অতএব, আল্লাহর কোন সদৃশ সাব্যস্ত করো না, নিশ্চয় আল্লাহ জানেন এবং তোমরা জান না।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
فَلَا تَضْرِبُوا – তোমরা বানাও না, উপমা দিও না।
الْأَمْثَالَ – উপমাসমূহ, সাদৃশ্য, তুলনা।
يَعْلَمُ – তিনি জানেন (নিখুঁতভাবে)।
لَا تَعْلَمُونَ – তোমরা জানো না।
তাফসীর (ব্যাখ্যা):
হে মানুষ! যখন তোমরা নিশ্চিতভাবে জেনে গেছ যে, এই মূর্তি ও প্রতিমাগুলো কোনো উপকার বা অপকার করতে সক্ষম নয়, তখন তোমরা আল্লাহর জন্য কোনো উপমা সৃষ্টি করো না। অর্থাৎ, তাঁর সৃষ্টির মধ্যে থেকে কাউকে তাঁর সমতুল্য বা সদৃশ বানিয়ে তাঁর সাথে ইবাদতে শরিক করো না। কারণ, আল্লাহর কোনো সাদৃশ্য, সমকক্ষ বা প্রতিরূপ নেই। তিনি সব গুণে পরিপূর্ণ, পবিত্র ও সীমাহীন। তাঁর কোনো তুলনা দেওয়া সম্পূর্ণ ভুল ও অন্যায়।
আল্লাহ তা‘আলা সম্পূর্ণভাবে জানেন যে, তাঁর কোনো সমকক্ষ বা সদৃশ নেই, এবং তিনি জানেন তাঁর পবিত্র সত্তার জন্য কোন কোন গুণ ও বৈশিষ্ট্য প্রযোজ্য। কিন্তু তোমরা অজ্ঞ, কারণ তোমাদের জ্ঞান সীমিত। তোমরা তাঁর মহত্ত্ব ও পূর্ণতা সম্পর্কে সঠিকভাবে জানতে পারো না, তাই তোমরা তাঁর সাথে সৃষ্টির তুলনা করে শিরকে লিপ্ত হয়ে যাচ্ছ। অথচ আল্লাহর শান ও মর্যাদা সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান একমাত্র তাঁরই আছে, আর তোমরা সেই জ্ঞান থেকে বঞ্চিত।
শিক্ষা ও উপকারিতা:
আল্লাহ তা‘আলা সৃষ্টিজগতের কোনো কিছুর সাথে তুলনীয় নন—এটা ঈমানের মৌলিক বিষয়। তাঁর কোনো সাদৃশ্য নেই, কোনো সমকক্ষ নেই।
মানুষের সীমিত জ্ঞান আল্লাহর পূর্ণতা ও মহত্ত্ব উপলব্ধি করতে অক্ষম। তাই আল্লাহ সম্পর্কে নিজের ধারণা বা কল্পনা থেকে কোনো কথা বলা উচিত নয়।
শিরক থেকে বাঁচতে হলে আল্লাহর পরিচয় কুরআন ও সুন্নাহ থেকে শিখতে হবে, নিজের মনগড়া ধারণা থেকে নয়।
এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, আল্লাহর গুণাবলি ও সিফাত সম্পর্কে বিনয়ী ও সতর্ক থাকা জরুরি, যেন আমরা অজ্ঞতাবশত কোনো ভুল তুলনা না করি।
ইসলামের এই শিক্ষা মানুষকে প্রকৃত তাওহীদের দিকে পরিচালিত করে, যা মানুষের মনকে শান্তি ও আত্মাকে পবিত্রতা দান করে এবং তাকে সব ধরনের ভ্রান্ত বিশ্বাস থেকে মুক্ত রাখে।
আল্লাহ তোমাদের জন্যে তোমাদেরই শ্রেণী থেকে জোড়া পয়দা করেছেন এবং তোমাদের যুগল থেকে তোমাদেরকে পুত্র ও পৌত্রাদি দিয়েছেন এবং তোমাদেরকে উত্তম জীবনোপকরণ দান করেছেন। অতএব তারা কি মিথ্যা বিষয়ে বিশ্বাস স্থাপন করে এবং আল্লাহর অনুগ্রহ অস্বীকার করে?
আল্লাহ একটি দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেছেন, অপরের মালিকানাধীন গোলামের যে, কোন কিছুর উপর শক্তি রাখে না এবং এমন একজন যাকে আমি নিজের পক্ষ থেকে চমৎকার রুযী দিয়েছি। অতএব, সে তা থেকে ব্যয় করে গোপনে ও প্রকাশ্যে উভয়ে কি সমান হয়? সব প্রশংসা আল্লাহর, কিন্তু অনেক মানুষ জানে না।
আল্লাহ আরেকটি দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেছেন, দু’ব্যক্তির, একজন বোবা কোন কাজ করতে পারে না। সে মালিকের উপর বোঝা। যেদিকে তাকে পাঠায়, কোন সঠিক কাজ করে আসে না। সে কি সমান হবে ঐ ব্যক্তির, যে ন্যায় বিচারের আদেশ করে এবং সরল পথে কায়েম রয়েছে।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।