Mishary Rashid Alafasy
✓
Mahmoud Khalil Al-Husary
✓
Abdurrahman As-Sudais
✓
Mohamed Siddiq Al-Minshawi
✓
Abdul Basit Abdul Samad
✓
Ali Al-Hudhaify
✓
Ahmed ibn Ali al-Ajamy
✓
Abu Bakr Ash-Shaatree
✓
Muhammad Ayyoub
✓
Abdullah Basfar
✓
Abdullah Al-Juhani
✓
Maher Al Muaiqly
✓
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
- يَلْمِزُكَ — তোমাকে দোষারোপ করে, তিরস্কার করে, খুঁত ধরে।
- الصَّدَقَاتِ — যাকাত ও দান-সদকা (এখানে যাকাতের সম্পদ বণ্টন বোঝানো হয়েছে)।
- رَضُوا — সন্তুষ্ট হলো।
- يَسْخَطُونَ — ক্রুদ্ধ হয়, অসন্তুষ্ট হয়।
তাফসির (ব্যাখ্যা):
এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা মুনাফিকদের আরেকটি কুৎসিত চরিত্র তুলে ধরেছেন। তারা ছিল এমন একদল লোক যারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যাকাত ও দান-সদকা বণ্টন নিয়ে সবসময় সমালোচনা করত। তারা নবী করিম (সা.)-কে দোষারোপ করত, বলত— আপনি যাকাতের মাল সঠিকভাবে বণ্টন করছেন না, অমুককে বেশি দিলেন, অমুককে কম দিলেন। কিন্তু তাদের এই সমালোচনার মূল কারণ ছিল না ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, বরং ছিল নিজেদের স্বার্থ।
আল্লাহ তাআলা তাদের প্রকৃত অবস্থা উন্মোচন করে বলছেন— এই মুনাফিকদের অবস্থা হলো, যদি তাদেরকে যাকাতের মাল থেকে কিছু দেওয়া হয়, তাহলে তারা খুশি হয়ে যায় এবং চুপ করে থাকে। আর যদি তাদেরকে কিছু না দেওয়া হয়, তাহলে সাথে সাথে তারা রাগান্বিত হয়ে ওঠে এবং ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকে। অর্থাৎ তাদের সমালোচনা ছিল সম্পূর্ণ স্বার্থপরতা ও লোভের ওপর ভিত্তি করে, কোনো ন্যায়নীতি বা দ্বীনের খেয়াল ছিল না। তারা যখন নিজেদের স্বার্থ পেত, তখন নবী (সা.)-এর বণ্টন পদ্ধতি তাদের কাছে ন্যায়সংগত মনে হতো; আর যখন স্বার্থ হতো না, তখনই শুরু হতো সমালোচনা ও অসন্তোষ।
শিক্ষা ও উপদেশ:
- মুমিনের চরিত্র হওয়া উচিত স্বার্থের ঊর্ধ্বে। সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে থাকা উচিত, নিজের লাভ-লোকসানের ভিত্তিতে নয়। মুনাফিকদের বৈশিষ্ট্য হলো— তাদের ভালোবাসা ও ঘৃণা, সমর্থন ও সমালোচনা— সবকিছুই নিজেদের স্বার্থের ওপর নির্ভরশীল।
- ইসলামে নেতা বা শাসকের প্রতি আস্থা রাখা এবং তার ন্যায়সঙ্গত সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া ঈমানের দাবি। রাসূল (সা.) যেহেতু আল্লাহর নির্দেশেই যাকাত বণ্টন করতেন, তাই তার সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি তোলা মূলত আল্লাহর বিধানের ওপর আপত্তি তোলার শামিল।
- যাকাত ও দান-সদকা বণ্টনে নেতার ওপর অযথা দোষারোপ করা মুনাফিকদের অভ্যাস। একজন প্রকৃত মুমিন আল্লাহর রাসূলের সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট থাকে, আর যদি কোনো বৈধ প্রশ্ন থাকে, তাহলে সৌজন্য ও শিষ্টাচারের সাথে উপস্থাপন করে।
- এই আয়াত আমাদের শেখায়— নিজের স্বার্থকে দ্বীনের ওপর প্রাধান্য দেওয়া কখনো উচিত নয়। যে ব্যক্তি দ্বীনের কাজে নিজের স্বার্থ খোঁজে, তার ঈমান দুর্বল। বরং দ্বীনের খাতিরে নিজের স্বার্থ বিসর্জন দেওয়াই মুমিনের পরিচয়।
- মানুষের সমালোচনা নিয়ে হতাশ হওয়া যাবে না। নবী (সা.) নিজেও মুনাফিকদের সমালোচনার শিকার হয়েছেন, কিন্তু তিনি ধৈর্য ধরে আল্লাহর নির্দেশ পালন করে গেছেন। আমাদেরও সত্যের পথে চলতে গেলে সমালোচনা আসবেই, কিন্তু আল্লাহর সন্তুষ্টিই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত।
📜 আয়াত 56-60 — সূরা আত-তওবা
অনুবাদ — আত-তওবা 58
সূরা আত-তওবা আয়াত 58 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : তাদের মধ্যে এমন লোকও রয়েছে যারা সদকা বন্টনে আপনাকে দোষারূপ…সূরা আয়াত 58/129 — সূরা আত-তওবা التوبة (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আত-তওবা শুনুন, সূরা আত-তওবা অনুবাদ, সূরা আত-তওবা mp3, সূরা আত-তওবা pdf. আয়াত 56–60. বাংলা অর্থ: हिन्दी.
সূরা আত-তওবা
পবিত্র কুরআন
Monday, September 28, 2026
আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না

