তা’আলা সম্পর্কে বাড়াবাড়ির কথাবার্তা বলত।
5وَأَنَّا ظَنَنَّا أَن لَّن تَقُولَ الْإِنسُ وَالْجِنُّ عَلَى اللَّهِ كَذِبًا
অথচ আমরা মনে করতাম, মানুষ ও জিন কখনও আল্লাহ তা’আলা সম্পর্কে মিথ্যা বলতে পারে না।
6وَأَنَّهُ كَانَ رِجَالٌ مِّنَ الْإِنسِ يَعُوذُونَ بِرِجَالٍ مِّنَ الْجِنِّ فَزَادُوهُمْ رَهَقًا
অনেক মানুষ অনেক জিনের আশ্রয় নিত, ফলে তারা জিনদের আত্নম্ভরিতা বাড়িয়ে দিত।
আল-জ্বিনকুরআন সূচী
28আয়াত
মাক্কীRevelation
4আয়াত

অনুবাদ — আল-জ্বিন 4

সূরা আল-জ্বিন আয়াত 4 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : আমাদের মধ্যে নির্বোধেরা আল্লাহ তা’আলা সম্পর্কে বাড়াবাড়ির কথাবার্তা বলত।

সূরা আয়াত 4/28 — আল-জ্বিন الجن (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আল-জ্বিন শুনুন, আল-জ্বিন অনুবাদ, আল-জ্বিন mp3, আল-জ্বিন pdf. আয়াত 2–6. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না