বলুনঃ আমার ও তোমাদের মধ্যে সত্য প্রতিষ্ঠাকারী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট। তিনি তো স্বীয় বান্দাদের বিষয়ে খবর রাখেন ও দেখেন।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
شَهِيدًا – সাক্ষী, সত্যতা প্রমাণকারী।
خَبِيرًا – সবকিছুর খবর রাখেন, গোপন ও প্রকাশ্য সব অবস্থা সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত।
بَصِيرًا – সবকিছু দেখেন, তাঁর দৃষ্টি থেকে কিছুই লুকানো নেই।
তাফসীর:
হে নবী! আপনি তাদের বলে দিন, “আমার ও তোমাদের মধ্যে সাক্ষী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট।” তিনি সাক্ষী যে, আমি তাঁর পক্ষ থেকে প্রেরিত রাসূল এবং আমি তোমাদের কাছে যা প্রেরণ করা হয়েছে তা পৌঁছে দিয়েছি। আল্লাহ তা’আলা তাঁর বান্দাদের সম্পর্কে সম্পূর্ণ খবর রাখেন — তাদের গোপন ও প্রকাশ্য, ছোট-বড় সব কাজ সম্পর্কে তিনি অবগত। তিনি তাদের অন্তরের গোপন বিষয়গুলোও দেখেন এবং তাদের প্রতিটি কাজের হিসাব নেবেন। যারা সত্যকে অস্বীকার করে এবং নবীকে মিথ্যা বলে, তাদেরকে তিনি শাস্তি দেবেন; আর যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, তাদেরকে তিনি পুরস্কৃত করবেন। এই ঘোষণায় নবীর জন্য রয়েছে সান্ত্বনা যে, তাঁর দাওয়াতের সত্যতা সম্পর্কে আল্লাহই যথেষ্ট সাক্ষী, আর কাফিরদের জন্য রয়েছে সতর্কবার্তা যে, আল্লাহ তাদের সকল কর্ম সম্পর্কে অবগত এবং তিনি তাদেরকে তাদের কাজের প্রতিদান দেবেন।
শিক্ষা ও উপদেশ:
নবী (সা.)-এর সত্যতা প্রমাণের জন্য আল্লাহর সাক্ষ্যই সর্বোচ্চ প্রমাণ। মানুষের সাক্ষ্যের প্রয়োজন নেই যখন আল্লাহ নিজেই তাঁর রাসূলের সত্যতার সাক্ষী।
আল্লাহ তাঁর বান্দাদের সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত — তাদের ভালো-মন্দ, গোপন-প্রকাশ্য সবকিছু তিনি জানেন। এই বিশ্বাস মানুষের মধ্যে আত্মসংযম আনে এবং তাকে সৎকর্মে উদ্বুদ্ধ করে।
যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে এবং তাঁর সাক্ষ্যকে যথেষ্ট মনে করে, তার অন্তর প্রশান্ত থাকে এবং মানুষের কথা-কাটাকাটি বা সমালোচনা তাকে বিচলিত করতে পারে না।
এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, দাওয়াতের কাজে আল্লাহর ওপর নির্ভর করাই সবচেয়ে বড় শক্তি। মানুষের সমর্থন বা বিরোধিতা যাই হোক, আল্লাহর সাক্ষ্যই আমাদের জন্য যথেষ্ট।
আল্লাহর দৃষ্টি ও জ্ঞান থেকে কিছুই লুকানো নেই — এই চেতনা মুমিনকে সর্বদা সতর্ক রাখে এবং তাকে আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে চলতে সাহায্য করে।
আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন, সেই তো সঠিক পথ প্রাপ্ত এবং যাকে পথ ভ্রষ্ট করেন, তাদের জন্যে আপনি আল্লাহ ছাড়া কোন সাহায্যকারী পাবেন না। আমি কেয়ামতের দিন তাদের সমবেত করব তাদের মুখে ভর দিয়ে চলা অবস্থায়, অন্ধ অবস্থায়, মুক অবস্থায় এবং বধির অবস্থায়। তাদের আবাসস্থল জাহান্নাম। যখনই নির্বাপিত হওয়ার উপক্রম হবে আমি তখন তাদের জন্যে অগ্নি আরও বৃদ্ধি করে দিব।
এটাই তাদের শাস্তি। কারণ, তারা আমার নিদর্শনসমূহ অস্বীকার করেছে এবং বলেছেঃ আমরা যখন অস্থিতে পরিণত ও চুর্ণ-বিচুর্ণ হয়ে যাব, তখনও কি আমরা নতুনভাবে সৃজিত হয়ে উত্থিত হব?
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।