হে নবী, তাদেরকে বলে দাও, যারা তোমার হাতে বন্দী হয়ে আছে যে, আল্লাহ যদি তোমাদের অন্তরে কোন রকম মঙ্গলচিন্তা রয়েছে বলে জানেন, তবে তোমাদেরকে তার চেয়ে বহুগুণ বেশী দান করবেন যা তোমাদের কাছ থেকে বিনিময়ে নেয়া হয়েছে। তাছাড়া তোমাদেরকে তিনি ক্ষমা করে দিবেন। বস্তুতঃ আল্লাহ ক্ষমাশীল, করুণাময়।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
ऐ रसूल जो कैदी तुम्हारे कब्जे में है उनसे कह दो कि अगर तुम्हारे दिलों में नेकी देखेगा तो जो (माल) तुम से छीन लिया गया है उससे कहीं बेहतर तुम्हें अता फरमाएगा और तुम्हें बख्श भी देगा और ख़ुदा तो बड़ा बख्शने वाला मेहरबान है
হে নবী, তাদেরকে বলে দাও, যারা তোমার হাতে বন্দী হয়ে আছে যে, আল্লাহ যদি তোমাদের অন্তরে কোন রকম মঙ্গলচিন্তা রয়েছে বলে জানেন, তবে তোমাদেরকে তার চেয়ে বহুগুণ বেশী দান করবেন যা তোমাদের কাছ থেকে বিনিময়ে নেয়া হয়েছে। তাছাড়া তোমাদেরকে তিনি ক্ষমা করে দিবেন। বস্তুতঃ আল্লাহ ক্ষমাশীল, করুণাময়।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
আসরা (الْأَسْرَىٰ): বন্দিরা, যাদেরকে যুদ্ধে বন্দী করা হয়েছে।
খাইর (خَيْرًا): কল্যাণ, ভালো উদ্দেশ্য, ঈমান ও নিষ্ঠা।
ফিদইয়া (الفِدَاء): মুক্তিপণ, যা বন্দীদের মুক্তির বিনিময়ে আদায় করা হয়।
তাফসীর:
হে নবী! আপনি ঐ সমস্ত বন্দীদেরকে বলুন, যারা বদর যুদ্ধে মুসলিমদের হাতে বন্দী হয়ে মুক্তিপণের বিনিময়ে ছাড়া পেয়েছে — তাদেরকে সান্ত্বনা দিয়ে বলুন: “তোমরা যে মুক্তিপণ দিয়েছ এবং যে সম্পদ হারিয়েছ, তার জন্য আফসোস করো না। যদি আল্লাহ তোমাদের অন্তরে সত্যিকার ঈমান, ভালো নিয়ত এবং কল্যাণের ইচ্ছা দেখতে পান, তবে তিনি তোমাদেরকে এর চেয়ে উত্তম ও অধিকতর সম্পদ দান করবেন। তিনি তোমাদের পূর্বের গুনাহসমূহও ক্ষমা করে দেবেন।”
এই প্রতিশ্রুতি শুধু কথার কথা ছিল না — আল্লাহ তা সত্য করে দেখিয়েছেন। নবী (সা.)-এর চাচা আব্বাস (রা.)-সহ অনেক বন্দী আন্তরিকভাবে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং আল্লাহ তাদেরকে এমন সম্পদ ও মর্যাদা দান করেন যা তারা পূর্বে কল্পনাও করতে পারেনি। তারা মুক্তিপণের বিনিময়ে যে সম্পদ হারিয়েছিল, আল্লাহ তাদেরকে তার চেয়ে বহুগুণ বেশি দান করেন এবং তাদের গুনাহ মাফ করে দেন। আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও দয়ালু — তিনি বান্দার তাওবা ও ভালো নিয়ত দেখে সন্তুষ্ট হন এবং অনুগ্রহ বর্ষণ করেন।
শিক্ষা ও উপদেশ:
ক্ষতি ও হারানোর পেছনে আফসোস না করা: যখন কোনো মুমিন আল্লাহর পথে কিছু হারায় বা ত্যাগ করে, তখন তার জন্য আফসোস করা উচিত নয়। আল্লাহ তার চেয়ে উত্তম কিছু দিয়ে পূরণ করে দেবেন।
আল্লাহর দরবারে নিয়তের গুরুত্ব: মানুষের বাহ্যিক অবস্থা যাই হোক না কেন, আল্লাহ অন্তরের দিকে তাকান। যদি অন্তরে ঈমান ও ভালো নিয়ত থাকে, তবে আল্লাহ তার প্রতিদান দেবেন।
ক্ষমার সুযোগ সর্বদা উন্মুক্ত: ইসলাম এমন একটি ধর্ম, যেখানে অতীতের ভুল-ত্রুটি স্বীকার করে ফিরে এলে আল্লাহ ক্ষমা করে দেন। বন্দী অবস্থায় ইসলাম গ্রহণকারীদের জন্যও ক্ষমার দরজা খোলা ছিল।
আল্লাহর ওয়াদা সত্য: আল্লাহ যাদেরকে ভালো কিছু প্রতিশ্রুতি দেন, তা অবশ্যই পূরণ করেন। আব্বাস (রা.)-এর ঘটনা এর প্রমাণ — যিনি বন্দী অবস্থায় ইসলাম গ্রহণ করে পরবর্তীতে মুসলিম উম্মাহর বিশিষ্ট ব্যক্তিদের পূর্বপুরুষ হয়েছিলেন।
দয়ালু ও ক্ষমাশীল রব: আল্লাহর গুণাবলী “গফুরুর রাহিম” — তিনি ক্ষমা করতে ভালোবাসেন এবং বান্দার প্রতি দয়া করেন। তাই যে কোনো অবস্থায় আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া উচিত নয়।
হে নবী, তাদেরকে বলে দাও, যারা তোমার হাতে বন্দী হয়ে আছে যে, আল্লাহ যদি তোমাদের অন্তরে কোন রকম মঙ্গলচিন্তা রয়েছে বলে জানেন, তবে তোমাদেরকে তার চেয়ে বহুগুণ বেশী দান করবেন যা তোমাদের কাছ থেকে বিনিময়ে নেয়া হয়েছে। তাছাড়া তোমাদেরকে তিনি ক্ষমা করে দিবেন। বস্তুতঃ আল্লাহ ক্ষমাশীল, করুণাময়।
আর যদি তারা তোমার সাথে প্রতারণা করতে চায়-বস্তুতঃ তারা আল্লাহর সাথেও ইতিপূর্বে প্রতারণা করেছে, অতঃপর তিনি তাদেরকে ধরিয়ে দিয়েছেন। আর আল্লাহ সর্ববিষয়ে পরিজ্ঞাত, সুকৌশলী।
এতে কোন সন্দেহ নেই যে, যারা ঈমান এনেছে, দেশ ত্যাগ করেছে, স্বীয় জান ও মাল দ্বারা আল্লাহর রাহে জেহাদ করেছে এবং যারা তাদেরকে আশ্রয় ও সাহায্য সহায়তা দিয়েছে, তারা একে অপরের সহায়ক। আর যারা ঈমান এনেছে কিন্তু দেশ ত্যাগ করেনি তাদের বন্ধুত্বে তোমাদের প্রয়োজন নেই যতক্ষণ না তারা দেশত্যাগ করে। অবশ্য যদি তারা ধর্মীয় ব্যাপারে তোমাদের সহায়তা কামনা করে, তবে তাদের সাহায্য করা তোমাদের কর্তব্য। কিন্তু তোমাদের সাথে যাদের সহযোগী চুক্তি বিদ্যমান রয়েছে, তাদের মোকাবেলায় নয়। বস্তুতঃ তোমরা যা কিছু কর, আল্লাহ সেসবই দেখেন।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।