Alam ya`lamooo annahoo mai yuhaadidillaaha wa Rasoolahoo faanna lahoo Naara jahannama khaalidan feehaa; zaalikal khizyul `Azeem
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
তারা কি একথা জেনে নেয়নি যে, আল্লাহর সাথে এবং তাঁর রসূলের সাথে যে মোকাবেলা করে তার জন্যে নির্ধারিত রয়েছে দোযখ; তাতে সব সময় থাকবে। এটিই হল মহা-অপমান।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
तो ख़ुदा और उसका रसूल कहीं ज्यादा हक़दार है कि उसको राज़ी रखें क्या ये लोग ये भी नहीं जानते कि जिस शख़्स ने ख़ुदा और उसके रसूल की मुख़ालेफ़त की तो इसमें शक़ ही नहीं कि उसके लिए जहन्नुम की आग (तैयार रखी) है
يُحَادِدِ – অর্থ: শত্রুতা করা, বিরোধিতা করা, সীমালঙ্ঘন করা। মূলত ‘হিদ্দ’ (حد) থেকে এসেছে, যার অর্থ সীমা। অর্থাৎ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সীমা অতিক্রম করে তাদের সাথে শত্রুতাপূর্ণ আচরণ করা।
الْخِزْيُ – অর্থ: অপমান, লাঞ্ছনা, চরম হীনতা ও লজ্জা।
তাফসির:
এই আয়াতে মুনাফিকদের প্রশ্ন করা হচ্ছে—তারা কি জানে না যে, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে শত্রুতা করে এবং তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, তার জন্য প্রস্তুত রয়েছে জাহান্নামের আগুন? সেখানে সে চিরকাল থাকবে, কোনো মুক্তি নেই। এটাই হলো চরম অপমান ও লাঞ্ছনা—যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে, তার পরিণাম হবে জাহান্নামের স্থায়ী শাস্তি, যা সকল অপমানের চেয়ে বড় অপমান।
এই আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ তা‘আলা মুনাফিকদের সতর্ক করেছেন, যারা রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে কষ্ট দিত, তাঁর সম্পর্কে মন্দ কথা বলত এবং ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করত। তাদের এসব কাজ মূলত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে শত্রুতার শামিল। আর এর ফলাফল হবে জাহান্নামের চিরস্থায়ী আগুন—যা কোনো অবস্থাতেই এড়ানো যাবে না। এটি তাদের জন্য লজ্জা ও অপমানের চূড়ান্ত পর্যায়, যা কিয়ামতের দিন সবার সামনে প্রকাশ পাবে।
শিক্ষা ও উপকারিতা:
আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে শত্রুতা করা অত্যন্ত মারাত্মক অপরাধ, যার শাস্তি জাহান্নামের স্থায়ী আগুন। তাই প্রতিটি মুমিনের উচিত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ভালোবাসাকে সর্বোচ্চ স্থান দেওয়া এবং তাদের আদেশ-নিষেধ মেনে চলা।
রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে কষ্ট দেওয়া, তাঁর সম্মানহানি করা বা তাঁর বিরুদ্ধে মন্দ কথা বলা সরাসরি আল্লাহর সাথে শত্রুতার সমতুল্য। কারণ রাসূল (সা.) আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত।
এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, দুনিয়ায় কেউ যত বড় শক্তির অধিকারী হোক না কেন, আল্লাহর শাস্তি থেকে বাঁচার কোনো উপায় নেই। আল্লাহর ক্ষমতা ও প্রতিশোধের ভয় প্রতিটি মুমিনের অন্তরে থাকা চাই।
ইসলামের পথে চলার সময় যেসব বাধা-বিপত্তি আসে, সেগুলো মোকাবিলায় আমাদের ধৈর্য ধরতে হবে এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রাখতে হবে। কারণ আল্লাহ তাঁর শত্রুদের কখনো ছেড়ে দেন না।
মুনাফিকদের চরিত্র থেকে আমাদের শিক্ষা নেওয়া উচিত—মুখে ঈমান বলা আর অন্তরে কুফরি লুকিয়ে রাখা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। আল্লাহ সব কিছু জানেন এবং প্রত্যেকের আমল অনুযায়ী প্রতিদান দেবেন।
আর তাদের মধ্যে কেউ কেউ নবীকে ক্লেশ দেয়, এবং বলে, এ লোকটি তো কানসর্বস্ব। আপনি বলে দিন, কান হলেও তোমাদেরই মঙ্গলের জন্য, আল্লাহর উপর বিশ্বাস রাখে এবং বিশ্বাস রাখে মুসলমানদের কথার উপর। বস্তুতঃ তোমাদের মধ্যে যারা ঈমানদার তাদের জন্য তিনি রহমতবিশেষ। আর যারা আল্লাহর রসূলের প্রতি কুৎসা রটনা করে, তাদের জন্য রয়েছে বেদনাদায়ক আযাব।
মুনাফেকরা এ ব্যাপারে ভয় করে যে, মুসলমানদের উপর না এমন কোন সূরা নাযিল হয়, যাতে তাদের অন্তরের গোপন বিষয় অবহিত করা হবে। সুতরাং আপনি বলে দিন, ঠাট্টা-বিদ্রপ করতে থাক; আল্লাহ তা অবশ্যই প্রকাশ করবেন যার ব্যাপারে তোমরা ভয় করছ।
আর যদি তুমি তাদের কাছে জিজ্ঞেস কর, তবে তারা বলবে, আমরা তো কথার কথা বলছিলাম এবং কৌতুক করছিলাম। আপনি বলুন, তোমরা কি আল্লাহর সাথে, তাঁর হুকুম আহকামের সাথে এবং তাঁর রসূলের সাথে ঠাট্টা করছিলে?
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।