صَرَّفْنَا = আমরা বিবিধভাবে উপস্থাপন করেছি, বিভিন্ন রূপে বর্ণনা করেছি।
مَثَل = উপমা, দৃষ্টান্ত, শিক্ষণীয় ঘটনা।
جَدَلًا = বিতর্ক, তর্ক, ঝগড়া-বিবাদ।
তাফসির:
আল্লাহ তাআলা এই আয়াতে ঘোষণা করছেন যে, তিনি এই কুরআনে মানুষের জন্য নানা ধরনের উপমা, দৃষ্টান্ত ও শিক্ষণীয় ঘটনা বিবিধভাবে বর্ণনা করেছেন। কখনো সরাসরি আদেশ-নিষেধের মাধ্যমে, কখনো গল্প-কাহিনির মাধ্যমে, কখনো উপমা-দৃষ্টান্তের মাধ্যমে—যাতে মানুষ সহজে বুঝতে পারে, উপদেশ গ্রহণ করে এবং ঈমান আনে। কিন্তু এরপরও মানুষের স্বভাব হলো, সে সবচেয়ে বেশি বিতর্কপ্রিয়। বিশেষ করে কাফির ও অবিশ্বাসীরা সত্যকে মেনে নেওয়ার পরিবর্তে অযথা তর্ক-বিতর্কে লিপ্ত হয়। তারা যুক্তি-প্রমাণ দেখার পরও হঠকারিতার কারণে সত্যকে অস্বীকার করে এবং মিথ্যা যুক্তি দিয়ে সত্যকে খণ্ডন করার চেষ্টা করে। মানুষের এই বিতর্কপ্রবণতা অন্যান্য সৃষ্টির তুলনায় অনেক বেশি—এটাই আয়াতের মূল বক্তব্য।
শিক্ষা ও উপদেশ:
কুরআন是人类 হেদায়েতের পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ। এতে মানুষের জীবনের প্রতিটি প্রয়োজনীয় বিষয়ে দিকনির্দেশনা রয়েছে, যা বিভিন্ন উপমা ও দৃষ্টান্তের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে।
আল্লাহর কিতাবের প্রতি মনোযোগী হওয়া এবং তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা প্রতিটি মুমিনের কর্তব্য। কুরআনের প্রতিটি আয়াত, প্রতিটি ঘটনা আমাদের জন্য চিন্তা-ভাবনার আমন্ত্রণ।
অযথা তর্ক-বিতর্ক থেকে বিরত থাকা উচিত। সত্য স্পষ্ট হয়ে গেলে তা মেনে নেওয়াই ঈমানের দাবি। বিতর্ক তখনই গ্রহণযোগ্য যখন তা সত্য উদঘাটনের জন্য হয়, হঠকারিতা ও অহংকারের জন্য নয়।
মানুষের মধ্যে বিতর্কপ্রবণতা থাকলেও, মুমিনের বৈশিষ্ট্য হলো নম্রতা, বিনয় এবং সত্য গ্রহণের প্রস্তুতি। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করে আমাদের উচিত সুন্দর পদ্ধতিতে মানুষকে সত্যের দিকে আহ্বান করা।
এই আয়াত আমাদের সতর্ক করে যে, শুধু তর্ক করাই যথেষ্ট নয়; বরং কুরআনের শিক্ষা অনুযায়ী আমল করা এবং নিজের জীবনকে গঠন করাই আসল লক্ষ্য।
যেদিন তিনি বলবেনঃ তোমরা যাদেরকে আমার শরীক মনে করতে তাদেরকে ডাক। তারা তখন তাদেরকে ডাকবে, কিন্তু তারা এ আহবানে সাড়া দেবে না। আমি তাদের মধ্যস্থলে রেখে দেব একটি মৃত্যু গহবর।
হেদায়েত আসার পর এ প্রতীক্ষাই শুধু মানুষকে বিশ্বাস স্থাপন করতে এবং তাদের পালনকর্তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে বিরত রাখে যে, কখন আসবে তাদের কাছে পূর্ববর্তীদের রীতিনীতি অথবা কখন আসবে তাদের কাছেআযাব সামনাসামনি।
আমি রাসূলগনকে সুসংবাদ দাতা ও ভয় প্রদর্শন কারীরূপেই প্রেরণ করি এবং কাফেররাই মিথ্যা অবলম্বনে বিতর্ক করে, তা দ্বারা সত্যকে ব্যর্থ করে দেয়ার উদ্দেশে এবং তারা আমার নিদর্শনাবলীও যদ্বারা তাদেরকে ভয় প্রদর্শন করা হয়, সেগুলোকে ঠাট্টারূপে গ্রহণ করেছে।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।