আল-বাকারা · 62/286
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আল-বাকারা
إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَالَّذِينَ هَادُوا وَالنَّصَارَىٰ وَالصَّابِئِينَ مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَعَمِلَ صَالِحًا فَلَهُمْ أَجْرُهُمْ عِندَ رَبِّهِمْ وَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ ۝٦٢
Innal lazeena aamanoo wallazeena haadoo wan nasaaraa was Saabi`eena man aamana billaahi wal yawmil aakhiri wa `amila saalihan falahum ajruhum `inda Rabbihim wa laa khawfun `alaihim wa laa hum yahzanoon
📖 বাংলা অর্থ
নিঃসন্দেহে যারা মুসলমান হয়েছে এবং যারা ইহুদী, নাসারা ও সাবেঈন, (তাদের মধ্য থেকে) যারা ঈমান এনেছে আল্লাহর প্রতি ও কিয়ামত দিবসের প্রতি এবং সৎকাজ করেছে, তাদের জন্য রয়েছে তার সওয়াব তাদের পালনকর্তার কাছে। আর তাদের কোনই ভয়-ভীতি নেই, তারা দুঃখিতও হবে না।

🎧 শুনুন
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ ও ব্যাখ্যা:

  • الَّذِينَ هَادُوا — ইয়াহূদী সম্প্রদায়; যারা মূসা (আঃ)-এর অনুসারী ছিল।
  • النَّصَارَى — খ্রিষ্টান; যারা ঈসা (আঃ)-এর অনুসারী ছিল।
  • الصَّابِئِينَ — ‘সাবিঈন’ শব্দটি ‘সাবা’ মূল থেকে এসেছে, যার অর্থ বের হয়ে যাওয়া বা এক ধর্ম থেকে অন্য ধর্মে পরিবর্তন করা। সাবিঈনরা ছিল দুই প্রকার: (১) মুশরিক সাবিঈন এবং (২) হানীফ (একেশ্বরবাদী) সাবিঈন, যারা ইবরাহীম (আঃ)-এর ধর্মে ছিল। এখানে দ্বিতীয় প্রকারের কথা বলা হয়েছে।

তাফসীর:

আল্লাহ তাআলা এই আয়াতে ঘোষণা করছেন যে, যারা সত্যিকার অর্থে ঈমান এনেছে — অর্থাৎ এই উম্মতের মুমিনগণ, যারা সকল কিতাব ও সকল রাসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছে — এবং সেই সাথে যারা পূর্ববর্তী উম্মতদের মধ্যে ছিল, যেমন ইয়াহূদী, খ্রিষ্টান ও সাবিঈন, তাদের মধ্যে যারা নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রেরণের পূর্বে আল্লাহ ও আখিরাতের উপর সত্যিকারের ঈমান এনেছিল এবং নেক আমল করেছিল, তাদের জন্য রয়েছে তাদের রবের নিকট পুরস্কার। আখিরাতে তাদের কোনো ভয় থাকবে না এবং তারা কোনো দুঃখ-চিন্তাতেও পড়বে না।

তবে এ কথা স্পষ্টভাবে বুঝতে হবে যে, এই প্রতিশ্রুতি ছিল নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আগমনের পূর্ব পর্যন্ত। কিন্তু যখন তিনি সর্বশেষ রাসূল হিসেবে প্রেরিত হয়েছেন, তখন থেকে আল্লাহ তাআলার নিকট গ্রহণযোগ্য একমাত্র দ্বীন হলো ইসলাম। যে ব্যক্তি তাঁর পরে অন্য কোনো ধর্ম বা মতবাদকে গ্রহণ করবে, তার ঈমান ও আমল আল্লাহর দরবারে কবুল হবে না। কারণ ইসলামই হলো পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত দ্বীন, যা পূর্ববর্তী সকল সত্য ধর্মের সারসংক্ষেপ এবং মানবজাতির জন্য সর্বশেষ ও সর্বোত্তম জীবনব্যবস্থা।


দাওয়াতি বার্তা:

এই আয়াত আমাদের শিখিয়ে দেয় যে, আল্লাহ তাআলা অত্যন্ত দয়ালু ও ন্যায়পরায়ণ। তিনি প্রতিটি জাতির কাছে তাদের সময়ে সত্য দ্বীন পাঠিয়েছেন এবং যে কেউ সে অনুযায়ী ঈমান এনে নেক আমল করেছে, তার প্রতিদান আল্লাহর কাছে সংরক্ষিত। কিন্তু আজকের যুগে আল্লাহর পক্ষ থেকে চূড়ান্ত বার্তা হলো কুরআন ও সুন্নাহভিত্তিক ইসলাম। তাই আমাদের উচিত এই মহান নিয়ামতকে আঁকড়ে ধরা এবং নিজেদের জীবনকে ইসলামের আলোয় সাজানো। যে ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করে আল্লাহর উপর ভরসা রাখে এবং নেক আমল করে, তার জন্য রয়েছে চিরস্থায়ী জান্নাতের সুসংবাদ — কোনো ভয় নেই, কোনো শোক নেই। আসুন, আমরা সবাই এই সত্যকে হৃদয় দিয়ে গ্রহণ করি এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পথে নিজেদেরকে নিয়োজিত করি।



📜 আয়াত 60-64 — সূরা আল-বাকারা

60۞ وَإِذِ اسْتَسْقَىٰ مُوسَىٰ لِقَوْمِهِ فَقُلْنَا اضْرِب بِّعَصَاكَ الْحَجَرَ ۖ فَانفَجَرَتْ مِنْهُ اثْنَتَا عَشْرَةَ عَيْنًا ۖ قَدْ عَلِمَ كُلُّ أُنَاسٍ مَّشْرَبَهُمْ ۖ كُلُوا وَاشْرَبُوا مِن رِّزْقِ اللَّهِ وَلَا تَعْثَوْا فِي الْأَرْضِ مُفْسِدِينَ
আর মূসা যখন নিজ জাতির জন্য পানি চাইল, তখন আমি বললাম, স্বীয় যষ্ঠির দ্বারা আঘাত কর পাথরের উপরে। অতঃপর তা থেকে প্রবাহিত হয়ে এল বারটি প্রস্রবণ। তাদের সব গোত্রই চিনে নিল নিজ নিজ ঘাট। আল্লাহর দেয়া রিযিক খাও, পান কর আর দুনিয়ার বুকে দাংগা-হাংগামা করে বেড়িও না।
61وَإِذْ قُلْتُمْ يَا مُوسَىٰ لَن نَّصْبِرَ عَلَىٰ طَعَامٍ وَاحِدٍ فَادْعُ لَنَا رَبَّكَ يُخْرِجْ لَنَا مِمَّا تُنبِتُ الْأَرْضُ مِن بَقْلِهَا وَقِثَّائِهَا وَفُومِهَا وَعَدَسِهَا وَبَصَلِهَا ۖ قَالَ أَتَسْتَبْدِلُونَ الَّذِي هُوَ أَدْنَىٰ بِالَّذِي هُوَ خَيْرٌ ۚ اهْبِطُوا مِصْرًا فَإِنَّ لَكُم مَّا سَأَلْتُمْ ۗ وَضُرِبَتْ عَلَيْهِمُ الذِّلَّةُ وَالْمَسْكَنَةُ وَبَاءُوا بِغَضَبٍ مِّنَ اللَّهِ ۗ ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمْ كَانُوا يَكْفُرُونَ بِآيَاتِ اللَّهِ وَيَقْتُلُونَ النَّبِيِّينَ بِغَيْرِ الْحَقِّ ۗ ذَٰلِكَ بِمَا عَصَوا وَّكَانُوا يَعْتَدُونَ
আর তোমরা যখন বললে, হে মূসা, আমরা একই ধরনের খাদ্য-দ্রব্যে কখনও ধৈর্য্যধারণ করব না। কাজেই তুমি তোমার পালনকর্তার নিকট আমাদের পক্ষে প্রার্থনা কর, তিনি যেন আমাদের জন্যে এমন বস্তুসামগ্রী দান করেন যা জমিতে উৎপন্ন হয়, তরকারী, কাকড়ী, গম, মসুরি, পেঁয়াজ প্রভৃতি। মূসা (আঃ) বললেন, তোমরা কি এমন বস্তু নিতে চাও যা নিকৃষ্ট সে বস্তুর পরিবর্তে যা উত্তম? তোমরা কোন নগরীতে উপনীত হও, তাহলেই পাবে যা তোমরা কামনা করছ। আর তাদের উপর আরোপ করা হল লাঞ্ছনা ও পরমুখাপেক্ষিতা। তারা আল্লাহর রোষানলে পতিত হয়ে ঘুরতে থাকল। এমন হলো এ জন্য যে, তারা আল্লাহর বিধি বিধান মানতো না এবং নবীগনকে অন্যায়ভাবে হত্যা করত। তার কারণ, তারা ছিল নাফরমান সীমালংঘকারী।
62إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَالَّذِينَ هَادُوا وَالنَّصَارَىٰ وَالصَّابِئِينَ مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَعَمِلَ صَالِحًا فَلَهُمْ أَجْرُهُمْ عِندَ رَبِّهِمْ وَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ
নিঃসন্দেহে যারা মুসলমান হয়েছে এবং যারা ইহুদী, নাসারা ও সাবেঈন, (তাদের মধ্য থেকে) যারা ঈমান এনেছে আল্লাহর প্রতি ও কিয়ামত দিবসের প্রতি এবং সৎকাজ করেছে, তাদের জন্য রয়েছে তার সওয়াব তাদের পালনকর্তার কাছে। আর তাদের কোনই ভয়-ভীতি নেই, তারা দুঃখিতও হবে না।
63وَإِذْ أَخَذْنَا مِيثَاقَكُمْ وَرَفَعْنَا فَوْقَكُمُ الطُّورَ خُذُوا مَا آتَيْنَاكُم بِقُوَّةٍ وَاذْكُرُوا مَا فِيهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ
আর আমি যখন তোমাদের কাছ থেকে অঙ্গীকার নিয়েছিলাম এবং তুর পর্বতকে তোমাদের মাথার উপর তুলে ধরেছিলাম এই বলে যে, তোমাদিগকে যে কিতাব দেয়া হয়েছে তাকে ধর সুদৃঢ়ভাবে এবং এতে যা কিছু রয়েছে তা মনে রেখো যাতে তোমরা ভয় কর।
64ثُمَّ تَوَلَّيْتُم مِّن بَعْدِ ذَٰلِكَ ۖ فَلَوْلَا فَضْلُ اللَّهِ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَتُهُ لَكُنتُم مِّنَ الْخَاسِرِينَ
তারপরেও তোমরা তা থেকে ফিরে গেছ। কাজেই আল্লাহর অনুগ্রহ ও মেহেরবানী যদি তোমাদের উপর না থাকত, তবে অবশ্যই তোমরা ধবংস হয়ে যেতে।
আল-বাকারাকুরআন সূচী
286আয়াত
মাদানীRevelation
62আয়াত

অনুবাদ — আল-বাকারা 62

সূরা আল-বাকারা আয়াত 62 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : নিঃসন্দেহে যারা মুসলমান হয়েছে এবং যারা ইহুদী, নাসারা ও সাবেঈন,…

সূরা আয়াত 62/286 — সূরা আল-বাকারা البقرة (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আল-বাকারা শুনুন, সূরা আল-বাকারা অনুবাদ, সূরা আল-বাকারা mp3, সূরা আল-বাকারা pdf. আয়াত 60–64. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, September 8, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না