আত-তওবা · 63/129
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আত-তওবা
أَلَمْ يَعْلَمُوا أَنَّهُ مَن يُحَادِدِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَأَنَّ لَهُ نَارَ جَهَنَّمَ خَالِدًا فِيهَا ۚ ذَٰلِكَ الْخِزْيُ الْعَظِيمُ ۝٦٣
Alam ya`lamooo annahoo mai yuhaadidillaaha wa Rasoolahoo faanna lahoo Naara jahannama khaalidan feehaa; zaalikal khizyul `Azeem
📖 বাংলা অর্থ
তারা কি একথা জেনে নেয়নি যে, আল্লাহর সাথে এবং তাঁর রসূলের সাথে যে মোকাবেলা করে তার জন্যে নির্ধারিত রয়েছে দোযখ; তাতে সব সময় থাকবে। এটিই হল মহা-অপমান।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

أَلَمْ يَعْلَمُوا أَنَّهُ مَن يُحَادِدِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَأَنَّ لَهُ نَارَ جَهَنَّمَ خَالِدًا فِيهَا ۚ ذَٰلِكَ الْخِزْيُ الْعَظِيمُ

শব্দার্থ:

  • يُحَادِدِ – অর্থ: শত্রুতা করা, বিরোধিতা করা, সীমালঙ্ঘন করা। মূলত ‘হিদ্দ’ (حد) থেকে এসেছে, যার অর্থ সীমা। অর্থাৎ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সীমা অতিক্রম করে তাদের সাথে শত্রুতাপূর্ণ আচরণ করা।
  • الْخِزْيُ – অর্থ: অপমান, লাঞ্ছনা, চরম হীনতা ও লজ্জা।

তাফসির:

এই আয়াতে মুনাফিকদের প্রশ্ন করা হচ্ছে—তারা কি জানে না যে, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে শত্রুতা করে এবং তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, তার জন্য প্রস্তুত রয়েছে জাহান্নামের আগুন? সেখানে সে চিরকাল থাকবে, কোনো মুক্তি নেই। এটাই হলো চরম অপমান ও লাঞ্ছনা—যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে, তার পরিণাম হবে জাহান্নামের স্থায়ী শাস্তি, যা সকল অপমানের চেয়ে বড় অপমান।

এই আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ তা‘আলা মুনাফিকদের সতর্ক করেছেন, যারা রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে কষ্ট দিত, তাঁর সম্পর্কে মন্দ কথা বলত এবং ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করত। তাদের এসব কাজ মূলত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে শত্রুতার শামিল। আর এর ফলাফল হবে জাহান্নামের চিরস্থায়ী আগুন—যা কোনো অবস্থাতেই এড়ানো যাবে না। এটি তাদের জন্য লজ্জা ও অপমানের চূড়ান্ত পর্যায়, যা কিয়ামতের দিন সবার সামনে প্রকাশ পাবে।

শিক্ষা ও উপকারিতা:

  1. আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে শত্রুতা করা অত্যন্ত মারাত্মক অপরাধ, যার শাস্তি জাহান্নামের স্থায়ী আগুন। তাই প্রতিটি মুমিনের উচিত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ভালোবাসাকে সর্বোচ্চ স্থান দেওয়া এবং তাদের আদেশ-নিষেধ মেনে চলা।
  2. রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে কষ্ট দেওয়া, তাঁর সম্মানহানি করা বা তাঁর বিরুদ্ধে মন্দ কথা বলা সরাসরি আল্লাহর সাথে শত্রুতার সমতুল্য। কারণ রাসূল (সা.) আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত।
  3. এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, দুনিয়ায় কেউ যত বড় শক্তির অধিকারী হোক না কেন, আল্লাহর শাস্তি থেকে বাঁচার কোনো উপায় নেই। আল্লাহর ক্ষমতা ও প্রতিশোধের ভয় প্রতিটি মুমিনের অন্তরে থাকা চাই।
  4. ইসলামের পথে চলার সময় যেসব বাধা-বিপত্তি আসে, সেগুলো মোকাবিলায় আমাদের ধৈর্য ধরতে হবে এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রাখতে হবে। কারণ আল্লাহ তাঁর শত্রুদের কখনো ছেড়ে দেন না।
  5. মুনাফিকদের চরিত্র থেকে আমাদের শিক্ষা নেওয়া উচিত—মুখে ঈমান বলা আর অন্তরে কুফরি লুকিয়ে রাখা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। আল্লাহ সব কিছু জানেন এবং প্রত্যেকের আমল অনুযায়ী প্রতিদান দেবেন।


📜 আয়াত 61-65 — সূরা আত-তওবা

61وَمِنْهُمُ الَّذِينَ يُؤْذُونَ النَّبِيَّ وَيَقُولُونَ هُوَ أُذُنٌ ۚ قُلْ أُذُنُ خَيْرٍ لَّكُمْ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَيُؤْمِنُ لِلْمُؤْمِنِينَ وَرَحْمَةٌ لِّلَّذِينَ آمَنُوا مِنكُمْ ۚ وَالَّذِينَ يُؤْذُونَ رَسُولَ اللَّهِ لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ
আর তাদের মধ্যে কেউ কেউ নবীকে ক্লেশ দেয়, এবং বলে, এ লোকটি তো কানসর্বস্ব। আপনি বলে দিন, কান হলেও তোমাদেরই মঙ্গলের জন্য, আল্লাহর উপর বিশ্বাস রাখে এবং বিশ্বাস রাখে মুসলমানদের কথার উপর। বস্তুতঃ তোমাদের মধ্যে যারা ঈমানদার তাদের জন্য তিনি রহমতবিশেষ। আর যারা আল্লাহর রসূলের প্রতি কুৎসা রটনা করে, তাদের জন্য রয়েছে বেদনাদায়ক আযাব।
62يَحْلِفُونَ بِاللَّهِ لَكُمْ لِيُرْضُوكُمْ وَاللَّهُ وَرَسُولُهُ أَحَقُّ أَن يُرْضُوهُ إِن كَانُوا مُؤْمِنِينَ
তোমাদের সামনে আল্লাহর কসম খায় যাতে তোমাদের রাযী করতে পারে। অবশ্য তারা যদি ঈমানদার হয়ে থাকে, তবে আল্লাহকে এবং তাঁর রসূলকে রাযী করা অত্যন্ত জরুরী।
63أَلَمْ يَعْلَمُوا أَنَّهُ مَن يُحَادِدِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَأَنَّ لَهُ نَارَ جَهَنَّمَ خَالِدًا فِيهَا ۚ ذَٰلِكَ الْخِزْيُ الْعَظِيمُ
তারা কি একথা জেনে নেয়নি যে, আল্লাহর সাথে এবং তাঁর রসূলের সাথে যে মোকাবেলা করে তার জন্যে নির্ধারিত রয়েছে দোযখ; তাতে সব সময় থাকবে। এটিই হল মহা-অপমান।
64يَحْذَرُ الْمُنَافِقُونَ أَن تُنَزَّلَ عَلَيْهِمْ سُورَةٌ تُنَبِّئُهُم بِمَا فِي قُلُوبِهِمْ ۚ قُلِ اسْتَهْزِئُوا إِنَّ اللَّهَ مُخْرِجٌ مَّا تَحْذَرُونَ
মুনাফেকরা এ ব্যাপারে ভয় করে যে, মুসলমানদের উপর না এমন কোন সূরা নাযিল হয়, যাতে তাদের অন্তরের গোপন বিষয় অবহিত করা হবে। সুতরাং আপনি বলে দিন, ঠাট্টা-বিদ্রপ করতে থাক; আল্লাহ তা অবশ্যই প্রকাশ করবেন যার ব্যাপারে তোমরা ভয় করছ।
65وَلَئِن سَأَلْتَهُمْ لَيَقُولُنَّ إِنَّمَا كُنَّا نَخُوضُ وَنَلْعَبُ ۚ قُلْ أَبِاللَّهِ وَآيَاتِهِ وَرَسُولِهِ كُنتُمْ تَسْتَهْزِئُونَ
আর যদি তুমি তাদের কাছে জিজ্ঞেস কর, তবে তারা বলবে, আমরা তো কথার কথা বলছিলাম এবং কৌতুক করছিলাম। আপনি বলুন, তোমরা কি আল্লাহর সাথে, তাঁর হুকুম আহকামের সাথে এবং তাঁর রসূলের সাথে ঠাট্টা করছিলে?
আত-তওবাকুরআন সূচী
129আয়াত
মাদানীঅবতরণস্থান
63আয়াত

অনুবাদ — আত-তওবা 63

সূরা আত-তওবা আয়াত 63 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : তারা কি একথা জেনে নেয়নি যে, আল্লাহর সাথে এবং তাঁর…

সূরা আয়াত 63/129 — সূরা আত-তওবা التوبة (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আত-তওবা শুনুন, সূরা আত-তওবা অনুবাদ, সূরা আত-তওবা mp3, সূরা আত-তওবা pdf. আয়াত 61–65. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Monday, September 28, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না