مِنَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ — আকাশ থেকে (বৃষ্টি) এবং জমিন থেকে (উদ্ভিদ/ফসল)।
لَا يَسْتَطِيعُونَ — তারা সক্ষম নয়, তাদের কোনো ক্ষমতা নেই।
তাফসীর (ব্যাখ্যা):
এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা মুশরিকদের একটি মূর্খতাপূর্ণ কর্মের বর্ণনা দিয়েছেন। তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে এমন কিছু উপাস্য বানিয়ে নিয়েছে যাদের কোনো ক্ষমতাই নেই। তারা যে মূর্তি বা দেব-দেবীর পূজা করে, সেই বস্তুগুলো তাদের জন্য আকাশ থেকে বৃষ্টি নামিয়ে আনার বা জমিন থেকে ফসল উৎপাদন করার কোনো ক্ষমতা রাখে না। তারা জীবিকার সামান্যতম অংশও তাদের দিতে পারে না—না অল্প, না বেশি। বরং তারা তো সম্পূর্ণ অক্ষম, নিষ্প্রাণ বস্তু; তাদের পক্ষে নিজেদের জন্যও কিছু আনা সম্ভব নয়, অন্যদের দেবে কী করে?
মুশরিকরা যখন দেখে যে তাদের উপাস্যরা কোনো উপকার বা অপকার করতে পারে না, বরং তারা তো নিজেরাই অসহায়, তারপরও তারা তাদের ইবাদত করে। অথচ আল্লাহই একমাত্র রিযিকদাতা—তিনি আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং জমিন থেকে উদ্ভিদ উৎপন্ন করেন। তিনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান। তাই বুদ্ধিমান মানুষের উচিত শুধুমাত্র আল্লাহর ইবাদত করা, যিনি প্রকৃত উপকার-অপকারের মালিক।
শিক্ষা ও উপদেশ:
জীবিকার একমাত্র মালিক আল্লাহ তাআলা। তিনি যেমন আকাশ থেকে বৃষ্টি দেন, তেমনি জমিন থেকে ফসল উৎপন্ন করেন। তাই রিযিকের জন্য আল্লাহর উপর ভরসা করা প্রতিটি মুমিনের কর্তব্য।
এমন কোনো বস্তু বা সৃষ্টিকে উপাস্য বানানো সম্পূর্ণ বোকামি ও পথভ্রষ্টতা, যে নিজে কোনো ক্ষমতা রাখে না। প্রকৃত ইবাদত শুধু সেই সত্তার প্রাপ্য, যিনি সর্বশক্তিমান।
এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করা কেবল শিরকই নয়, বরং এটি মানুষের বুদ্ধি-বিবেচনারও পরিপন্থী। কারণ অক্ষম বস্তুর কাছে সাহায্য চাওয়া কখনোই ফলপ্রসূ হতে পারে না।
মুমিনের জীবনে তাওহীদের (একত্ববাদের) চেতনা এমন হওয়া উচিত যে, সে প্রতিটি বিষয়ে আল্লাহর উপর নির্ভর করবে এবং তাঁর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করবে। কারণ তিনিই একমাত্র রিযিকদাতা ও সকল প্রয়োজনের জবাবদাতা।
আল্লাহ তা’আলা জীবনোপকরণে তোমাদের একজনকে অন্যজনের চাইতে শ্রেষ্টত্ব দিয়েছেন। অতএব যাদেরকে শ্রেষ্ঠত্ব দেয়া হয়েছে, তারা তাদের অধীনস্থ দাস-দাসীদেরকে স্বীয় জীবিকা থেকে এমন কিছু দেয় না, যাতে তারা এ বিষয়ে তাদের সমান হয়ে যাবে। তবে কি তারা আল্লাহর নেয়ামত অস্বীকার করে।
আল্লাহ তোমাদের জন্যে তোমাদেরই শ্রেণী থেকে জোড়া পয়দা করেছেন এবং তোমাদের যুগল থেকে তোমাদেরকে পুত্র ও পৌত্রাদি দিয়েছেন এবং তোমাদেরকে উত্তম জীবনোপকরণ দান করেছেন। অতএব তারা কি মিথ্যা বিষয়ে বিশ্বাস স্থাপন করে এবং আল্লাহর অনুগ্রহ অস্বীকার করে?
আল্লাহ একটি দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেছেন, অপরের মালিকানাধীন গোলামের যে, কোন কিছুর উপর শক্তি রাখে না এবং এমন একজন যাকে আমি নিজের পক্ষ থেকে চমৎকার রুযী দিয়েছি। অতএব, সে তা থেকে ব্যয় করে গোপনে ও প্রকাশ্যে উভয়ে কি সমান হয়? সব প্রশংসা আল্লাহর, কিন্তু অনেক মানুষ জানে না।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।