আল-বাকারা · 169/286
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আল-বাকারা
إِنَّمَا يَأْمُرُكُم بِالسُّوءِ وَالْفَحْشَاءِ وَأَن تَقُولُوا عَلَى اللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ ۝١٦٩
Innamaa yaamurukum bissooo`i walfahshaaa`i wa an taqooloo alal laahi maa laa ta`lamoon
📖 বাংলা অর্থ
সে তো এ নির্দেশই তোমাদিগকে দেবে যে, তোমরা অন্যায় ও অশ্লীল কাজ করতে থাক এবং আল্লাহর প্রতি এমন সব বিষয়ে মিথ্যারোপ কর যা তোমরা জান না।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • السُّوء (সুউ): পাপ, গুনাহ, যা মানুষের জন্য ক্ষতিকর ও দুঃখজনক।
  • الْفَحْشَاء (ফাহশা): চরম জঘন্য ও নিকৃষ্ট পাপ, যেমন- ব্যভিচার, মিথ্যা, অন্যায়ভাবে সম্পদ আত্মসাৎ ইত্যাদি।
  • أَن تَقُولُوا عَلَى اللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ: আল্লাহ সম্পর্কে এমন কথা বলা যা সম্পর্কে কোনো জ্ঞান বা প্রমাণ নেই, যেমন- হালালকে হারাম বা হারামকে হালাল ঘোষণা করা।

তাফসির (ব্যাখ্যা):

এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিচ্ছেন যে, শয়তান মানুষের শত্রু এবং সে মানুষের কাছে যা কিছু পেশ করে তা সম্পূর্ণ মন্দ ও ক্ষতিকর। শয়তান মানুষকে তিনটি বিষয়ে প্ররোচিত করে:

  1. সুউ (পাপ): শয়তান মানুষকে এমন সব কাজে উৎসাহিত করে যা মানুষের জন্য দুঃখ ও অনুতাপের কারণ হয়। ছোট-বড় সব ধরনের গুনাহ, যা মানুষকে আল্লাহর রহমত থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।
  2. ফাহশা (জঘন্য পাপ): শয়তান মানুষকে চরম নিকৃষ্ট ও লজ্জাজনক পাপের দিকে ঠেলে দেয়, যেমন- ব্যভিচার, মিথ্যা সাক্ষ্য, অন্যায়ভাবে হত্যা, সুদ খাওয়া ইত্যাদি। এগুলো এমন পাপ যা সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে এবং মানুষের মর্যাদা নষ্ট করে।
  3. আল্লাহ সম্পর্কে অজ্ঞতা ও মিথ্যা বলা: শয়তানের সবচেয়ে বড় কৌশল হলো মানুষকে আল্লাহর নামে এমন কথা বলতে প্ররোচিত করা যার কোনো ভিত্তি নেই। যেমন- নিজের মনগড়া মতামতকে ধর্ম বলে চালিয়ে দেওয়া, হালালকে হারাম বা হারামকে হালাল ঘোষণা করা, আল্লাহর নামে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া ইত্যাদি। এটি সবচেয়ে মারাত্মক অপরাধ, কারণ এর মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর সাথে মিথ্যা বলার পাশাপাশি অন্যদেরও বিভ্রান্ত করে।

শিক্ষা ও উপকারিতা:

  1. শয়তানকে চিনে রাখা প্রতিটি মুমিনের কর্তব্য। তার প্রতিটি প্ররোচনা মন্দ ও ক্ষতিকর, তাই তাকে অনুসরণ করা কখনোই কল্যাণ বয়ে আনে না।
  2. আল্লাহর নামে মিথ্যা বলা বা অজ্ঞতা প্রকাশ করা সবচেয়ে বড় গুনাহ। ইসলামে জ্ঞান ও প্রমাণ ছাড়া ধর্মীয় বিষয়ে কথা বলা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। তাই আমাদের উচিত কুরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে দ্বীন শেখা এবং অজ্ঞতা থেকে দূরে থাকা।
  3. এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য হলো সত্য বলা, জ্ঞান অনুযায়ী আমল করা এবং আল্লাহর বিধানের প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখা। শয়তানের প্রতারণা থেকে বাঁচতে হলে আমাদের সর্বদা আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া উচিত এবং কুরআন-সুন্নাহ মেনে চলা উচিত।
  4. ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা। এখানে প্রতিটি বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। তাই কোনো বিষয়ে অজ্ঞ থাকলে তা না জেনে কথা বলা উচিত নয়, বরং আলেমদের কাছে জিজ্ঞাসা করা এবং সঠিক জ্ঞান অর্জন করা প্রতিটি মুমিনের দায়িত্ব।


📜 আয়াত 167-171 — সূরা আল-বাকারা

167وَقَالَ الَّذِينَ اتَّبَعُوا لَوْ أَنَّ لَنَا كَرَّةً فَنَتَبَرَّأَ مِنْهُمْ كَمَا تَبَرَّءُوا مِنَّا ۗ كَذَٰلِكَ يُرِيهِمُ اللَّهُ أَعْمَالَهُمْ حَسَرَاتٍ عَلَيْهِمْ ۖ وَمَا هُم بِخَارِجِينَ مِنَ النَّارِ
এবং অনুসারীরা বলবে, কতইনা ভাল হত, যদি আমাদিগকে পৃথিবীতে ফিরে যাবার সুযোগ দেয়া হত। তাহলে আমরাও তাদের প্রতি তেমনি অসন্তুষ্ট হয়ে যেতাম, যেমন তারা অসন্তুষ্ট হয়েছে আমাদের প্রতি। এভাবেই আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে দেখাবেন তাদের কৃতকর্ম তাদেরকে অনুতপ্ত করার জন্যে। অথচ, তারা কস্মিনকালেও আগুন থেকে বের হতে পারবে না।
168يَا أَيُّهَا النَّاسُ كُلُوا مِمَّا فِي الْأَرْضِ حَلَالًا طَيِّبًا وَلَا تَتَّبِعُوا خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ ۚ إِنَّهُ لَكُمْ عَدُوٌّ مُّبِينٌ
হে মানব মন্ডলী, পৃথিবীর হালাল ও পবিত্র বস্তু-সামগ্রী ভক্ষন কর। আর শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। সে নিঃসন্দেহে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।
169إِنَّمَا يَأْمُرُكُم بِالسُّوءِ وَالْفَحْشَاءِ وَأَن تَقُولُوا عَلَى اللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ
সে তো এ নির্দেশই তোমাদিগকে দেবে যে, তোমরা অন্যায় ও অশ্লীল কাজ করতে থাক এবং আল্লাহর প্রতি এমন সব বিষয়ে মিথ্যারোপ কর যা তোমরা জান না।
170وَإِذَا قِيلَ لَهُمُ اتَّبِعُوا مَا أَنزَلَ اللَّهُ قَالُوا بَلْ نَتَّبِعُ مَا أَلْفَيْنَا عَلَيْهِ آبَاءَنَا ۗ أَوَلَوْ كَانَ آبَاؤُهُمْ لَا يَعْقِلُونَ شَيْئًا وَلَا يَهْتَدُونَ
আর যখন তাদেরকে কেউ বলে যে, সে হুকুমেরই আনুগত্য কর যা আল্লাহ তা’আলা নাযিল করেছেন, তখন তারা বলে কখনো না, আমরা তো সে বিষয়েরই অনুসরণ করব। যাতে আমরা আমাদের বাপ-দাদাদেরকে দেখেছি। যদি ও তাদের বাপ দাদারা কিছুই জানতো না, জানতো না সরল পথও।
171وَمَثَلُ الَّذِينَ كَفَرُوا كَمَثَلِ الَّذِي يَنْعِقُ بِمَا لَا يَسْمَعُ إِلَّا دُعَاءً وَنِدَاءً ۚ صُمٌّ بُكْمٌ عُمْيٌ فَهُمْ لَا يَعْقِلُونَ
বস্তুতঃ এহেন কাফেরদের উদাহরণ এমন, যেন কেউ এমন কোন জীবকে আহবান করছে যা কোন কিছুই শোনে না, হাঁক-ডাক আর চিৎকার ছাড়া বধির মুক, এবং অন্ধ। সুতরাং তারা কিছুই বোঝে না।
আল-বাকারাকুরআন সূচী
286আয়াত
মাদানীঅবতরণস্থান
169আয়াত

অনুবাদ — আল-বাকারা 169

সূরা আল-বাকারা আয়াত 169 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : সে তো এ নির্দেশই তোমাদিগকে দেবে যে, তোমরা অন্যায় ও…

সূরা আয়াত 169/286 — সূরা আল-বাকারা البقرة (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আল-বাকারা শুনুন, সূরা আল-বাকারা অনুবাদ, সূরা আল-বাকারা mp3, সূরা আল-বাকারা pdf. আয়াত 167–171. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Monday, September 28, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না