হুদ · 105/123
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা হুদ
يَوْمَ يَأْتِ لَا تَكَلَّمُ نَفْسٌ إِلَّا بِإِذْنِهِ ۚ فَمِنْهُمْ شَقِيٌّ وَسَعِيدٌ ۝١٠٥
Yawma yaati laa takallamu nafsun illaa bi iznih; faminhum shaqiyyunw wa sa`eed
📖 বাংলা অর্থ
যেদিন তা আসবে সেদিন আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কেউ কোন কথা বলতে পারে না। অতঃপর কিছু লোক হবে হতভাগ্য আর কিছু লোক সৌভাগ্যবান।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

يَوْمَ يَأْتِ لَا تَكَلَّمُ نَفْسٌ إِلَّا بِإِذْنِهِ ۚ فَمِنْهُمْ شَقِيٌّ وَسَعِيدٌ

শব্দার্থ:

  • يَوْمَ يَأْتِ: সেই দিনকে বোঝানো হয়েছে, যখন কিয়ামত সংঘটিত হবে।
  • لَا تَكَلَّمُ نَفْسٌ: কোনো প্রাণী কথা বলতে পারবে না।
  • إِلَّا بِإِذْنِهِ: তবে আল্লাহর অনুমতি ছাড়া নয়।
  • شَقِيٌّ: যে শাস্তির উপযুক্ত, অভাগা।
  • سَعِيدٌ: যে সুখী, সৌভাগ্যবান।

তাফসির:

কিয়ামতের সেই ভয়াবহ দিনটি যখন উপস্থিত হবে, তখন কোনো ব্যক্তির পক্ষে কথা বলার কোনো ক্ষমতা থাকবে না। প্রত্যেকেই সম্পূর্ণ নীরব হয়ে যাবে। কেউ কোনো কথা বলতে পারবে না, কোনো সুপারিশও করতে পারবে না, যতক্ষণ না আল্লাহ তাআলা তাকে অনুমতি দেন। এমনকি ফেরেশতা, নবী-রাসূলগণও আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কথা বলতে পারবেন না। শুধুমাত্র যাদেরকে আল্লাহ সুপারিশের অনুমতি দেবেন, তারাই কথা বলতে পারবেন।

এই দিনে সমস্ত মানুষ দু'ভাগে বিভক্ত হয়ে যাবে:

  1. শকি (অভাগা): যারা দুনিয়ায় কুফরি ও পাপাচারে লিপ্ত ছিল, তারা চিরস্থায়ী শাস্তির উপযুক্ত হবে এবং জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে।
  2. সাঈদ (সৌভাগ্যবান): যারা ঈমান এনেছিল এবং সৎকর্ম করেছিল, তারা আল্লাহর রহমতে জান্নাতের চিরস্থায়ী সুখ-শান্তি লাভ করবে।

শিক্ষা ও উপকারিতা:

  1. কিয়ামতের দিনের ভয়াবহতা আমাদের উপলব্ধি করানো হয়েছে, যাতে আমরা দুনিয়ার জীবনে সতর্ক থাকি এবং আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে চলি।
  2. আল্লাহ তাআলাই একমাত্র ক্ষমতার মালিক। তাঁর অনুমতি ছাড়া কেউ কোনো কথা বলতে বা সুপারিশ করতে পারবে না। তাই আমাদের উচিত সব সময় আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা।
  3. এই আয়াত আমাদের জানায় যে, মানুষের ভাগ্য দু'প্রকার—শকি ও সাঈদ। আমাদের উচিত সাঈদদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য চেষ্টা করা, অর্থাৎ ঈমান ও সৎকর্মের মাধ্যমে নিজেদের জীবন গঠন করা।
  4. আল্লাহর রহমত অপরিসীম। তিনি চাইলে যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করবেন এবং জান্নাত দান করবেন। তাই আমাদের উচিত আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ না হয়ে সর্বদা তাঁর দিকে ফিরে আসা।
  5. এই আয়াত আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, দুনিয়ার জীবনই শেষ নয়; আসল জীবন আখিরাতের। তাই আমাদের উচিত দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী সুখের পেছনে না ছুটে আখিরাতের চিরস্থায়ী সুখ অর্জনের চেষ্টা করা।


📜 আয়াত 103-107 — সূরা হুদ

103إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَآيَةً لِّمَنْ خَافَ عَذَابَ الْآخِرَةِ ۚ ذَٰلِكَ يَوْمٌ مَّجْمُوعٌ لَّهُ النَّاسُ وَذَٰلِكَ يَوْمٌ مَّشْهُودٌ
নিশ্চয় ইহার মধ্যে নিদর্শন রয়েছে এমন প্রতিটি মানুষের জন্য যে আখেরাতের আযাবকে ভয় করে। উহা এমন একদিন, যে দিন সব মানুষেই সমবেত হবে, সেদিনটি যে হাযিরের দিন।
104وَمَا نُؤَخِّرُهُ إِلَّا لِأَجَلٍ مَّعْدُودٍ
আর আমি যে উহা বিলম্বিত করি, তা শুধু একটি ওয়াদার কারণে যা নির্ধারিত রয়েছে।
105يَوْمَ يَأْتِ لَا تَكَلَّمُ نَفْسٌ إِلَّا بِإِذْنِهِ ۚ فَمِنْهُمْ شَقِيٌّ وَسَعِيدٌ
যেদিন তা আসবে সেদিন আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কেউ কোন কথা বলতে পারে না। অতঃপর কিছু লোক হবে হতভাগ্য আর কিছু লোক সৌভাগ্যবান।
106فَأَمَّا الَّذِينَ شَقُوا فَفِي النَّارِ لَهُمْ فِيهَا زَفِيرٌ وَشَهِيقٌ
অতএব যারা হতভাগ্য তারা দোযখে যাবে, সেখানে তারা আর্তনাদ ও চিৎকার করতে থাকবে।
107خَالِدِينَ فِيهَا مَا دَامَتِ السَّمَاوَاتُ وَالْأَرْضُ إِلَّا مَا شَاءَ رَبُّكَ ۚ إِنَّ رَبَّكَ فَعَّالٌ لِّمَا يُرِيدُ
তারা সেখানে চিরকাল থাকবে, যতদিন আসমান ও যমীন বর্তমান থাকবে। তবে তোমার প্রতিপালক অন্য কিছু ইচ্ছা করলে ভিন্ন কথা। নিশ্চয় তোমার পরওয়ারদেগার যা ইচ্ছা করতে পারেন।
হুদকুরআন সূচী
123আয়াত
মাক্কীঅবতরণস্থান
105আয়াত

অনুবাদ — হুদ 105

সূরা হুদ আয়াত 105 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : যেদিন তা আসবে সেদিন আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কেউ কোন কথা…

সূরা আয়াত 105/123 — সূরা হুদ هود (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা হুদ শুনুন, সূরা হুদ অনুবাদ, সূরা হুদ mp3, সূরা হুদ pdf. আয়াত 103–107. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Thursday, October 1, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না